1. admin@chunarughat24.com : admin :
সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

কমরেড বারীন দত্তের জন্মদিন আজ

আশরাফুল ইসলাম
  • সময় : রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ১৩৮ বার পঠিত
কমরেড বারীন দত্তের জন্মদিন আজ

আশরাফুল ইসলাম।। বৃটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা, সিলেটের নানকার বিদ্রোহ আন্দোলনের প্রধান সংগঠক, ভাষা সৈনিক, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক, বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সাধারন সম্পাদক, বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সভাপতি, আজীবন সংগ্রামী জননেতা কমরেড বারীন দত্তের জন্মদিন আজ।

১৯১১ সালের ২০ ডিসেম্বর হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার স্বজনগ্রাম টাউনশীপে ঐতিহাসিক দত্ত বংশে জন্ম গ্রহন করেন। শৈশব কেটেছে সিলেট শহরে ও চুনারুঘাট থানার নরপতি গ্রামে মামার বাড়ীতে। পিতা হলেন রায় বাহাদুর এডভোকেট সতীশ চন্দ্র দত্ত। মাতার নাম মনোরমা দত্ত।

মনোরমা দত্ত হলেন চুনারুঘাট উপজেলা ( সাবেক  তরফ পরগনার) নরপতি ( জাজিউতা) গ্রামের জমিদার জগৎচন্দ্র বিশ্বাসের মেয়ে। লাখাই দত্ত বংশ বৃটিশ আমলে পশ্চিমবাংলা, পুর্ব বাংলা, আসামের আলোকিত ও উচ্চ শিক্ষিত বংশ ছিল। বৃটিশ আমলে লাখাই দত্ত বংশে ১২০ জন ছিলেন উচ্চ পর্যায়ের অফিসার।

বারীন দত্তের পিতা রায় বাহাদুর এডভোকেট সতীশ চন্দ্র দত্ত ১৯৩০ সালে হবিগঞ্জ সদর- লাখাই- বানিয়াচং – আজমিরীগঞ্জ আসন থেকে ভারতের কেন্দ্রীয় আইন সভার সদস্য নির্বাচিত হন। ভারতবর্ষের স্পীকারের দায়িত্বও পালন করেন।

১৯২৭ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বারীন দত্ত “তরুন সংঘ” নামে একটি যুব সংগঠন সিলেটে প্রতিষ্ঠা করেন। এই সময় জলপাইগুড়ির অনুশীলন দলের নেতা বীরেন্দ্র চন্দ্র দত্তের সাথে সিলেটে দেখা হয়। সেখানে পার্টির কাজকর্ম সম্পর্কে ব্যাপক আলোচনা হয়।

১৯২৯ সালে বারীন দত্ত সিলেট সরকারী পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২ টি বিষয়ে লেটার নিয়ে প্রথম বিভাগে মেট্রিক পাশ করেন। ভর্তি হন সিলেট এম সি কলেজে। প্রথমে যোগদেন অনুশীলন দলে। মতবিরোধ দেখা দিলে যুগান্তর দলে যোগ দেন। এম সি কলেজে ধর্মঘটে সক্রিয় অংশগ্রহণ করায় কলেজ থেকে বহিষ্কার হন।

১৯৩১ সালে ভর্তি হন কলকাতা রিপন কলেজে। এরপর ১৯৩২ সালে সিলেটে যুগান্তর দলের সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

১৯৩৩ সালে সিলেটে যুগান্তর দলের উপর নেমে আসে বৃটিশ পুলিশের চরম দমননীতি। ১৯৩৩ সালের ১০ ডিসেম্বর বারীন দত্তকে সিলেট থেকে গ্রেফতার করে কলকাতায় ইলিসিয়াম বোর পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়।

১৯৩৩ সালের ১৩ ডিসেম্বর কলকাতার আদালতে বারীন দত্তকে হাজির করা হয়। এদিন বিকেলে আবার স্পেশাল ব্রাঞ্চে নিয়ে পুলিশী নির্যাতন করা হয়। তারপর পাঠিয়ে দেয়া হয় বালিগঞ্জ থানায়। কয়েকদিন পর নিয়ে যাওয়া হয় মুচিপাড়া থানায়। একরাত থাকার পর নিয়ে যাওয়া হয় লালবাজার থানায়। ৭ দিন লালবাজার থানায় থাকার পর নিয়ে যাওয়া হয় আবার স্পেশাল ব্রাঞ্চে।

