1. admin@chunarughat24.com : admin :
কুলাউড়া ভাঁটগাওয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সগীর আলীর সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৯:০৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবীতে মানববন্ধন থেকে আল্টিমেটাম মঙ্গলে জীবনের অস্তিত্ব আছে কী? চুনারুঘাটে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবীতে খোলা চিঠি চীনের সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকাদান শুরু সাইয়েদ ইব্রাহিম রায়িসি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ১৩তম প্রেসিডেন্ট ২২ জুন থেকে খুলনায় এবং ২০ জুন থকে বগুড়ায় এক সপ্তাহের লকডাউন জীবন বিপর্যয় রোধকল্পে সামাজিক নিরাপত্তা: কল্পনা ও নির্মম বাস্তবতা এবার করোনার রহস্যময় ‘বাংলাদেশ ভ্যারিয়েন্ট’! ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে পৌনে ৪ কোটি টাকা উধাও, ২ কর্মকর্তা গ্রেফতার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা

কুলাউড়া ভাঁটগাওয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সগীর আলীর সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ

মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম
  • সময় : বুধবার, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ২১৬ বার পঠিত
কুলাউড়া ভাঁটগাওয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা সগীর আলীর সমাধিতে পুস্পস্তবক অর্পণ

মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম।। ১৯৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় লংলা রেল স্টেশনে অপারেশন শেষে ষাঁড়েরগজ পাহাড় ক্যাম্পে ফিরছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা সগীর আলী। তাঁর গ্রাম ভাটগাঁওয়ের পাশ দিয়ে যাওয়ার পথে তার মায়ের আকুতি মিনতিতে ঘরে যান। খাবার খাওয়ার সময় হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ শুনেন। কারা কড়া নাড়ছেন জিজ্ঞেস করাতে স্থানীয় একজন দরজার ওপাশ থেকে বলল তাদের মামা। দরজা খুলতেই ঘাতক রাজাকাররা ব্রাশফায়ার করে সগীর আলী কে হত্যা করে ও তার বন্ধু বশিরও মৃত্যুবরণ করেছে।

এই হত্যাকাণ্ডের পর পাক হানাদার বাহিনীর সদস্যরা গ্রামবাসীর উপর ব্যাপক হত্যা- নির্যাতন চালায়।

এদিকে শহীদ ছগীর এর লাশ দাফন করতে বাধা দেয় স্থানীয় ফতোয়াবাজরা। তারা বলে মুক্তিযোদ্ধারা কাফের, তাই তাকে দাফন করা ও জানাযা পড়া হারাম।

তিনদিন লাশ বাড়িতে ফেলে রাখার পর আত্মীয়-স্বজনরা সংক্ষিপ্ত জানাজা শেষে ভাটগাঁও গ্রামের নির্জন স্থানে জঙ্গলাকীর্ণ নদীর পাড়ে সমাধিস্থ করা হয়।

স্থানীয় প্রভাবশালীদের চাপে দীর্ঘদিন যাবৎ শহীদ সগীরের কবর শনাক্ত করা হয়নি। তৎকালীন পৃথিমপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নবাব আলি নকি খান এর দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা কবর শনাক্ত করা হলে এমপি এম এম শাহীন কবর পর্যন্ত রাস্তা করে দেন।

এরপর দীর্ঘদিন অযত্নে-অবহেলায় শহীদ সগীর আলীর কবর পড়ে থাকলে স্থানীয় তরুণ-যুবকদের নেতৃত্বে শহীদ সগীর-শহীদ বশির স্মৃতি রক্ষা পরিষদ গঠন করা হয়। এই পরিষদ সাবেক এমপি আব্দুল মতিন এর বরাবর দরখাস্ত দেয়ার প্রেক্ষিতে শহীদ সগীরের কবর পাকাকরণ ও নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার জন্য সংক্ষিপ্ত ওয়াল নির্মাণ করা হয়।

মহান বিজয় দিবসের এই দিনে শহীদ সগীর-শহীদ বশির স্মৃতি রক্ষা পরিষদ তার সমাধিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে পরিষদের আহ্বায়ক আশফাক আহমেদ এর সভাপতিত্বে এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা হয়।

প্রথমে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করার পর বক্তব্য রাখেন, ভাটগাঁও গ্রামবাসী ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এম এস জামান।

আরো বক্তব্য রাখেন খন্দকার শাহজাহান, নবাব আলী আশরাফ খান বাবু ও কমরেড প্রশান্ত দেব ছানা।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন লংলা আধুনিক ডিগ্রী কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাজহারুল ইসলাম, ভাটগাঁও গ্রাম নিবাসী মাহমুদ আলী বারজাং, আব্দুস শহীদ, আলামিন, রাব্বী, আহমেদ আরেফিন, সালেক, লিটন, মুন্না, তাসকিয়া খন্দকার প্রমুখ।

আলোচনায় বক্তারা শহীদ সগীরের নামে রাস্তার নামকরণ ও তার সমাধি পর্যন্ত সড়ক পাকাকরণ এর দাবি জানান।

এছাড়াও বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ বশিরের স্মৃতি রক্ষার জন্য মনরাজ গ্রামে বা লংলা স্টেশনে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও লংলা রেলস্টেশনের রাস্তার নাম শহীদ বশিরের নামে নামকরণ করার জন্য দাবি জানান।

শহীদদের পরিবারের সদস্যদের অবস্থা খুবই করুণ। এই অবস্থায় আলোচনা সভায় তাদের পুনর্বাসন করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবিও জানানো হয়।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!