1. admin@chunarughat24.com : admin :
আমার বিলাত ভ্রমণের ত্রিশ দিন। হংসবলাকায় যাত্রা - চুনারুঘাট
বুধবার, ২০ জানুয়ারী ২০২১, ০৫:২৫ পূর্বাহ্ন

আমার বিলাত ভ্রমণের ত্রিশ দিন। হংসবলাকায় যাত্রা

মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ১১০ বার পঠিত
আমার বিলাত ভ্রমণের ত্রিশ দিন। হংসবলাকায় যাত্রা

মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।। ভারত উপমহাদেশে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের কারনে আমাদের দেশের ইতিহাস পড়তে গেলেই ইংরেজদের কথা চলে আসে। আর সে করনে ইংল্যান্ড বা সিলটি মানুষের কাছে লন্ডন অথবা বঙ্গালীর কাছে বিলাত একটি বহুল প্রচলিত নাম। শৈশব থেকেই নানান দেশের কথা শুনলেও আত্মীয় স্বজন বন্ধু বান্ধব লন্ডনে বাস করায় বিলাতে যাওয়ার একটা স্বপ্ন চেতনার গভীরে প্রথিত ছিল, তবে সেটেল হওয়ার নয়। গণতন্ত্রের সুতিকাগার, জ্ঞান-বিজ্ঞানের তীর্থ, শিল্পবিপ্লবের জতুঘর, অর্ধেক বিশ্বে ঔপনিবেশিক শাসন পরিচালনার কিংবদন্তী দেশ ইংল্যান্ড। যা আজ ছোট্ট একটি দ্বীপে পরিণত হয়েছে। বড় ভাই বিমান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম সোহেলের শ্যালক ইউকে প্রবাসী ও হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউকের সাধারণ সম্পাদক মোনতাকিম ভাইয়ের আগ্রহ ও স্পন্সরে হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউকের ষষ্ঠ মিলন মেলায় অংশগ্রহনের কারনে বিলাত ভ্রমণ অনিবার্য হয়ে ওঠে। আর বিলাত ঘুরে এলাম ত্রিশ দিন ।

২০১৯ এর এপ্রিল মাসে হবিগঞ্জ শহরে কিচেন টুয়েন্টিতে হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউকের সভায় আমাকে ও অন্যদের ষষ্ঠ মিলন মেলার নিমন্ত্রণপত্র হস্তান্তর করা হয়। জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে মোনতাকিম ভাই স্পন্সর পাঠালেন। কলেজ থেকে প্রত্যয়নপত্র ও ছুটির ব্যাপারে সহায়তা করলেন কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আতাউর রহমান ও অন্যান্য কাগজপত্র ঠিকঠাক করে ঢাকার সোহান পহেলা আগস্ট, অন লাইনে ভিসার জন্য আবেদন করলেন। সিলেট হোটেল নিভার্না ইনে হার্ডকপি ও ৫/৬ হাজার টাকা সাথে নেয়ার জন্যও বললেন।

যথারীতি ৪ আগস্ট সিলেটে ইউকে ভিসা অ্যাপ্লিকেশন সেন্টারে গেলাম। অফিসার জানালেন, ১৮ হাজার টাকা লাগবে, আপনার সাথে কত আছে? গুনতে যাবো এমনি তিনি বললেন, এখনে গুনা যাবে না। আন্দাজ করলাম ১১ হাজার টাকা সাথে আছে, তাকে জানালাম, এত টাকার আমার কাছে নেই। তিনি বললেন, ১০মিনিটের মধ্যে যদি ১৮ হাজার টাকা ম্যানেজ করতে না পারেন ওযাকিং সিস্টেমে ২২ হাজার টাকা লাগবে। আমি দ্রæত বের হয়ে ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম জার্নালকে ফোন দিয়েই রাস্তার ওপারে একটি বিকাশ এজেন্ট দোকানে গেলাম। জার্নাল টাকা পাঠাতে দেরী করবে, তাই এজেন্টকে অনুরোধ করলাম আমার মোবাইল ফোনটি রেখে আমাকে ১০ হাজার টাকা দেন, ইউকে ভিসার জন্য এখনই লাগবে। তিনি প্রথমে রাজি হলেন না, বললেন আইন নেই। আমার আকুতি দেখে তিনি মোবাইল ফোন রেখে টাকা দিলেন, দিতেই দৌড়ে সিঁড়ি ভেঙ্গে অফিসারের কাছে উপ¯ি’ত। ব্যাংকে টাকা জমা দিয়ে ৪ ঘন্টা অপেক্ষার পালা শেষ করে কাগজপত্র জমা দিলাম।

উক্ত অনুষ্ঠানে যারা যাবেন সবারই ম্যাসেজ আসছে, অনেকদিন হয়ে গেল আমার কোন খবর আসছে না। যদিও উনাদের অনেকেই ভিসা পা”েছন না। ২৭ আগস্ট ২০১৯ এর সকালে আমার কাছে ভিসা সেন্টার থেকে একটি এসএমএস এলো পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য। দুরুদুরু বক্ষে বাসে চড়ে সিলেট ও ধীর পায়ে ভিসা সেন্টারে। আমাকে ডাকলো ও একটি পলি ব্যাগে পাসপোর্ট দিল এ যেন লটারি! বুকে সাহস নিয়ে প্যাকেট খুলে পাসপোর্ট মেলে দেখলাম ইউকে ভিসা ৬ মাসের। প্রথমেই ওয়াটসআপে মোনতাকিম ভাই ও ফরহাদ আলম হিরুল (স্ত্রীর বড় ভাই) ভাইকে জানালাম। নীচে নেমে ভাইয়াকে ফোন দিলাম ও বিমানের টিকেটের ব্যব¯’ার কথা বললাম। অনেক দাম দিয়ে রিটার্ন টিকিট কিনতে হয়েছে। ফ্লাইট ৬ সেপ্টেম্বর সিলেট- ঢাকা- হিথ্রু। ভিসা ছয় মাসের থাকবো একমাস।

