1. admin@chunarughat24.com : admin :
শনিবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১, ১২:৩২ পূর্বাহ্ন

চলে গেলেন কিংবদন্তী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

শুহিনুর খাদেম
  • সময় : রবিবার, ১৫ নভেম্বর, ২০২০
  • ১৬৩ বার পঠিত
চলে গেলেন কিংবদন্তী সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়

শুহিনুর খাদেম।। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় আর নেই৷ তাঁর মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে শেষ হলো এক মহাযুগের। শুধু সিনেমাই নয়, সাহিত্য, রাজনীতি, কবিতা সব ক্ষেত্রেই ছিল তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি৷ তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বৎসর।

১৯৩৫ সালের জানুয়ারি মাসের ১৯ তারিখ সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের জন্ম৷ চট্টোপাধ্যায় পরিবারের আদি বাড়ি ছিল অধুনা বাংলাদেশের কয়া গ্রামে। তবে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের ঠাকুরদার সময় থেকেই চট্টোপাধ্যায় পরিবার নদিয়া জেলার কৃষ্ণনগরে থাকতে শুরু করেন। বাবার বদলির চাকরি কারণে ক্লাস ফাইভের পর হাওড়ায় চলে আসেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সেখানেই স্কুলে পড়াশুনো। তারপর কলকাতার সিটি কলেজে বাংলা নিয়ে পড়েন তিনি।

ছিপছিপে চেহারা, উজ্জ্বল চোখ ও মন খোলা হাসি ৷ সৌমিত্র মানেই দীর্ঘাঙ্গি সু-পুরুষ নায়ক ৷ উত্তমের পর সে সময় মেয়েদের মনে ঝড় তুলতে সক্ষম হয়েছিলেন সৌমিত্রই ৷ বাংলা-ঘটির লড়াইয়ে সব সময়ই উত্তম-সৌমিত্র কেন্দ্র বিন্দু৷ ফ্যানেরাও দু’ভাগ ৷ একদিকে যখন উত্তমের নামে বক্স অফিসে দৌঁড়চ্ছে, অন্যদিকে সৌমিত্রও তাঁর স্টাইলে কামাল দেখিয়েছেন ৷

প্রথম থেকেই কবিতা, আবৃত্তি, সাহিত্য, বাম রাজনীতির দিকে ঝোঁক ছিল প্রচুর। তাই সৌমিত্র মানেই যে শুধুই সিনেমার পর্দায় ডাকসাইটে অভিনেতা তা কিন্তু একেবারেই নয়। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় নিজেকে মেলে ধরেছিলেন সংস্কৃতির নানা দিকে।

তপন সিনহার ‘ঝিন্দের বন্দি’ ছবিতে উত্তম-সৌমিত্রের অভিনয়ের লড়াই তাক লাগিয়েছিল সবাইকে৷ পর্দায় যেন অভিনয়ের যুদ্ধ। তবে শুধুই ‘ঝিন্দের বন্দি’ নয়, ‘দেবদাস’, ‘স্ত্রী’, ‘যদি জানতাম’– ছবিতেও উত্তম-সৌমিত্রকে একই সঙ্গে অভিনয় করতে দেখেছে সিনেমাপ্রেমী মানুষ। সত্যজিৎ রায়ের ছবিতে অভিনয়ই তাঁকে গোটা বিশ্বে জনপ্রিয় করেছিল সবচেয়ে বেশি।

কখনও রোমান্টিক নায়ক। কখনও লড়াই করা মধ্যবিত্ত যুবকের চরিত্রে সৌমিত্র বাঙালির ঘরে জায়গা করে নিয়েছেন। বাণিজ্যিক ছবি থেকে অন্য ধারার ছবিতেও সমানভাবে ছাপ ফেলেছিলেন সৌমিত্র।

১৯৫৯ সালে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায় প্রথম সত্যজিৎ রায়ের পরিচালনায় অপুর সংসার ছবিতে অভিনয় করেন। পরবর্তীকালে তিনি মৃণাল সেন, তপন সিংহ, অজয় করের মত পরিচালকদের সঙ্গেও কাজ করেছেন। সিনেমা ছাড়াও তিনি বহু নাটক, যাত্রা, এবং টিভি ধারাবাহিকে অভিনয় করেছেন।

গল্পের বই থেকে সোজা যেন সিনেমার পর্দায় এসে দাঁড়ান সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়। সত্যজিতের তৈরি ‘ফেলুদা’ চরিত্র যেন তাঁকে ভেবেই লিখেছিলেন। সত্যজিতের আঁকা ফেলুদার ইলাস্ট্রেশনও অবিকল যেন সৌমিত্রের মতোই। তাই তো বাঙালি সৌমিত্র ছাড়া ফেলুদা হিসেবে কাউকেই মানিয়ে নিতে পারেন না।

সিনেমাটা বড্ড ভালোবাসতেন তিনি। তাই হয়তো করোনা কালেও শ্যুটিং ফ্লোরে যাওয়ার জন্য ছটফট করতেন। এই বয়সেও ভালো ছবিতে অভিনয় করার জন্য খিদে ছিল ষোলো আনা। তাই তো এই বয়সেও একের পর এক বক্স অফিসে সুপারহিট সব ছবি- ‘বেলাশেষে’, ‘ময়ূরাক্ষী’, ‘বসু পরিবার’, ‘সাঁঝবাতি’ তার প্রমাণ।

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের প্রয়াণে স্বাভাবিকভাবেই বাংলা সিনেমার এই অধ্যায়ের শেষ। বাংলা সিনেমার অপূরণীয় ক্ষতি।

তাঁর প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!