1. admin@chunarughat24.com : admin :
শুক্রবার, ২২ জানুয়ারী ২০২১, ০১:৫২ পূর্বাহ্ন

আমার বিলাত ভ্রমণের ত্রিশ দিন। হিথ্রুতে অবতরণ

মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম
  • সময় : রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০
  • ৩২১ বার পঠিত
আমার বিলাত ভ্রমণের ত্রিশ দিন। হিথ্রুতে অবতরণ

মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।। তাপমাত্রা মাইনাস ৫০। বাতাসের গতিবেগ ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার। ভূপৃষ্ঠ থেকে ৩০ হাজার ফুট উপর দিয়ে ঘন্টায় ৯৫০ কিলোমিটার গতিতে ছুটে চলছে দৈত্যাকৃতির উড়োজাহাজটি। তবে মনে হচ্ছে বিমান একজায়গায় এঞ্জিন চালু করে দাঁড়িয়ে আছে। ছুটে চলার কোনো ছন্দ নাই কোন গতি নাই। বাইরে নীচের দিকে মেঘ আর মেঘ, সূর্য আকাশ রোদ কিছুই দেখা যাচেছনা। আবার মেঘহীন আকাশ নীচে নদী বয়ে যায় কখনো সাগর কখনো মরুভূমি। যেখানে মেঘ নেই সেখানে ধুধু মরুভূমি অথবা সাগর। যেখানে মেঘ আছে সেখানেই বৃক্ষ বন জঙ্গল।

কত দেশ নদী সাগর পেরিয়ে ৮০৪০কিলোমিটার দূরত্বের যাত্রা। বিমানের বিখ্যাত খাবার পরিবেশন হচ্ছে বাঙ্গালীপনায়। ইউরোপের সবুজ দেখতে দেখতে অস্বস্থিকর ও নিরানন্দের ১২ ঘন্টার ভ্রমণ শেষে অবশেষে হিথ্রু বন্দরের আকাশে, বিমান উড়ে উড়ে ঘুরছে কারণ স্পেস পাচ্ছে না। শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪ টায় বিমান নামলো হিথ্রু বিমান বন্দরে। এবং সঠিক সময়েই পৌঁছলো।

বাঙ্গালীর লাইনে দাঁড়ানোর অভ্যাস একদমই নেই। তবে আমার লাইনে দাঁড়ানোর অভ্যেস আছে কিন্তু কোনোদিনও সুযোগ হাতছাড়া করিনি। সুযোগটাও কখনো কখনো বিপদের কারন হতে পারে। জাহাজ থেকে নেমে লম্বা লাইনে দাঁড়ালাম ইমেগ্রেশনের জন্য, কয়েক মূর্হুত পরেই অন্য কাউন্টার থেকে একজন পুলিশ আমাকে সহ অন্যদের ডাকলেন তিনজনের মধ্যে আমিও একজন। খুব দ্রুত অনকে প্রশ্ন করে ছেড়ে দিলেন, আমিতো মহাখুশি।

কিন্তু একি মহা বিপদ, বাহির হবার রাস্তায় তো গেলাম, কিন্তু আমার লাগেজ কই? আমি একা ভীষন একা। আর আফসোস করছি কেন যে বাঙ্গালীদের সাথে থাকলাম না। পথে একজন পুলিশকে প্রশ্ন করলাম আমার লাগেজ? তিনি রাস্তা দেখিয়ে দিলেন। মাত্র গুটিকয় মানুষ বেল্টের কাছে, একটু অপেক্ষা করতেই লাগেজ এলো।

