1. admin@chunarughat24.com : admin :
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়াঃ সাইকেলে বাল্লা সীমান্তে এক ঝলক (ধারাবাহিক)
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০২:৩৬ পূর্বাহ্ন

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়াঃ সাইকেলে বাল্লা সীমান্তে এক ঝলক (ধারাবাহিক)

মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম
  • সময় : সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২৭৪ বার পঠিত
ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়াঃ সাইকেলে বাল্লা সীমান্তে এক ঝলক (ধারাবাহিক)

মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।। বয়সের সাথে খেলাধুলা পাল্টে যায়। লুকালুকি- কানামাছি-গোল্লাছুট-ফুটবল- ব্যাডমিন্টন- ভলিবল – ক্রিকেট তারপর আমাদের দেশে খেলা ছেড়ে দেওয়াটাই ব্যক্তিত্ব। ১৪ বছর বয়সে বাইসাইকেল ছেড়ে দিলাম বড় হয়ে যাচ্ছি তাই। করোনাকালীন এই সময়ে ঘরে বসে থাকতে-থাকতে হঠাৎ মনে হল বাই সাইকেল নিয়ে ঘুরাঘুরি করি।

গ্রাম বাংলা অনলাইন নিউজের রুবেল তালুকদারকে বলতেই রাজী, এমনিতেই সে নাচুনি বুড়ি তার উপর ঢোলের বাড়ি।

২৮ নভেম্বর ২০২০ থেকে আমাদের যাত্রা শুরু। প্রাথমিক ভাবে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার হাতুন্ডা গ্রাম, নায়ানি, দ্বীগাঁও, বাঘমারা, বনগাঁও, আমতলী হয়ে চুনারুঘাট।

পরের দিন চললাম চুনারুঘাট থেকে চন্দনা গ্রাম, কাচুয়া, লক্ষ্মীপুর, কালিচং, রহমতাবাদ, ইনাতাবাদ, বাঘারুক, আমতলী ও দেওরগাছ গ্রামগুলো ঘুরে এলাম।

অগ্রহায়ণের সুন্দর সকাল- দুপুর – বিকেল চারদিকে ধানের মৌ মৌ গন্ধ, সোনালী ধানের ঝিকিমিকি, কৃষাণ-কৃষাণীরা ধান কাটা, ধান মাড়াই, ধান শুকানো, ধান সিদ্ধ দেয়ায় ব্যস্ত। চোখে মুখে তাদের আনন্দের ঝিলিক যেন এক অনন্য বাংলাদেশ। পশ্চিমে সূর্যাস্তের রক্তরাগের অনিন্দ্য সুন্দর শরীর ও হৃদয়ে নিয়ে ঘরে ফেরা।

এ দুইদিন সাইকেল চালিয়ে অনভ্যস্ত তা কাটতে না কাটতেই রুবেল প্রস্তাব দিল চুনারুঘাট থেকে বাল্লা সীমান্তে যাওয়ার। পথ ২৫ কিলোমিটার। সকাল দশটায় বের হলাম বের হতে না হতেই রাস্তায় দুর্ঘটনার শিকার, মারাত্মক কিছু না হওয়াতে আবার চললাম, পেরিয়ে গেলাম রানীকোর্ট, রাজারবাজার, বনগাঁও, সুকদেবপুর, আমুরোড, জারুলিয়া, ইসালিয়ারপুল, বীশগাঁও, আসামপাড়া- গাজীপুর, ওসমানপুর, গোবরখোলা, দুধপাতিল, কেদারঘাট, টেকেরঘাটের বুক চিরে চলতেই ওইপারে তারকাঁটার বেড়া দেখেই মনে পড়ল -“ওরা এদেশের ভাগ করেনি দেয়নি কোথাও খড়ির দাগ, নেতারা সব ঝগড়া করেন জলে কুমির ডাঙায় বাঘ।”

ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়াঃ সাইকেলে বাল্লা সীমান্তে এক ঝলক (ধারাবাহিক)১অবশেষে বাল্লা সীমান্তের কোল ঘেঁষে দাঁড়াতেই খোয়াই নদীর ওই পাড়ে চোখ নিবদ্ধ হলো একটি ভবনের ওপর। এটি ভারতের খোয়াই জেলার অডিটোরিয়াম। ঔৎসুক্যের আনন্দে তরুন ও শিশুরা জিজ্ঞেস করছে কোথায় যাবেন? বললাম, বাল্লা সীমান্ত দেখতে। শিশু, নারী, যুবক, বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড এর তিনজন সদস্য ও আশি ঊর্ধ্ব একজন প্রবীণ ব্যক্তিত্বের সাথে। নদীর পাড় জুড়ে হাজার হাজার কলা গাছের চাষ দেখে অভিভূত হলাম।

বাংলাদেশ পুলিশ বাল্লা চেকপোস্ট এর কাছে অনেকগুলো শিমুল গাছ বা মহীরুহ দেখে শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের পর পরই চুনারুঘাট দেউন্দি গ্রামের বাড়ি ছেড়ে আমাদের বাড়ি নির্মিত হয় চুনারুঘাট থানা সদরে, তখন থানা শহর সবেমাত্র গড়ে উঠছে।

সামনে বিশাল নদীর মতো খাল, আশেপাশে বিশাল মহীরুহ মেহগনি, আম, কাঁঠাল ও জাম গাছ, বাড়ির সামনে শিমুল গাছ বা মহিরুহ, শিমুল গাছের কন্দরে খেলা করতাম। শিমুল ফুলে ছেয়ে যেতো সমস্ত আঙ্গিনা, শিমুলতুলা ফেটে পড়ে বাতাসে ভাসতো চলচ্চিত্রের মতো।

কিন্তু সভ্যতার অসভ্যতায় ধীরে ধীরে আত্মহত্যা করল সেই মহিরুহগুলো। খাল পরিণত হয়ে গেল ড্রেনে। যেখানে নিস্তব্ধতা, যেখানে প্রকৃতির আনাগোনা সেখানেই বোধ হয় প্রকৃতির যত্ন ও ভালোবাসায় বৃক্ষগুলো বেড়ে ওঠে মহীরুহ হয়ে। আর আমরা সভ্যতার অহমিকায় – কোলাহলে প্রকৃতিকে হত্যা করতে দ্বিধা করি না। মানুষ সভ্যতা নামের অসভ্যতা পরিহার করে প্রকৃতিকে কবে মুক্তি দেবে?

২০০৮ সাল থেকে বাল্লা সীমান্ত স্থল বন্দর আধুনিকতার যাত্রার ঘোষণা দিলেও ছিটেফোঁটাও দেখা যাচ্ছে না এখনো। যদিও ১৯৫১ খ্রিস্টাব্দ থেকে এই সীমান্ত দিয়ে টুকটাক পণ্য আমদানি-রপ্তানি হচ্ছে ভারতের সাথে, মানুষও পারাপার হচ্ছে নিয়মিত। খোয়াই নদীতে নৌকায় ভারত- বাংলাদেশ পারাপার হতে হয়।

এঁকেবেঁকে বয়ে যাওয়া খরস্রোতা খোয়াই নদীতে অগ্রাহনের শান্ত দুপুরে মানুষজনের গোসল, শিশুদের কলকাকলিতে খেলাধুলা, মাছ ধরা, ঘাস ধোয়া দেখে দেখে সারা শরীরের ক্লান্তি নিয়ে বিকেলে ফিরে এলাম নীড়ে। এক ঝলক বাল্লা সীমান্তে দর্শনে মনে হলো আবারও উন্নয়ন – সভ্যতার কষাঘাতে প্রকৃতি লীন হয়ে যাবে নাতো?

(চলবে )

লেখক। সহকারী অধ্যাপক

ইতিহাস বিভাগ। লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজ।



Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!