1. admin@chunarughat24.com : admin :
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান: বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক উদ্যান
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৩:৩৪ পূর্বাহ্ন

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান: বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক উদ্যান

রিমন মুক্তাদির
  • সময় : শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৬০২ বার পঠিত
সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক উদ্যান
ছবি। সংগ্রহ

রিমন মুক্তাদির।। ভারতীয় উপমহাদেশ এবং ইন্দো-চীন অঞ্চলের সংযোগস্থলে অবস্থিত সাতছড়ি একটি ক্রান্তীয় ও মিশ্র চিরহরিৎ পাহাড়ী বনভূমি। হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার রঘুন্দন পাহাড়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানটি অবস্থিত। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক উদ্যান। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যবহারিক ও মাঠকর্মের অংশ হিসাবে সারা বছরই এখানে ভিড় জমান। ঈদ- পার্বণে ও পারিবারিক ভ্রমণে পছন্দের তালিকায় থাকে এই জাতীয় উদ্যান।

১৯৭৪ সালে বন্যপ্রাণী সংরক্ষন (সংশোধন) আইনের বলে ২৪৩ হেক্টর এলাকা নিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান প্রতিষ্ঠান করা হয়। এই উদ্যানে সাতটি পাহাড়ি ছড়া আছে, সেই থেকে এর নামকরণ সাতছড়ি। সাতছড়ির আগের নাম ছিল রঘুনন্দন হিল রিজার্ভ ফরেস্ট।

করোনার প্রকোপ কমলে মনে শান্তির পরশ পেতে ঘুরে আসতে পারেন এই গন্তব্য থেকে। জাতীয় উদ্যানটি কয়েকটি চা বাগান, গ্রাম শহর এবং চাষাবাদকৃত জমি দ্বারা নিবিড়ভাবে বেষ্টিত। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের কাছাকাছি নয়টি চা বাগান অবস্থিত। টিপরাপাড়া নামে একটি গ্রাম উদ্যানটির ভেতরে অবস্থিত। যেখানে ২৪ টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বসবাস করে। আশেপাশের ১৪টি গ্রামের মানুষ, বিশেষ করে চা বাগানের শ্রমিক ও বনের মধ্যে বসবাসকারী বিভিন্নভাবে বনজসম্পদের ওপর নির্ভরশীল।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে রয়েছে ১৪৫ প্রজাতির গাছপালা ছাড়াও ১৯৭ প্রজাতির জীব। যার মধ্যে ১৪৯ প্রজাতির পাখি, ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী, ১৮ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ছয় প্রজাতির উভচর প্রাণী। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের উল্লকগুলোর এক গাছ থেকে অন্য গাছে লাফালাফি এবং পোকামাকড়ের বিচিত্র ধরনের ঝিঁঝিঁ শব্দ পর্যটকদের দারুন আনন্দ দেয়।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান বাংলাদেশের একটি প্রাকৃতিক উদ্যান

ছবি। সংগ্রহ

এ বনের ২৪ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে উল্লুক, মেছোবাঘ, শূকর, সাপ, মুখপোড়া হনুমান, চশমা হনুমান, লজ্জাবতী বানর প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। ১৪৯ প্রজাতির পাখির মধ্যে ধনেশ, লাল মাথা ট্রগন, এবং বিরল উদ্ভিদের মধ্যে বিষলতা, পিতরাজ, কানাইডিঙ্গা, আগর ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

দুঃখজনক হলেও, এখানকার ২০ প্রজাতির বন্যপ্রাণী বিলুপ্ত হতে চলেছে। বিলুপ্ত প্রায় এসব প্রজাতির মধ্যে রয়েছে চিতা বাঘ, মেছোবাঘ, লজ্জাবতী বানর, মায়া হরিণ, উল্লুক, ময়না পাখি, ঘুঘু পাখি, টিয়া পাখি, ঈগল পাখিসহ উল্লেখযোগ্য বন্যপ্রাণী।

উল্লেখ্য যে, শকুনের নিরাপদ এলাকা-১ তফসিল অনুসারে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান শকুনের জন্য নিরাপদ বলে ঘোষিত।

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান একটি ট্রপিকেল রেইন ফরেস্ট বা মিশ্র চির সুবুজ এবং পাতাঝরা বন। ইকো ট্যুর গাইডের সাহায্য নিয়ে জীব বৈচিত্র্যে ভরপুর সাতছড়ি উদ্যানে হাইকিং করলে অপূর্ব বনশ্রী হৃদয়ে দাগ কাটবে নিঃসন্দেহে। যা নিজের চোখে এবং বাস্তবে উপভোগ না করলে বোঝা সম্ভব নয়। হাজারো পর্যটক প্রাকৃতিক দৃশ্য পরিভ্রমণে আসেন।

সাতছড়ি অভয়ারন্য পর্যটকদের জন্য নিসর্গ কর্মসূচির আওতায় আনতে তিনটি ট্রেইল তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।

আধা ঘন্টা ট্রেইলঃ এক কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই ট্রেইল বনের মধ্যে অবস্থিত গ্রাম টিপরাপড়ায় যাওয়া যায়।
এক ঘন্টার ট্রেইলঃ বৈচিত্রময় বনের বিভিন্ন প্রজাতির প্রাণী, উদ্ভিদ দেখতে চাইলে এই ট্রেইল ধরে এগিয়ে যাওয়া উচিত।
তিন ঘন্টার ট্রেইলঃ ছয় কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই ট্রেইল ধরে এগোলে পেয়ে যাবেন আগরের বন। পাখিপ্রেমীদের জন্য এই ট্রেইল আদর্শ।

প্রকল্পের অধীনে বিভিন্ন শৌখিন দ্রব্যাদির বিক্রয় হয়ে থাকে। সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে এনজিও প্রকল্পের সহায়তায় শিক্ষার্থীদের জন্য “স্টুডেন্ট ডরমিটরি” আছে। যেখানে মাত্র ১২৫ টাকায় রাতে থাকার ব্যবস্থা আছে।

যেভাবে যাবেনঃ ঢাকা থেকে যাওয়ার সবচেয়ে সহজ মাধ্যম হলো সিলেটগামী যেকোনো বাসে মাধবপুর মুক্তিযোদ্ধা চত্বরে নেমে সেখান থেকে বাস কিংবা সিএনজিচালিত ট্যাক্সি, অথবা ম্যাক্সিতে সাতছড়ি। এছাড়াও, শায়েস্তাগঞ্জ নেমেও খুব সহজে সাতছড়ি পৌছা যায়।


Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!