1. admin@chunarughat24.com : admin :
এই ঔপনিবেশিক পড়াশোনাটা থাকবে কিনা ভাবা যায়! - চুনারুঘাট
সোমবার, ১৮ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন

এই ঔপনিবেশিক পড়াশোনাটা থাকবে কিনা ভাবা যায়!

আরণ্যক আচার্য
  • সময় : বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১
  • ২৬ বার পঠিত
এই ঔপনিবেশিক পড়াশোনাটা থাকবে কিনা ভাবা যায়!
ছবিঃ সংগ্রহ।

আরণ্যক আচার্য।। ২০২১ এর এসএসসি পরীক্ষায় অটো পাশ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে আলোচনা হচ্ছে। ইতোমধ্যে স্কুল- কলেজ- পরীক্ষা- ফলাফল নিয়ে কি হয়েছে এবং হচ্ছে সেসব আর বলার অপেক্ষা রাখে না। শিক্ষা যখন জাতীয়করণ হয়নি তখন থেকেই অর্থাৎ, আমাদেরও আগে থেকেই বোধ হচ্ছে, এই ঔপনিবেশিক চাকরি দেওয়া নির্ভর পড়াশোনাটাই উঠে যাবে খুব তাড়াতাড়ি।

পড়াশোনা করে যে সব মানুষ চাকরি জোটাতো, নয়তো সমাজকর্ম করে বেড়াতো, এবং কর্পোরেট/রাষ্ট্র তাদের শ্রম চুষে গায়ে-গতরে বেড়ে উঠতো, এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) পরিকাঠামোয় সেই শ্রম কিংবা মেধা নির্ভর কাজটাই আর থাকবে না। চাকরি দেওয়ার যে মরীচিকা তৈরি করেছিলো পুঁজি, মেধা বিকাশের যে মুলো ঝুলিয়েছিলো সমাজ, সেসবের কোনো অস্তিত্বই হয়তো আর থাকছে না। সে সেই পড়াশোনা করে আর করবে কী? চুরি ডাকাতি রাহাজানি মোসাহেবি করার জন্য তো পড়াশুনার দরকার নেই।

ডিম আগে না মুরগি আগে- সেই উত্তর এখন অনেক সহজ। আজ প্রতি বছর (আনুমানিক) প্রাথমিকে ভর্তি হয় ২৫+ লক্ষ, উচ্চমাধ্যমিক দেয় ১৩+ লক্ষ, মাধ্যমিক দেয় ৮+ লক্ষ, স্নাতকে বসে ৮০ হাজার, স্নাতকোত্তরের হিসেব নেই। অর্থাৎ প্রাথমিকে ভর্তি হওয়ার সংখ্যার ৩ শতাংশ স্নাতক পরীক্ষায় বসে। পাস করে কতো জানি না। সে পরিসংখ্যান পাই নি, পাওয়ার সুযোগ নেই, অলিতেগলিতে এখন বিশ্ববিদ্যালয়, পায়ে পায়ে উচ্চশিক্ষিত।

এই পাস করাদেরই রাষ্ট্র, কর্পোরেটে চাকরি দেওয়া হয়। এদের নিয়েই ঢাবি, চবি, হাবি, জাবি, আইআইটি, নাইটি, ডাক্তারি, ইঞ্জিনিয়ারিং, টোয়েফেল, অক্সফোর্ড, বিসিএস, পিএসসি, অটিজম ইত্যাদির কাঠামোর স্বপ্ন রচনা। এরাই কর্পোরেট/রাষ্ট্র কাঠামোর শিরদাঁড়া।

ওই শিরদাঁড়ারাই ঔপনিবেশিক রাষ্ট্রের মানুষ উচ্ছেদের, জমি দখলদারির সংবিধান তৈরি করেন। অর্থাৎ কর্পোরেট রাষ্ট্রযন্ত্র চালানো এবং লাভের সিন্দুক ভরার কাজ করায় এইসব উচ্চ স্নাতক দিয়ে।

তার কল কারখানা চালাতে শ্রমিক লাগে, অফিস চালাতে কেরানী- মুন্সি লাগে, লাভের হিসেব করার জন্যে দালাল অর্থাৎ ম্যানেজার, শিক্ষক লাগে, শ্রমিক যাতে ঘাড়ত্যারামি না করতে পারে সেজন্য উচ্চশিক্ষিত কোতোয়াল বা সেনাপতি লাগে।

কিন্তু ভদ্রবিত্তকে চাকরি দেওয়া ভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থার এই ইকো সিস্টেমটাই বদলে যায়? ১৭৮০ থেকে ২০২০ অবদি প্রায় ২৫০ বছর ধরে পুঁজি যে ইকো সিস্টেমে কারখানা, রাষ্ট্র চালিয়েছে, প্রতিবাদীকে কখনো লেবেঞ্চুষ ধরিয়েছে, কখনো ডান্ডা মেরেছে, ফাঁসিতেও চড়িয়েছে, সেই ব্যবস্থার মৌলক কাঠামোর একটা শ্রমকেই প্রায় নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, কারখানার ফ্লোর আর দপ্তর থেকে, তাহলে প্রতি বছর যে ৮০ হাজার চাকরি পাওয়ার জন্যে পাস করতে চায়, তাদের কী হবে? খুব বেশি হলে দালাল-ম্যানেজার তৈরির কারখানা বা পড়াশোনার জায়গা থাকবে আর সব ভ্যানিস- ভোটার হয়ে যাবে।

প্রতিবছর যে ২৪ লক্ষ ২০ হাজার পড়াশোনা উদ্বৃত্ত হল? ধরে নিই তাদেরই ক্ষুদ্র একাংশ এই করোনার পরে শহর থেকে গ্রামের দিকে হেঁটে আসা মানুষ।

পাড়ার দোকানে বসার জন্যে, ছোট ব্যবসা চালাবার জন্যে এই পড়াশোনার দরকার নেই, মাঠে খাটার জন্যে অন্য জ্ঞানচর্চার দরকার, একজনও পাসকরা কৃষি প্রযুক্তিবিদ মাসে যে অর্থ সরকার বা কর্পোরেটের থেকে রোজগার করেন, তাকে যদি মাঠে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে তার একাংশও তুলতে পারবেন না। তারা থোড়াই এদের ওপর নির্ভর করে।

শ্রম নির্ভর এই পড়াশুনার কাঠামোর কী হবে? আপনার হাতে আর এক দশক পরে মেকলিয় পড়াশোনা থাকবে কীনা ভাবুন। ভাবুন মধ্যবিত্ত।

লেখকঃ লুকফোকার।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!