1. admin@chunarughat24.com : admin :
মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১০:৪১ অপরাহ্ন

তিন হাজার বছর পূর্বের পাসপোর্ট এবং মমির সামরিক মর্যাদা

রেদওয়ানুল ইশমাম
  • সময় : বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২০
  • ৩৩৭ বার পঠিত
তিন হাজার বছর পূর্বের পাসপোর্ট এবং মমির সামরিক মর্যাদা

রেদওয়ানুল ইশমাম।। যদি বলি তিন হাজার বছর আগের একটা মানুষের পাসপোর্ট আছে? সে তার মৃত্যুর তিন হাজার বছর পরও অন্য কোন দেশের পূর্ণ সামরিক অভিবাদন পেয়েছে? নিশ্চই চোখ কপালে উঠার মতো কথা! ইতিহাসে বিরল এই ঘটনাটি অবিশ্বাস্য হলেও সত্য। মিশরীয় শাসক দ্বিতীয় রামেসিসের বা ফেরাউনের পাসপোর্ট আছে ও সে ফ্রান্সের পূর্ণ সামরিক অভিবাদন পেয়েছে।

আপনি অবশ্যই জেনে থাকবেন প্রাচীন মিশরীয় শাসকদের বলা হতো ফেরাউন বা ফারাও এবং তাদের মৃত্যুর পর তাদের দেহ মমি করে সংরক্ষণ করা হতো। তাদের বিশ্বাস ছিল রাজাদের দেহ যতদিন সংরক্ষণ করা যাবে ততদিন তারা স্বর্গবাসী হবে। তাদের সংরক্ষিত মমির সাথে প্রচুর পরিমাণ ধন সম্পদও দিয়ে দেয়া হতো। তাদের বিশ্বাস ধন সম্পদ সাথে না থাকলে রাজারা মৃত্যুর পর পুনরায় রাজা হতে পারবে না।

ফেরাউন যাকে আমরা জঘন্য হিসেবে জানি, তার আসল নাম হলো দ্বিতীয় রামেসিস। এবং সে তার প্রজাদের কাছে চরম ক্ষমতাধর হিসেবে পরিচিত ছিল! তার পিতা সেতি দ্যা ফার্ট বা প্রথম রামেসিস তাকে মাত্র দশ বছর বয়সে সেনাপ্রধানের দায়িত্ব দেয় এবং চৌদ্দ বছর বয়সে রাজপুত্র হিসেবে রাজ্য শাসন করা শুরু করে। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সে সে রাজার সিংহাসনে অধিষ্ঠিত হয়।

তার দীর্ঘ সাতষট্টি বছরের শাসনকালে মিশর সামরিক ও সার্বিকভাবে উন্নতি লাভ করে, তাই তাকে তার উত্তরসূরীরা রামেসিস দ্যা গ্রেট বলেও চিনে। দ্বিতীয় রামেসিস বিরানব্বই বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করে। প্রথানুযায়ী তার মৃত্যুর পর তার মমি করে তার সাথে প্রচুর ধন সম্পদ সহ তাকে ভ্যালি অব দ্যা কিংস এর গভীর কুঠুরিতে সমাহিত করা হয়।

মমির সাথে থাকা ধন সম্পদ চুরি হয়ে যাও্য়ার ভয়ে এক পুরোহিত তার মমি সরিয়ে নিয়ে রয়েল ক্যাশের গভীর কুঠুরিতে লুকিয়ে রাখে। ১৮৮১ সালে সর্বপ্রথম এক রাখাল তার এই মমি খুঁজে পায় ও পরে এই মমি কায়রো জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়।

এর প্রায় একশ বছর পর ১৯৭৫ এর দিকে জাদুঘরের আর্দ্রতার জন্য মমিটায় ফাঙ্গাসের আক্রমণে পচন শুরু হয়। তখন ফ্রান্সই পৃথিবীর একমাত্র দেশ যেখানে মমি পুনরুদ্ধারের প্রযুক্তি ছিল। তাই দ্বিতীয় রামেসিসের মমিটাকে ফ্রান্সে নিয়ে যাওয়ার দরকার পড়ে। কিন্তু ফরাসি আইনে তাদের দেশে জীবিত বা মৃত যে কোন মানুষ প্রবেশ করতে হলে তার কাছে ভেলিড পাসপোর্ট থাকা আবশ্যক। যেহেতু মমিটাকে পুনরুদ্ধার করতেই হবে তাই মিশর সরকার প্রায় তিন হাজার বছর পর রামেসিসের নামে একটা পাসপোর্ট ইস্যু করে।

পাসপোর্টে তার জন্ম খ্রিস্টপূর্ব ১৩০৩ সাল এবং পেশা হিসেবে রাজা (মৃত) দেয়া হয়। ১৯৭৬ সালে প্যারিসের ল্যে বর্জেই বিমানবন্দরে ফেরাউনের মমি বহনকারী বিমান যখন অবতরন করে তখন অন্য যেকোন রাজার মতো তার মমিকে পূর্ণ সামরিক অভিবাদন জানানো হয়। তাই দ্বিতীয় রামেসিসই একমাত্র রাজা যার পাসপোর্ট আছে ও মৃত্যুর তিন হাজার বছর পরও অন্য কোন দেশের সামরিক অভিবাদন পেয়েছে।

লেখক। শিক্ষার্থী

ইংরেজি বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!