1. admin@chunarughat24.com : admin :
শিরাজির বাগ-ই এরামঃ ইরানের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের বাগিচা - চুনারুঘাট
সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৪:৫৪ অপরাহ্ন

শিরাজির বাগ-ই এরামঃ ইরানের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের বাগিচা

সাদ্দাম আহমেদ
  • সময় : শুক্রবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২১
  • ১৩৬ বার পঠিত
শিরাজির বাগ-ই এরামঃ ইরানের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের বাগিচা

সাদ্দাম আহমেদ।। ইরানিদের বিশ্বাস ও মূল্যবোধের মাঝে বাগিচা সবসময়ই বেহেশতের মতোই একটি পবিত্র স্থান হিসেবে সম্মান ও মর্যাদাময়। এ কারণে সেই ইসলামপূর্ব কাল থেকেই ইরানে বাগিচা নির্মাণের ধারা প্রচলিত হয়ে আসছে। সৌন্দর্যপ্রিয় ইরানি জাতির তৈরি করা বাগানগুলো যুগে যুগে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের মানুষকে করেছে মোহিত ও বিস্মিত। এগুলোর একটি বাগ-ই এরাম। এটি একটি বিশাল উদ্যান।

এরাম গার্ডেন একটি ঐতিহাসিক পারস্য বাগান, যা ইরানের শিরাজে অবস্থিত। এরাম শব্দটির আরবী শব্দ “ইরাম” পবিত্র কোর’আন শরীফে যার অর্থ দেওয়া আছে বেহেশত বা জান্নাত। বেহেশতের মতন সুন্দর বিধায় এরাম গার্ডেনকে “বেহেশত” বলা হয়।

‘বাগ-ই এরাম’ অর্থ ‘বেহেশতের বাগান’। এর সৌন্দর্য আর নান্দনিক আকর্ষণই একে বেহেশত বা স্বর্গের সদৃশ করেছে। এই বাগান ও বাগানের অভ্যন্তরে অবস্থিত কাভাম হাউজ ফারস প্রদেশের খোশক নদীর উত্তর তীরে অবস্থিত।

২০১১ সালে প্যারিসে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির পঁয়ত্রিশতম বৈঠকে ইরানের ৯টি বাগান বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে বাগ-ই এরামও রয়েছে।

ইরানের এ ঐতিহাসিক উদ্যানের অবস্থান ফার্স প্রদেশের শিরাজ নগরের কুশ্ক্ নদীর বাম তীরে। সুন্দর ফুল, নির্মল হাওয়া আর দৃষ্টিনন্দন সাইপ্রেস বৃক্ষ উদ্যানের প্রধান পর্যটক-আকর্ষণ।

উদ্যানের অভ্যন্তরে স্থাপিত দু’টি মুক্ত স্থাপনা বা ভবন একে করেছে আরো বৈশিষ্ট্যমণ্ডিত, যেন সে রূপকথার ভুবনমোহিনী কোনো পরী।

তিহাস কাভাম হাউজ প্যাভিলিয়ন ও বাগান উভয়ই খ্রিষ্টাব্দ নবম শতাব্দীর মাঝামাঝি ইলখানাতে বা একজন পারস প্রদেশের কাশকাই উপজাতি সর্বোচ্চ প্রধানের দ্বারা স্থাপিত। বাগানের মূল বিন্যাস ও তার তিন-চতুর্থাংশ ফার্সি জান্নাতের বাগান গঠন সম্ভবত সেলজুক দ্বারা অষ্টাদশ শতাব্দীতে স্থাপিত একটি এলাকার সাথে মিল ছিল বলে মনে করা হয় এবং পরবর্তীতে এর নামকরণ করা হয় বাগ-ই-শাহ, যা ফার্সিতে “রাজার বাগান”।

খ্রিষ্টাব্দ অষ্টাদশ শতাব্দীতে নেদারল্যান্ডের এক পর্যটক যার নাম “কর্নেলিয়াস ডি ব্রাইউয়ুন এই বাগান সম্পর্কে একটি বর্ণনা লেখেন।

১৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এই বাগানের গঠন সংশোধিত, পরিবর্তিত বা পরিবর্ধিত হয়। বিভিন্ন সময়ের শাসক বা প্রদেশ প্রধান দ্বারা এর পুনঃস্থাপন অথবা ধরন পরিবর্তিত হয়।

কাভাম হাউজটি দক্ষিণমূখী লম্বা অক্ষে অবস্থিত। এই বাড়িটি একজন স্থানীয় স্থপতি দ্বারা নকশা প্রণীত হয়, যার নাম হাজী মোহাম্মদ হাসান। এই বাড়ীটির দুই তলায় মোট ৩২ কক্ষ আছে, যা কবি হাফিয -এর বিভিন্ন কবিতা খচিত টাইলস দ্বারা সুশোভিত। যান্দ ও কাজার –এর শাসনামলে এর গঠনগত দিক থেকে নতুনত্ব আনা হয়।

১৯৬৫ সালে, ইরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ অ্যাম্বাসেডর, স্যার ডেনিস রাইট শিরাজ আসাদোল্লাহ ইউনিভার্সিটির আচার্য কর্তৃক আমন্ত্রিত হয়ে এই এরাম গার্ডেনের অগলিভি’র রাজকুমারী অ্যালেক্সান্দ্রা একটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন। পাহ্লভী যুগে এই স্থানটি সংরক্ষণ ভার অর্পিত হয় পাহ্লভী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর।

সে সময় এই স্থানটি আইন অনুষদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কাভাম হাউজে “এশিয়া ইনিস্টিটিউট” স্থাপিত হয়।

বর্তমানে এরাম গার্ডেন ও কাভাম হাউজ শিরাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের “শিরাজ বোটানিক্যাল গার্ডেন” (স্থাপিত ১৯৮৩) এর অধীনে অবস্থিত। ঐতিহাসিক বাগান ও কাভাম হাউজ জাদুঘর জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

বর্তমানে এই স্থানটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ইউনেস্কো ও ইরানের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংগঠন দ্বারা সংরক্ষিত। আসলে এটি বিশ্বসম্পদ। দুনিয়ার অনেক মানুষেরই এ বাগানের প্রতি আকর্ষণ দেখা যায়।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!