১৪ দিন স্পেশাল ব্রাঞ্চের তত্ত্বাবধানে থাকার পর কলকাতা প্রেসিডেন্সী জেলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রেসিডেন্সী জেলে দেড় মাস থাকার সময় পরিচয় হয় কমরেড সত্যেন সেনের সঙ্গে। বারীন দত্ত এবং সত্যেন সেন দুজন ” গ্রিনলে ফ্রড কেইস” এর আসামী ছিলেন। দুজনের মধ্যে বিশেষ বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। বারীন দত্তের বাল্যবন্ধু হরিপদ দত্ত এই জেলহাজতে ছিলেন। বারীন দত্ত,সত্যেন সেন,হরিপদ দত্তকে নামকরা দাগী আসামী চোর ডাকাতদের সাথে রাখা হতো। এরপর প্রেসিডেন্সী জেলের ডেটিনেটি ওয়ার্ডে নিয়া যাওয়া হয়। সেখানে গোপাল হালদার, জলপাইগুড়ির বীরেন দত্তের সাথে সাক্ষাত হয়। ডাঃ নীহার কুমার সরকারের সাথে প্রেসিডেন্সী জেলেই বারীন দত্তের পরিচয় হয়।

দুইমাস থাকার পর প্রেসিডেন্সী জেল থেকে বারীন দত্তকে মেদিনীপুর জেলার হিজলী বন্দী শিবিরে নেয়া হয়। হিজলী বন্দি শিবিরে কমরেড বারীন দত্তের সাথে কমরেড বিভুতি গুহের পরিচয় হয়। কমরেড বিভুতি গুহ মার্কসবাদ ও লেনিনবাদের তত্ত্বগত জ্ঞান অর্জনে বারীন দত্তকে সহায়তা করেন। হিজলী বন্দি শিবিরে বিনা বিচারে তিন বছর থাকার পর বারীন দত্তকে চট্রগ্রামের সন্দীপে পাঠানো হয়। সন্দীপে ছয়মাস অন্তরীন রাখা হয়। সন্দীপে অন্তরীন অবস্থায় সাথী ছিলেন রাজশাহীর যামিনী মজুমদার। সন্দ্বীপ থেকে নেয়া হয় আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে। আন্দামানে কঠিন নির্যাতন করা হয়। আবার নেয়া হয় সন্দীপে।

১৯৩৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সুদীর্ঘ চারবছর কারাগারে ও আন্দামানে কাটিয়ে চট্রগ্রামের সন্দীপ থেকে মুক্তি পেয়ে সিলেট শহরে চলে যান।

১৯৩৭ সালের ৫ ডিসেম্বর সিলেটে জেলা কংগ্রেসের বিরোধ মিমাংসের জন্য পন্ডিত জওহর লাল নেহেরু সিলেটে আগমন ঘটে। বারীন দত্ত কংগ্রেস নেতা পন্ডিত জওহর লাল নেহেরুর ( পরবর্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী) সাথে সাক্ষাৎ করেন।

সিলেটে তখন দুটি ছাত্র সংগঠন স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন ও স্টুডেন্ট ফেডারেশন কাজ করে আসছিলো। কমরেড বারীন দত্ত দুটি ছাত্র সংগঠনকে একটি সংগঠন করে প্রশংসা অর্জন করেন।

১৯৩৮ সালে সিলেট ও কাছাড় জেলায় কমিউনিষ্ট পার্টির উদ্যেগে শ্রমিক আন্দোলনের সুচনা হয়। কমিউনিষ্ট পার্টির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কমরেড দিগেন দাশগুপ্ত ও কমরেড বারীন দত্তকে চাবাগান শ্রমিক আন্দোলন এবং সংগঠন গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করা হয়। শ্রমিক আন্দোলন ও কমিউনিষ্ট জীবন গড়ে তোলার ক্ষেত্রে কমরেড বারীন দত্তের রাজনৈতিকভাবে প্রথম হাতেখড়ি।

