1. admin@chunarughat24.com : admin :
মঙ্গলবার, ০২ মার্চ ২০২১, ১০:৩৪ অপরাহ্ন

চুনারুঘাটে প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের প্রয়াণ দিবস পালিত

আশরাফুল ইসলাম
  • সময় : রবিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩১২ বার পঠিত
চুনারুঘাটে প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী হেমাঙ্গ বিশ্বাসের প্রয়াণ দিবস পালিত

আশরাফুল ইসলাম।। আজ উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী ও চুনারুঘাটের কৃতি সন্তান হেমাঙ্গ বিশ্বাসের প্রয়াণ দিবস। ১৯৮৭ সালের ২২ নভেম্বরে তিনি পরলোক গমন করেন। তাঁর মহাপ্রয়াণ দিবস উপলক্ষ্যে পদক্ষেপ গণপাঠাগারে এক স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। আজ রবিবার (২২ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬ ঘটিকায় উপজেলা পরিষদ কমপ্লেক্সের পাঠাগার ভবনে স্মরণ সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

পদক্ষেপ গণপাঠাগারের সহ সভাপতি হুমায়ূন কবির চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং আশিকুর রহমান সামির সঞ্চালনায় উক্ত স্মরণ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা বারীন্দ্র চন্দ্র রায়। বক্তব্য রাখেন পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম জুয়েল, প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য আল আমিন চকদার রিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিরাজুর রহমান তালুকদার সেলিম, কাউসার খসরু, আশরাফুল হক রুবেল ও মোহাম্মদ নুরুদ্দিন।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য জাহেদুল হক রিপন, সাবেক গ্রন্থাগারিক সাইফুল রুবেল তালুকদারসহ আরো অনেকে।

বক্তারা তাঁর সংগ্রামী জীবন, কর্ম ও সমকালীনতার উপর আলোকপাত করে আলোচনা করেন।

হেমাঙ্গ বিশ্বাস ১৯১২ সালের ১৪ ডিসেম্বরে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার মিরাশি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হবিগঞ্জ হাইস্কুল থেকে পাশ করার পর তিনি তৎকালীন শ্রীহট্ট মুরারিচাঁদ কলেজে ভর্তি হন। সেখানে তিনি স্বাধীনতা আন্দোলনে জড়িয়ে পড়েন ।

তিনি ১৯৩২ খ্রিষ্টাব্দে কমিউনিস্ট পার্টির সংস্পর্শে আসেন। ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দে কারাবন্দী থাকাকালে তিনি যক্ষারোগে আক্রান্ত হন। তারপর যাদবপুর হাসপাতালে কিছুকাল চিকিৎসাধীন থাকেন এবং সেই কারণে তিনি মুক্তি পান।

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে তেলেঙ্গানা আন্দোলনের সময়ে তিনি গ্রেফতার হন এবং তিন বছর বন্দী থাকেন। ১৯৫৩ সালের এপ্রিল মাসে বোম্বাই তে অনুষ্ঠিত আই পি টি এর সপ্তম সর্বভারতীয় সন্মেলনে হেমাঙ্গ বিশ্বাসের নেতৃত্বে অসমের ৪০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন।

১৯৩৮-৩৯ খ্রিষ্টাব্দে বিনয় রায়, নিরঞ্জন সেন, দেবব্রত বিশ্বাস প্রমুখের সাথে ভারতীয় গণনাট্য সংঘ বা আই.পি.টি.এ গঠন করেন। পঞ্চাশের দশকে এই সংঘের শেষ অবধি তিনি এর সাথে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন।

১৯৪২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলার প্রগতিশীল লেখক শিল্পীদের আমন্ত্রনে তিনি প্রথম কলকাতায় আসেন সঙ্গীত পরিবেশন করতে।