আমার বিলাত ভ্রমণের ত্রিশ দিন। হিথ্রুতে অবতরণ

হিথ্রুতে লেখককে বরণ।

বের হলাম তো ঠিকই কিন্তু মোন্তাকিম ভাইদের ক্যামনে পাই? আশেপাশে বাাঙ্গালী কেউ নেই, দুরে একটি বাঙ্গালী পরিবার পেয়ে তাদের অনুরোধ করলাম, মোনতাকিম ভাইকে ফোন করার জন্য কারন আমার কাছে বাংলদেশের সিম। তাদের দয়ায় মোনতাকিম ভাইয়ের সাথে কথা বললাম, তিনি বললেন, বাইরে প্রতীক ভাই দাঁড়িয়ে আছেন উনার কাছে যাও।

বের হতে হতে একদম বের হয়ে গেলাম কাউকে পাচ্ছি না। এখন যেদিকেই তাকাই দেখি জাপানিজ, চাইনিজ ও ভীন দেশী, ভীন ভাষী, ওদের কাছে কিছু বলারও সাহস পাচ্ছি না। কোনদিকেই বাঙ্গালী নেই।

অসহায়ের মতো এদিক ওদিক ছুটাছিুটি করছি। হঠাৎ আরেকটি বাঙ্গালী পরিবার পেয়ে হৃদয়ে সুবাতাস বয়ে গেল। ওদের প্রকৃত ঘটনা বলার পর আবার মোনতাকিম ভাইকে ফোন দিলে তিনি বললেন, তুমি একদম বাইরে বের হলে কেন? এখন কোথায়? আামি বলালাম, কার রেন্টের এখানে।

কয়েক মূহূর্তের মধ্যেই মোনতাকিম ভাই এসে আমাকে জড়িয়ে ধরলেন এবং গাড়ীতে করে নিয়ে গেলেন ফাইভস্টার হোটেল হিলটাউনে, গাড়ী ড্রাইভ করেছেন মারুফ ভাই। গিয়ে দেখি বাংলাদেশের দ্য প্যালেসের চেয়রম্যান কামাল হোসেন ও প্রতীক ভাই।

আমার বিলাত ভ্রমণের ত্রিশ দিন। হিথ্রুতে অবতরণ

ছবি। হিথ্রুতে মাননীয় বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মাহবুব আলীকে বরণ।

বিমান ও পর্যটন প্রতি মন্ত্রী মাহবুব আলী, হবিগঞ্জ মিলন মেলর প্রধান অতিথি। একই বিমানে আসার কথা কিন্তু আসন সংকটের কারনে তিনি এমিরাটসে আসবেন তাই তারা এখানে অপেক্ষা করছেন।

শীত করছে, নতুন পরিবেশ মৃদু বাতাস বইছে ইংরেজরা আড্ডা দিচ্ছেন, বিশেষ করে বয়স্করা। ভাল মন্দ মিলিয়ে এক অন্যরকম অনুভুতি।

সন্ধ্যা ছয়টায় আবার হিথ্রুতে। আকাশে অনেক বড় চাঁদ ওঠেছে, ইংল্যান্ডের আকাশ অনেক কাছে লাগছে, সত্যিই আমার কাছে আকাশটি নিকটেই লেগেছিল সর্বক্ষন।

মন্ত্রী মহোদয়ের অপেক্ষায় হবিগঞ্জ সোসাইটি ইউকের নেতৃবৃন্দ, হঠাৎ দেখি ঐপাড়ে মুমিন আলী ভাই, সেলিম রেজা মামা, খোকন ও শাকিল তাদের হাতে ফুল, আমাকে ডাকলেন আমি ওদের কাছে যেতেই চুনারুঘাট ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশনের ইউকের পক্ষ থেকে আহবায়ক সৈয়দ ফরহাদ হাসান ও নেতৃবৃন্দ আমাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নিলেন। উনাদের সাথে নিয়ে হবিগঞ্জ সোসাইটির নেতৃবৃন্দের কাছে আসলাম।