১৯৪০ সালে কমরেড বারীন দত্ত বৃহত্তর সিলেট জেলার কমিউনিষ্ট পার্টির কার্যকরী সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৪০ সালে কমরেড বারীন দত্ত, অজয় ভট্রাচার্য, দিগেন্দ্র কুমার দাশগুপ্ত, মতিলাল জায়গীরদার, শচীন্দ্র দত্তের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারি করা হলে আত্মগোপনে গিয়ে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা থানার সোনাপুর- জগন্নাথপুরে কমিউনিষ্ট পার্টির ঘাঁটি গড়ে তোলেন।

সেখান থেকে নবীগঞ্জ, বানিয়াচং, আজমিরীগঞ্জ, দিরাই, শাল্লা থানায় পার্টির কার্যক্রম শুরু করেন। নবীগঞ্জ থানার মান্দারকান্দি গ্রামে কমিউনিষ্ট পার্টির বিশাল সংগঠন গড়ে তোলেন। আজমিরীগঞ্জের বিরাটের হাওড় থেকে কৃষকদের জন্য নৌকা বোঝাই করে ধান সংগ্রহ করেছেন।

১৯৪১ সালে ছাতকে সিমেন্ট ফ্যাক্টরীর উৎপাদন শুরু হলে শ্রমশক্তির উপযুক্ত মুল্য আদায়ের লক্ষ্য আন্দোলন শুরু হলে জঙ্গী ঐক্য গড়ে তোলা হয়। কোম্পানীর অন্যায় ও স্বেচ্ছাচারী পদক্ষেপের বিরুদ্ধে কমরেড বারীন দত্ত আন্দোলন গড়ে তোলেন।

১৯৪২ সালে সমগ্র ভারতবর্ষে দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। পার্টির ত্রান তৎপরতার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। কমরেড বারীন দত্ত মানুষকে বাচানোর জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করেন। ঝাপিয়ে পড়েন কাজে।

সিলেট শহরে বৃটিশ বিরোধী রাজনীতি করার সময় পুলিশ রেইড করলে বা কোন মামলা হলে কমরেড বারীন দত্ত নিজের গ্রামের বাড়ী লাখাই থানার স্বজনগ্রামে অথবা চুনারুঘাট থানার নরপতি গ্রামে মামার বাড়ীতে আত্মগোপন করতেন।

সিলেটে শ্রমিক শ্রেনিকে সংগঠিত করে ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলেন। সিলেট ও কাছাড়ের চা বাগান এবং চা বাগানের শ্রমিকদেরকে নিয়ে ” সিলেট কাছাড় চা বাগান মজদুর ইউনিয়ন” গঠন করে ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন গড়ে তোলেন। এই ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলনের প্রথম সভাপতি হন প্রবোধা নন্দ কর এবং সাধারন সম্পাদক হন কমরেড বারীন দত্ত। দ্বিতীয় বার ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি হন অরুন কুমার ছন্দ এবং সাধারন সম্পাদক হন কমরেড বারীন দত্ত।

১৯৪৭ সালে সিলেট জেলা সম্পাদক নির্বাচিত হন। কমরেড বারীন দত্ত বৃটিশ বিরোধী আন্দোলন করায় এবং রাজনৈতিক কার্যকলাপের জন্য সিলেট শহরের বাসায় এবং লাখাই স্বজনগ্রাম নিজ বাড়ীতে পুলিশের তল্লাশী ও অন্যান্য অসুবিধার কারনে ছেলের প্রতি বিক্ষুব্ধ হয়ে লাখাই ও সিলেটের সম্পত্তি ফেলে দিয়ে রায়বাহাদুর এডভোকেট সতীশ চন্দ্র দত্ত ১৯৪৭ সালে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট থানার নরপতি গ্রামে শ্বশুর বাড়ীতে বসবাস শুরু করেন। পরে তিনি সিলেট ও লাখাই ঠিকানা বাদ দিয়ে চুনারুঘাট থানার নরপতি গ্রামের ঠিকানা ব্যবহার করতেন।

১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টি হলে কমরেড বারীন দত্ত পুর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন।

১৯৪৯ সালের ১৮ আগষ্ট সিলেট জেলার বিয়ানীবাজার, গোলাপগঞ্জ, বড়লেখা, কুলাউড়া, বালাগঞ্জ থানায় জমিদারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠে। সেই আন্দোলনই নানকার আন্দোলন নামে পরিচিত। সেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন কমরেড বারীন দত্ত, অজয় ভট্রাচার্য, অর্পনা পাল চৌধুরী, হেনা দাশ, জোয়াদ উল্লাহ, আব্দুস সোবহান, সুরথ পাল, সুষমা দে, অমিতা পাল। জমিদার প্রথার বিলুপ্তের মাধ্যমে নানকার বিদ্রোহ আন্দোলনের সমাপ্তি ঘটে।

১৯৫০ সালে নবীগঞ্জ থানার মান্দারকান্দি গ্রামের কমিউনিষ্ট নেত্রী কমরেড শান্তি দত্তকে বিবাহ করেন। ১৯৫১ সালে সিলেট থেকে ঢাকায় চলে আসেন। ঢাকায় আসার পর কমরেড বারীন দত্তের ছদ্মনাম হয় আব্দুস সালাম। আব্দুস সালাম নামেই দেশ- বিদেশে ব্যাপক পরিচিত লাভ করেন। পার্টির সবাই ডাকতেন ” সালাম ভাই”।

১৯৫১ সালের কমিউনিষ্ট পার্টির বর্ধিত সভায় পুর্ব পাকিস্তান নির্বাচন করা হলে কমরেড মনি সিংহ সম্পাদক হন। সম্পাদক মন্ডলী হন কমরেড বারীন দত্ত ও নেপাল নাগ। সদস্য হন শেখ রওশন আলী, সুখেন্দ দস্তিদার, মীর্জা আব্দুস সামাদ, মন্টু মজুমদার, শহীদুল্লা কায়সার ও শচীন বোস।

১৯৫২ সালে কমরেড বারীন দত্ত ভাষা আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশ গ্রহন করেন। কমিউনিষ্ট পার্টি থেকে শ্লোগান তোলা হয় ” নুরুল আমিনের কল্লা চাই”। সেইসময় এই শ্লোগানটি জনপ্রিয়তা লাভ করে।

১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান পাকিস্তানে সামরিক আইন জারি করলে সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে একটি ফ্রন্ট করার উদ্যেগ নেন। বিশিষ্ট সাংবাদিক জহুর হোসেন চৌধুরীর সাহায্যে কমিউনিষ্ট পার্টি শেখ মুজিবের সাথে সাক্ষাত করেন। বৈঠকে ছিলেন কমরেড মনি সিংহ, কমরেড খোকা রায়। শেখ মুজিব তোলেন স্বাধীন বাংলার কথা। কমিউনিষ্ট পার্টি শেখ মুজিবের পক্ষে ছিলেন।

১৯৬৭ সালে কমরেড মনি সিংহ গ্রেফতার হলে কমরেড বারীন দত্তকে পুর্ব পাকিস্তান কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যকরী সাধারন সম্পাদক করা হয়। ১৯৬৮ সালে কমরেড বারীন দত্ত পুর্ব পাকিস্তান কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৬৯ সালে রাশিয়াতে কমিউনিষ্ট পার্টির আন্তর্জাতিক সম্মেলন অনুষ্টিত হলে কমরেড বারীন দত্ত অংশ গ্রহন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে আগরতলায় প্রশিক্ষন ক্যাম্প স্থাপন করেন। ন্যাপ, ছাত্র ইউনিয়ন ও কমিউনিষ্ট পার্টির যৌথ মুক্তিবাহিনী গড়ে তোলেন। আগরতলায় ক্যাম্প পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহন করেন কমরেড বারীন দত্ত ও কমরেড অনিল মুখার্জী। কমরেড মনি সিংহ, কমরেড খোকা রায়, কমরেড বারীন দত্ত, কমরেড ফরহাদ ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সাথে সাক্ষাৎ করেন। মুক্তিযুদ্ধকে ঐক্যবদ্ধভাবে সক্রিয় করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দিন আহমেদ, আব্দুস সামাদ আজাদ সহ নেতৃবৃন্দের সাথে ব্যাপক আলোচনা করেন।

ভারতে সফরত সিপি আই এর সম্মেলন রাশিয়ার কমিউনিষ্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের ডেপুটি প্রধান উলিয়ানভস্কির সাথে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যাপক আলোচনা করেন। যার প্রেক্ষিতে রাশিয়া বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আরো কার্যকর ভুমিকা রাখেন।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে গেরিলা বাহিলীর পুর্বাঞ্চলের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেন। যুদ্ধের খবর রাশিয়াতে পাঠাতেন। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোলাই পদগোর্ণীর সাথে যোগাযোগ রাখতেন। রাশিয়ার কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারন সম্পাদক লিওনিদ ইলিছ ব্রেজনেভ এবং রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই কোসিগিনের কাছে যুদ্ধের খবর গোপন সংকেতের মাধ্যমে পাঠাতেন কমরেড বারীন দত্ত। সার্বক্ষনিক রাশিয়ার গোয়েন্দা সংস্থা গুলোর সাথে যোগাযোগ রাখতেন। এ ছাড়াও ভারতের কমিউনিষ্ট পার্টির (CPI) সাথে সার্বক্ষনিক যোগাযোগ রাখতেন।

১৯৭২ সালে কমরেড বারীন দত্ত রাশিয়া থেকে ” শান্তি পুরষ্কার” লাভ করেন।

১৯৭৩ সাল পর্যন্ত কমরেড বারী দত্ত কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আওয়ামী লীগ, কমিউনিষ্ট পার্ট, ন্যাপ নিয়ে “গন ঐক্য জোট” করেন এবং মিটিং করেন। বাংলাদেশের রাষ্টপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে গনঐক্যর মিটিং করেন কমরেড মনি সিংহ, অধ্যাপক মুজাফফর আহমেদ, কমরেড বারীন দত্ত, কমরেড মোহাম্মদ ফরহাদ, পঙ্কজ ভট্রাচার্য ও অগ্নিকন্যা মতিয়া চৌধুরী।

১৯৭৩, ১৯৮০, ১৯৮৬ সালে কেন্দ্রীয় কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন। কমরেড বারীন দত্ত কমিউনিষ্ট আন্দোলনের পাশাপাশি কৃষক আন্দোলনেও যথাযোগ্য ভুমিকা পালন করেন।

বাংলাদেশ কৃষক সমিতির সভাপতি কমরেড হাতেম আলী খানের মৃত্যর পর কমরেড বারীন দত্ত কৃষক সমিতির কার্যকরী সভাপতি হন। নরসিংদীর সম্মেলনের পর বাংলাদেশ কৃষক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। কমরেড বারীন দত্ত ১৯৪২ সালে কমিউনিষ্ট পার্টি আইনসম্মত হবার পর আত্মগোপনে গোপনে চলে যান। এভাবে আত্মগোপন অবস্থায় ২৯ বছর রাজনীতি করেন।

কমরেড বারীন দত্তের এক ছেলে কিশোর দত্ত বাবুল কলকাতায় বসবাস করেন। এক মেয়ে কুমকুম দত্ত লিলি রাশিয়া থেকে পিএইচডি করে স্বামীর সাথে মালয়েশিয়ায় বসবাস করেন।

১৯৯১ সালে প্রকাশিত কমরেড বারীন দত্তের অত্যন্ত মুল্যবান ও দুস্প্রাপ্য একটি স্মৃতিকথা ” সংগ্রাম মুখর দিনগুলি” বইটি লিখেছেন। এই বইটি তিনি উৎসর্গ করেছেন ” নানকার আন্দোলন এবং মুক্তি সংগ্রামের জানা-অজানা শহীদের উদ্দেশ্য”।

১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির অভ্যন্তরে তৎকালীন সভাপতি সাইফুদ্দিন আহমেদ মানিক ও সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম নাহিদ কর্তৃক সৃষ্ট মতাদর্শিক বিতর্কের সময় কমরেড বারীন দত্ত মার্কসবাদ-লেলিনবাদের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান গ্রহন করেন। কমরেড বারীন দত্ত বলিষ্ঠ পদক্ষেপের কারনে সিপিবিকে বিলুপ্তের হাত থেকে রক্ষা করেন।

১৯৯৩ সালের ২০ অক্টোবর কমরেড বারীন দত্ত ঢাকায় মৃত্যুবরন করেন।

তাঁর মতো উদার গনতান্ত্রিক ব্যক্তিত্ব সব পার্টিতে বিরল। কমরেড বারীন দত্ত ছিলেন একজন আমৃত্যু কমিউনিষ্ট।

তাঁর স্মৃতির প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

তথ্যসুত্র। অনলাইন।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!