1. admin@chunarughat24.com : admin :
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়াঃ মর্মান্তিকতার মাইলস্টোন
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন ২০২১, ১১:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

টেকনাফ থেকে তেতুলিয়াঃ মর্মান্তিকতার মাইলস্টোন

আশরাফুল ইসলাম
  • সময় : শুক্রবার, ২৭ নভেম্বর, ২০২০
  • ৩৪২ বার পঠিত
টেকনাফ থেকে তেতুলিয়াঃ মর্মান্তিকতার মাইলস্টোন

আশরাফুল ইসলাম।। ২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাভারে রানা প্লাজা ধসে পড়ে ১ হাজার ১৩১ জন নিহত হন, নিখোঁজ হন আরও কয়েকশো মানুষ। রানা প্লাজা ধ্বসের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি অযাচিত মর্মান্তিক দুর্ঘটনা। এই ঘটনায় আমরা হতবিহবল হয়ে পড়ি। একটি ঘটনা আমাদের সমস্ত শোক কাটিয়ে উঠতে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। ধ্বসের ১৭ দিন পর ধংসস্তুপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয় রেশমা নামের এক গার্মেন্টস কর্মী। নিঃসন্দেহে এটি একটি অলৌকিক ঘটনা। এই ঘটনায় চাপা পড়ে ১ হাজার ১৩১ জনের মৃত্যু- শোক। আমরা মেতে উঠেছিলাম ওই অলৌকিকত্বে, উপেক্ষা করলাম আহতদের চিৎকার।

এরও ৩ তিন বছর পূর্বে, ২০১০ সালের ৩ জুন, রাজধানী ঢাকার নবাব কাটরার নিমতলি এলাকায় একটি বৈদ্যতিক ট্রান্সফরমার বিস্ফোরিত হয়ে আশে পাশের ভবনগুলোতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এই অগ্নিকাণ্ডে ১১৯ জন মানুষ মারা যায়। ওই ঘটনায়, ৫ জুন রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয় এবং রুনা ও রত্না নামের দুই বোন এবং তাঁদের পাশের বাড়ির আসমা নামে একজন সহ তিন মেয়ের অভিভাবকের দায়িত্ব নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ১০ জুন গনভবনে রুনা ও রত্নার বিয়ের মাধ্যমে নিমতলি ট্রাজেডির সমাপ্তি ঘটে। এখন নাকি ‘মা’ প্রধানমন্ত্রীর দেখা পাচ্ছেন না  রুনা, রত্না ও আসমা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাতৃত্বের মমতায় অভিভূত হয়ে পড়ে দেশবাসী। আবারো চাপা পড়ে স্বজন হারানোর বেদনা ও আহতের আর্তনাদ।

২০১৪ সালের ২৭ ডিসেম্বর, রাজধানীর পানির পাম্পের খোলা গর্তের ৬শ’ ফুট গভীরে পড়ে যায় শিশু জাহিদ। জাহিদকে উদ্ধারে ব্যাপক তৎপরতা চললেও তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঘটনাটাকে গুজব বলে আখ্যায়িত করেন এবং নিজের সন্তানকে লুকিয়ে রেখে গুজব ছড়ানোর দায়ে শিশু জাহিদের পিতাকে গ্রেফতারও করা হয়। অনেক নাটকীয়তা শেষে উদ্ধার হয় মৃত জাহিদ। এই ঘটনায় মামলা হয়, কারাদণ্ড হয়, ক্ষতিপূরণের রায় হয়, কিন্তু এসব বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা আমরা জানি না।

একদা মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ঘাটের নিকটে আড়াইশ’ যাত্রী নিয়ে ডুবে যায় ‘এম ভি মোস্তফা’ নামের একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ। ৩৮ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়, পরে হাসপাতালে একজনের মৃত্যু হয়। নিখোঁজ আরও অনেকে, যার পরিসংখ্যান নিশ্চিত নয়।

উক্ত লঞ্চডুবির ঘটনায় পদ্মা পাড়ে স্বজনদের শোকের মাতমের চেয়েও বেশী মাতম হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। দেশের প্রায় সকল টেলিভিশন চ্যানেল নোঙ্গর করে পদ্মার তীরে। স্বজন- সুজন এবং সুধিজনের অশ্রুতে বেড়ে যায় পদ্মার পানি। তারপর, প্রাকৃতিক নিয়মে ভাটা আসে, আমরা ফিরে আসি নিজ নিজ ভুবনে।
বড়জোর দুই দিন ফাঁকা বা ইভেন্টবিহিন দিন অতিক্রম করতে পারে। তৃতীয় দিনেই নতুন দুর্ঘটনার ইস্যু হাজির হবে। তবে, ২০১৮ সাল থেকে আজ পর্যন্ত সময়টা ইতিহাসের সবচেয়ে বেশী ও মর্মান্তিক ঘটনার সময়। নির্বাচনী বছরটিতে দেশবাসীর চেতনাও ছিল সর্বাধিক, বলতে গেলে তুঙ্গে।

টেকনাফের কাউন্সিলর মোঃ একরামুল হকের মৃত্যু এবং তার কন্যাদের কান্নার হৃদয়বিদারক কথা- ছবি-ভিডিও এদেশে কান্না ও আবেগের বন্যা বইয়ে দেয়, কিন্তু কিছুই ভাসাতে পারেনি। ২০১৮-র ২৬ মে, মাদক-বিরোধী অভিযানে ক্রসফায়ারে নিহত হন কাউন্সিলর একরাম। এহেন ক্রসফায়ারের বিরুদ্ধে ফেসবুকে ঝড় উঠে। জুন পর্যন্ত ক্রসফায়ারে ১২৭ জনের মত নিহত হয়। প্রতিদিনই আমরা সোচ্চার ছিলাম, কিন্তু পাশাপাশি ক্রসফায়ারও সোচ্চার ছিল। একরাম ও তাঁর কন্যারা আর নেই।
সাধারণত এরপর আর কেউ থাকে না।


Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!