লংলা কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষক মন্ডলি, প্র্রৃতিবন্ধী সেবা সং¯’া, রবিরবাজার ও পদক্ষেপ গণপাঠাগার, চুনারুঘাট ফুলেল শুভে”ছা জানালো। কুলাউড়া স্টেশন থেকে বিদায় দিলেন সৈয়দ আতিকুজ্জামান। ৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯ সকালে বিদায় জানালেন আম্মা – আব্বা, জুয়েল ভাইয়া- শিউলী ভাবী, স্ত্রী ফাহমিদা আলম পপি, উপমা, ঊর্ধ্ব ও পরমা। আম্মা আমার হাতে একহাজার টাকা দিলেন, জার্নাল ঢাকা থেকে পাঁচ হাজার টাকা পাঠালো। সিলেটে অশরাফুল হক চৌধুরী শাকিল, প্রকৌশলী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনকে সাথে নিয়ে পাউন্ড এন্ডোর্স করে সিটি কর্পোরেশনে আবার এলাম কারণ পাশের বাসার শান্ত তার ভাই ইউকে প্রবাসী এমদাদুল হক বাবুর জন্য দুটো কাঁথা নিয়ে এসেছে। রাতে বড় ভাইয়ের বাসায়। রাত ৩ টায় ভাইয়াকে নিতে বিমানের গাড়ী এলো আমিও চললাম সাথে। তিনটায় রিপোর্টিং, বেল্টে লাগেজ জমা দিয়ে ইমেগ্রেশন শেষ করে লাউঞ্জে বসলাম। ভাইয়া বিমান চেক করে চলে গেলেন। ভোর ছয়টায় ছোট্র একটি বিমানে চড়ে বসলাম। এ জীবনে প্রথম উড়ো জাহাজে চড়া।

জানালার পিাশেই সিট তাই সব দেখতে লাগলাম। কেবিন ক্রু নাস্তা দিলেন, সব ঠিকঠাক, বিমান ছুটতে শুরু করলো প্রচন্ড বেগে দৌড়াতে দৌড়াতে হঠাৎ আকাশে উড়াল দিল আর নীচের পাহাড় নদী ক্ষেত ঘর বাড়ী ছোট হয়ে হয়ে আরো ক্ষুদ্র হয়ে গেল। ঢাকা পৌঁছতে মাত্র আধা ঘন্টা সময় নিল। ঢাকা বিমান বন্দর বিশাল, চক্ চক্ করছে ফ্লোর। আবারো নিরাপত্তা পরীক্ষা দিয়ে একটা রেস্টুরেন্টে পাঠালো খাওয়ার জন্য কারন বিমান সিডিউল সময়ে ছাড়ছে না। বসতে বসতে ধৈর্য হারা হতেই বোর্ডিং পাস দিল, লাউঞ্জে বসে আছি হঠাৎ পরিচিত একজন, হ্যাঁ তিনি চুনারুঘাট পুবালী ব্যাংকের ম্যানেজার ছিলেন ১৯৯১ এর দিকে আমাদের সোমা আপার হাসবেন্ড প্রতীক করিম। ১১ টায় বিমানে চড়লাম বিশাল বিমান-৭৭৭ পংখিরাজ।

আবারো জানালার পাশে। সামনের সিটে ডিসপ্লে মনিটরে যাত্রার গতিবিধি, সিনেমা, নাটক ও গান দেখা ও শুনা যায়। চারশত যাত্রী বোঝাই জাহাজ নিয়ম মাফিক কোরআন পাঠ, দেশের গান পরিবেশন শেষে নির্দেশনা মতে সিট বেল্ট বাঁধলাম। আস্তে আস্তে জাহাজ চলতে শুরু করল এর পর প্রচন্ড বেগে ছুটতে ছুটতে আকাশে উড়ে উঠে গেল এখন শুধু ভাসছে মেঘের উপরে। আবার ঝাঁকুনিও দি”েছ জলের জাহাজের মতো। আসলে মেঘ চিরে যাওয়ায় এমন হ”েছ। জানালার বাইরে তাকাতেই রোদের বন্যা, সূর্য যেন খুব কাছেই। বিমানের ডানায় রোদ চিক্ চিক্ করছে আর মঝে মাঝে কাঁপছে আামিও ভয়ে কেঁপে কেঁপে ওঠছি। যদি এক্সিডেন্ট হয় বাঁচার উপায় নাই। আবার ভাবছি বাংলাদেশ বিমান বড় ধরনের কোনো দূর্ঘটনায় পতিত হয়নি এবার হলে আমার জন্যই হবে। বার বার ভাবছি আর আফসোস করছি কেন এলাম? কেন উঠতে গেলাম বিমানে?

 

Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!
%d bloggers like this: