1. admin@chunarughat24.com : admin :
সোমবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৭ অপরাহ্ন

সৈয়দ আশরাফঃ যার নিকট ‘আওয়ামী লীগ একটি অনুভুতির নাম’

 মাহবুবুল আলম হানিফ
  • সময় : বুধবার, ৬ জানুয়ারি, ২০২১
  • ৬০ বার পঠিত
সৈয়দ আশরাফঃ যার নিকট 'আওয়ামী লীগ একটি অনুভুতির নাম'

 মাহবুবুল আলম হানিফ।। ওয়ান ইলেভেনের (২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি) কঠিন দু:সময়ে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা তখন আর্দশের পরীক্ষায় হাবুডুবু খাচ্ছেন। লোভের কাছে বশ্যতা স্বীকার করেছেন অনেকে। যখন প্রিয় নেত্রীর গ্রেপ্তারে হতবিহ্বল কর্মীরা। হতাশা, বিভক্তি আর অজানা আশঙ্কায় বিপর্যস্ত আওয়ামী লীগ। এসময় সৈয়দ আশরাফ শেখ হাসিনার পক্ষে এক অনবদ্য অবস্থান নেন। দলকে টেনে তোলেন খাদের কিনারা থেকে।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম দলের বাইরেও ছিলেন সমান জনপ্রিয়। এমন স্বল্পভাষী, মিষ্টভাষী, পরিমিতিবোধসম্পন্ন প্রজ্ঞাবান মানুষ রাজনীতিতে বিরল। দেশ, বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এবং শেখ হাসিনার প্রতি সৈয়দ আশরাফের কমিটমেন্ট ছিল সব কিছুর উর্ধ্বে। কর্মীদেরকে উনার মত করে ধারণ করতে খুব কম নেতাই পেরেছেন।

দলের ভেতরে বাইরে কাউকেই তিনি ব্যক্তিগত আক্রমণ বা আঘাত করে কথা বলেননি। আদর্শিক রাজনীতিতে পূর্বসূরিদের উত্তরাধিকারিত্ব বহন করে পথ হাঁটা সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার ঈর্ষণীয় ইমেজের পর অন্যান্য নেতাদের মধ্যে ছিলেন জনপ্রিয়তার শীর্ষে।

২০১৩ সালের ৫ মে’র হেফাজতী তান্ডব। সেদিন আশরাফ ভাইয়ের ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তার কারণেই হেফাজত লেজ গুটিয়ে পালিয়েছিলো।

২০১৩ সালের ৫ মে। পুরো ঢাকা শহর হেফাজতে ইসলামের দখলে। মতিঝিলের শাপলা চত্বরে তাদের সমাবেশ থাকলেও দুপুর থেকে তাণ্ডব শুরু হয়ে যায়। হেফাজতের কর্মীরা বায়তুল মোকাররমে বইয়ের দোকান পুড়িয়ে দেন। তারা হুংকার ছাড়ে অপরাজেয় বাংলা গুঁড়িয়ে দেবে। হাজার হাজার হেফাজত কর্মীর সামনে র‍্যাব-পুলিশ ছিল অসহায়। শুধু বিএনপি নয়, হেফাজতের সঙ্গে সেদিন হাত মিলিয়েছিলো দেশী বিদেশী ষড়যন্ত্রকারীরা। আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-মন্ত্রীরাও হয়ে পড়েছিলেন কিংকর্তব্যবিমূঢ়। সর্বত্র ছিল উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

এই অবস্থায় হেফাজতের উদ্দেশে যেই মানুষটি বলিষ্ঠ কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘ আমাদের সরলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না, রাতের মধ্যেই আপনারা ঘরে ফিরে যাবেন এবং ভবিষ্যতে আপনাদের আর ঘর থেকে বের হতে দেওয়া হবে না ’, তিনি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। আওয়ামী লীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী। তাঁর কথায় কাজ হয়েছিলো। পরদিন হেফাজতের কর্মীরা ঢাকা শহর থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছিলো।

২০১৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২০ তম কাউন্সিলে আশরাফ ভাইয়ের দেওয়া বক্তব্যটি আজো মাথায় গেঁথে আছে। তিনি বলেছিলেন, আমি আওয়ামী লীগের সন্তান। আওয়ামী লীগের ঘরেই আমার জন্ম। আওয়ামী লীগ যখন ব্যথা পায়, আমার তখন ব্যথা লাগে। একজন আওয়ামী লীগ কর্মী ব্যথা পেলে আমি ব্যথা পাই। আমার রক্ত আর আপনার রক্ত একই। রক্তে কোনো বিভেদ নাই’। তিনি আরো বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগ তাই শুধু যেকোন একটি দল নয়, আওয়ামী লীগ কোন সনাতনী দলও নয়, আওয়ামী লীগ একটি ত্যাগের নাম, আওয়ামী লীগ একটি অনুভূতির নাম যে অনুভূতি ত্যাগের এবং আত্মত্যাগের।’

আমার খুব স্পষ্ট মনে আছে; ২০১৬ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিল। কত নেতার কত রকম দৌড়-ঝাঁপ! নানা রকম কায়দা-কৌশলে বিভিন্ন মিডিয়ায় সৈয়দ আশরাফকে দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে অযোগ্য প্রমাণিত করার জন্য প্রচারণা চালানো হলো। কিন্তু যাঁকে সরানোর জন্য এত কিছু, সেই মানুষটি নির্বিকার। বরাবরের মতোই নির্বিকার। কাউকে কিছু বলেননি। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে কাউন্সিল অধিবেশনে বক্তৃতার জন্য যখন তাঁর নাম ঘোষিত হলো, মিতভাষী এই জ্ঞানতাপস, মুক্তিযোদ্ধা এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতির ঋষিপুরুষ ধীরস্থির পায়ে মাইকের সামনে এসে দাঁড়ালেন।

তাঁর পক্ষে-বিপক্ষের লাখো জনতা পিনপতন নীরবতায় অপেক্ষমাণ। সবার চোখেমুখে একটাই প্রশ্ন-তিনি কী বলবেন? তিনি অত্যন্ত আবেগ জড়ানো কণ্ঠে উচ্চারণ করলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি অনুভূতির নাম’। এমন গভীরতর মর্মস্পর্শী শব্দাবলী বঙ্গবন্ধু ছাড়া আর কোনো নেতার মুখে বাঙালি জাতি কখনো শোনেনি।

ক্ষমতার রাজনীতিতে সৈয়দ আশরাফ বিরল এক প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব । তাঁর চলে যাওয়ার দুই বছর হয়ে গেলো। যেকোনো সংকটে এখনো আমাদের আপার পাশে সৈয়দ আশরাফ ভাইকেই খুঁজে ফিরি। পরলোকে খুব ভালো থাকবেন শ্রদ্ধেয় নেতা।

লেখক। 
 মাহবুবুল আলম হানিফযুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।

[লেখাটি ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকিরের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া]

 

 

অনন্য সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সম্পর্কিত।

আশরাফুল ইসলাম।। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম  ছিলেন একজন বাংলাদেশি রাজনীতিবিদ ও মন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ষষ্ঠ সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি কিশোরগঞ্জ-৩ আসন থেকে সপ্তম ও অষ্টম, কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে নবম, দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

২০১৫ সাল থেকে মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন। এর পূর্বে তিনি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ১লা জানুয়ারি ময়মনসিংহে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা বাংলাদেশের মুজিবনগর অস্থায়ী সরকারের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম।

আশরাফুল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর একজন সদস্য ছিলেন। তিনি ছাত্র জীবন থেকেই রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন। বৃহত্তর ময়মনসিংহের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে সৈয়দ আশরাফুল ব্রিটিশ ভারতীয় সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের শীলা ঠাকুরের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। শীলা লন্ডনে শিক্ষকতা করতেন এবং ২৩ অক্টোবর ২০১৭ সালে তিনি মৃত্যুবরন করেন।

সৈয়দ আশরাফুল, শীলা ঠাকুর ও রিমা ইসলাম।

আশরাফুল-শীলা দম্পতির একমাত্র মেয়ে রীমা ইসলাম, যিনি লন্ডনের এইচএসবিসি ব্যাংকে চাকরি করেন।

২৪ অক্টোবর ২০১৭ সালে সৈয়দ আশরাফুলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি প্রায়ই অসুস্থ হন। তিনি ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

নভেম্বর ২০১৮ সালে তার ফুসফুসের ক্যান্সার ৪র্থ ধাপে পৌঁছে।

২০১৯ সালের ৩রা জানুয়ারি থাইল্যান্ডের ব্যাংককের বামরুনগ্রাদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

৬ জানুয়ারি ঢাকার বনানী কবরস্থানে তাকে সমাহিত করা হয়।

সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম, একটি নাম, একটি ইতিহাস।

রাজনীতির প্রবাদপুরুষ সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্মৃতির প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!