সাতটায় মন্ত্রী মহোদয় এলেন তাকে হবিগঞ্জ সোসাইটি ও চুনারুঘাট ডেভেলপমেন্ট এসোসিয়েশন ইউকের সংগঠকরা তার হাতে পুষ্প অর্পন করে বরণ করে নিল। গাজীউর রহমান ও জালাল আহমেদের সাথেও দেখা হল। তারপর ছুটলাম বার্মিংহামের দিকে আমাদের গাড়ী চালাচ্ছেন মারুফ ভাই, সাথে বিমান ও পর্যটন মন্ত্রনালয়ের একজন যুগ্ম সচিব।

রাতের অন্ধকারে বিশাল চাঁদ আর ফর্সা আকাশ পাইন গাছ আর ওক গাছ পেরিয়ে আাঁকাবাাঁকা রাস্তা ধরে ছুটছে গাড়ী। রাত ১২ টায় বার্মিংহামে পৌঁছলাম বাংলাদেশের একটি হোটেলে ডিনার হলো। মন্ত্রী ও তাঁর সফর সঙ্গীদের একটি আবাসিক হোটেলে রেখে রাতের শহরের বুক চিরে মোনতাকিম ভাইয়ের সাথে তার বাসায়।

ক্লান্তিতে অবসাদে ঠান্ডায় ঘুমে জাগরণে সকাল হলো। সকালে লুবনা ভাবী নানান নাস্তার আয়োজন করলেন বিশাল ডাইনিং টেবিলে। আবার ছুটলাম, একটা বাড়ীর সামনে গাড়ী রাখতেই হঠাৎ দেখি আমাদের মাসুদ ভাই, তিনি লস্করপুর চা বাগানে আমাদের বন্ধু মাহফুজের ভাই, তিনিও এই চা বাগানে দীর্ঘদিন চাকুরী করেছেন। দেখে জড়িয়ে ধরলেন।

মাসুদ ভাইর বাসা থেকে ম্যাগাজিনের প্যাকেট গাড়ীতে উঠানো হলো। সোসাইটির সভাপতি রানা মিয়া চৌধুরীর রয়েল সিটি হলে গেলাম, এখানে কাল আট সেপ্টেম্বর মিলন মেলা হবে। এরপর মৌলভীবাাজারের কমরেড মাসুদ ভাইয়ের বোনের বাসায় দুপুরের খাবার খেতে গেলাম। সেখানে অনেক নেতৃবৃন্দ এলেন। মাহবুব আলী ও তার সফরসঙ্গীরাও ছিলেন।এরপর আমার বড়ভাবী খালেদা চৌধুরীর খালাতো বোন হ্যাপির বাসাায় সবাই গেলাম।দীর্ঘ ২২ বছর পর হ্যাপীকে দেখে চিনতে পরিনি। তার স্বামী অত্যন্ত ভদ্র ও মিশুক মনে হলো।

অনিন্দ্য সুন্দর গার্ডেন দেখে ড্রয়িংরুম থেকে মন্ত্রী মহোদয় সহ সবাইকে ডাকলাম বাইরে বসার জন্য, নরম রোদ একটুকরো শান্তি দিচ্ছে, আমরা যারা এ দেশ থেকে এসেছি তাদের। বাইরে বসেই বিকেলের নাস্তা সেরে আবার মোনতাকিম ভাইর ঘরে ফিরে এলাম। একটু বিশ্রাম নিয়ে ডিনারের জন্য আরেকটি হোটেলে গেলাম এবং ডিনার শেষে ঘরে ফিরে দুজন মিলে গল্প করতে করতে ঘুমিয়ে গেলাম।

কাল কাংখিত হবিগঞ্জ ষষ্ঠ মিলন মেলা। কাল দেখা হবে হবিগঞ্জ জেলার ও চুনারুঘাট উপজেলার পরিচিত ও অপরিচিতদের, বিশ্বে সবচেয়ে বড় কমিউনিটি মিলন মেলায়। (চলবে)

লেখক। সহকারী অধ্যাপক

ইতিহাস বিভাগ, লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ।


Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!