১৯৪৩ খ্রিষ্টাব্দে তার উদ্যোগে এবং জ্যোতিপ্রকাশ আগরওয়ালের সহযোগিতায় সিলেট গণনাট্য সংঘ তৈরি হয়। স্বাধীনতার আগে ভারতীয় গণনাট্য সংঘের গানের সুরকারদের মধ্যে তিনিই ছিলেন প্রধান।

সেই সময়ে তাঁর গান ‘তোমার কাস্তেটারে দিও জোরে শান’, ‘কিষাণ ভাই তোর সোনার ধানে বর্গী নামে’ প্রভৃতি আসাম ও বাংলায় সাড়া ফেলেছিল। আসামে তার সহযোগী ছিলেন নগেন কাকতি, বিনোদবিহারী চক্রবর্তী, সাহিত্যিক অশোকবিজয় রাহা, সেতারবাদক কুমুদ গোস্বামী প্রভৃতি।

১৯৫৬ সালে চিনে যান চিকিৎসার জন্য। আড়াই বছর থাকেন এবং খুব কাছ থেকে দেখেন চীনের সাংস্কৃতিক আন্দোলন।

১৯৬১ সালে স্থায়ীভাবে চলে আসেন কলকাতা এবং সেই সময়েই চাকরি নেন সোভিয়েত কনস্যুলেটের সোভিয়েত দেশ পত্রিকার সম্পাদকীয় দপ্তরে। কাজ করার সময় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মতপার্থক্য হলে তিনি কাজ ত্যাগ করেন। চীন – ভারত মৈত্রীর ক্ষেত্রে তার ভূমিকা ছিল। দুবার তিনি চীনে গিয়েছিলেন। চীনা ভাষায় তার অনেক গানও আছে।

জ্যোতি প্রসাদ, মঘাই ওজা সাথে বিষ্ণু প্রসাদ রাভা, ফনী শর্মা, লক্ষীনাথ বেজবরুয়া, ভূপেন হাজরিকা আদি অসমের জাতীয় সংস্কৃতির সন্মানীয় ব্যক্তিদের হেমাঙ্গ বিশ্বাস মূল্যায়ন করে গেছেন এবং বঙ্গের সমাজের সঙ্গে পরিচয় করে দিয়েছেন।

১৯৭১ সালে মাস সিঙ্গার্স নামে নিজের দল গঠন করে জীবনের শেষ দিকেও তিনি গ্রামে গ্রামে গান গেয়ে বেরিয়েছেন । তিনি কল্লোল, তীর, লাললণ্ঠন প্রভৃতি নাটকের সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন।

লাললন্ঠন নাটকে তিনি বিভিন্ন চীনা সুর ব্যবহার করেছিলেন। রাশিয়ান গানও অনুবাদ করেন। আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগীত ‘ইন্টারন্যাশনাল’ ও রাশিয়ান সুরে তার গাওয়া ‘ভেদী অনশন মৃত্যু তুষার তুফান’ গানটি ‘In the call of Comrade Lenin’ এর ভাবানুবাদ। এটি কমিউনিস্ট কর্মীদের কাছে অতীব জনপ্রিয় হয়।

তাঁর রচনার মধ্যে উল্লেখযোগ্য : শঙ্খচিলের গান, জন হেনরীর গান, মাউন্টব্যাটেন মঙ্গলকাব্য, বাঁচব বাঁচব রে আমরা, মশাল জ্বালো, সেলাম চাচা, আমি যে দেখেছি সেই দেশ, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান এবং শঙ্খচিলের গান তার গানের সঙ্কলন ।

বাংলা ও অসমিয়া ভাষায় তাঁর লিখিত গ্রন্থ লোকসঙ্গীত শিক্ষাঃ কুল খুরার চোতাল, আকৌ চীন চাই আহিলো, জীবন শিল্পী জ্যোতি প্রসাদ, লোকসঙ্গীত সমীক্ষা বাংলা ও আসাম, উজান গাঙ বাইয়া, হেমাঙ্গ বিশ্বাস রচনাবলী অন্যতম।

এই মহান সংগ্রামী ও শিল্পীর প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!