1. admin@chunarughat24.com : admin :
কোভিডঃ উপসর্গ মাত্র। হার্ড ইমিউনিটিঃ একটি রাজনৈতিক বক্তব্য
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৪:০০ পূর্বাহ্ন

কোভিডঃ উপসর্গ মাত্র। হার্ড ইমিউনিটিঃ একটি রাজনৈতিক বক্তব্য

আরণ্যক আচার্য
  • সময় : বুধবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০২১
  • ১২৩ বার পঠিত

আরণ্যক আচার্য।। যে উন্নয়ন বাঙালিকে ছিয়াত্তর বিয়াল্লিশ এবং তার মাঝে আরো বহু গণহত্যা দিয়েছে, চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত করে তার জমির অধিকার ছিনিয়ে নিয়েছে, ২৫০ বছর ধরে লুঠেরা ইউরোপের উন্নয়ন করেছে, লুঠের সাম্রাজ্য বজায় রাখতে নবজাগরণ দিয়েছে, সেই উন্নয়নের পথে হেঁটে এর থেকে অন্য কিছু কী আমাদের পাওনা ছিলো?

যেটাই আমাদের পাওনা ছিলো, সেটাই আমরা পেয়েছি, ইউরোপ আমেরিকা নির্ভর কেন্দ্রিভূত অর্থনীতি, ২৫০ বছরের তৈরি ইসলামোফোবিয়া, অধমর্ণ হিসেবে বিশ্ববাণিজ্যে কাঁচামাল এবং শিক্ষিত শ্রমিক সরবরাহ করার দেশ হিসেবে বিকাশ লাভ।

নেহেরু ফোর্ড ফাউন্ডেশনকে ডেকে ইউরোপিয় শিল্পায়নের জন্যে সাহায্য চান, তার পরিচালক বলেছিলেন, সারা বিশ্বে আমাদের উপনিবেশ আছে, সেখানে আমরা আমাদেরে বিপুল বিশাল ভর্তুকি নির্ভর কারখানার মাল চালান করি।

ভারতের উপনিবেশ কই যে সে বড় কারখানা করে তার মাল বেচবে? নেহেরু তখন পূর্ব আর উত্তর ভারতকে উপনিবেশ বানান। মোদি এখন গোটা দেশকে গুজরাটের উপনিবেশ বানিয়েছেন। আজও আমরা ইওরোপ আমেরিকার উপনিবেশ হিসেবে কাজ করছি।

ওসব দেশের রোগ হলে, অর্থনীতিতে মন্দা দেখা গেলে, নীতি পরিবর্তন হলে, এদেশে তার প্রভাব পড়বে, আমরা দলে দলে মারা যাবো, এটাই তো স্বাভাবিক।

সমস্যা হল এই আঁচটা এবারে নবজাগরণীয় শিক্ষিত ভদ্রবিত্তের গায়ে লাগছে। একদা যে রাষ্ট্র তাকে ডেকে ডেকে চাকরি দিয়েছে সে তার চাকরি খাচ্ছে, ঔপনিবেশিক রাষ্ট্র তৈরি করায় যে ভদ্রবিত্তের অবদান সব থেকে বেশি, তাদের আর দায় নিতে চাইছে না পুঁজি আর পুঁজির চালক রাষ্ট্র। ফলে মাথার ঘায়ে কুকুর পাগল।

আর হার্ড ইমিউনিটির মধ্যে একটা ইতিহাস লুকিয়ে আছে। আমরা অনেকেই হয়তো জানি- এই লব্জটা মূলত টিকাকরণের আগের সময় থেকে এসেছে। বাংলায় আমরা টিকা দিতাম, এশিয়ার নানান জায়গায় তা চালু ছিল। এবং এটা জেনারের বহু আগে থেকেই বাংলায় ছিল।

জেনার দেখলেন, মানে পশ্চিম দেখলো যারা গরু ইত্যাদি পশুপালের সঙ্গে কাজ করে, বিশেষ করে ভেড়ার পাল চরায়। কেন ভেড়া? যেহেতু ওরা উলের কাপড় ভালো বানাত, তাই প্রচুর ভেড়া পালতো, পশুচারণ একটা বড় পেশা ছিলো।

ইউরোপে যখন গুটি বসন্ত এলাকা কে এলাকা উজাড় করে দিচ্ছে তখন দেখা গেল গরু বা ভেড়ার পালের সঙ্গে যারা থাকেন তাদের কিছুই হয় না। যেমন এদেশেও এটা দেখা গিয়েছিলো। সেখান থেকে জেনার টিকা করল এবং সেই টিকা বিক্রির জন্যে এদেশে টিকাকরণ নিষিদ্ধ করলো।

ইউরোপ গত ২৫০ বছরে এই পশুপালকদের কারখানার শ্রমিক বানিয়েছে, ওদের আর হার্ড ইমিউনিটি নাই। চাইলেও নাই। স্বপ্নই দেখবে।

নেতারা হার্ড ইমিউনিটির নাম করে পশ্চিমের লোকেদের মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে, ভবিষ্যতে আরও দেবে। দিন আনি দিন খাই-এর শরীরের যা প্রতিরোধ ব্যবস্থা, সেটা আতুপুতু করে বেড়ে ওঠাদের নেই। আমাদের শহুরেদের নেই, যারা পশ্চিমের মতো করে সন্তানকে গড়ে তুলেছেন, তারা টুসকিতেই মারা যাবে। আধুনিক চিকিৎসা তাদের বাঁচাতে পারবে না- এটা প্রমানিত। এই সুরক্ষাটা আমাদের দেশে আছে। এটাই হার্ড ইমিউনিটি। এটাই হার্ড-ফ্যাক্ট।

এডওয়ার্ড জেনার (১৭ মে, ১৭৪৯ – ২৬ জানুয়ারি, ১৮২৩) ছিলেন একজন ইংরেজ চিকিৎসক এবং বৈজ্ঞানিক। তিনি গুটিবসন্ত রোগের ভ্যাকসিন আবিস্কারের পথিকৃৎ, যেটি হলো এই পৃথিবীর প্রথম ভ্যাকসিন। ‘ভ্যাকসিন’ এবং ‘ভ্যাকসিনেশন’ শব্দ দুটি এসেছে ভারিওলে ভ্যাকসিনে শব্দ থেকে, যেটি দ্বারা জেনার গরুর পক্সকে নির্দেশ করেছিলেন।

জেনারকে প্রায়শ রোগ-প্রতিরোধ বিদ্যার জনক বলা হয়, এবং এটিও বলা হয় তিনি অন্য যে কারো থেকে বেশি মানুষের প্রাণ রক্ষা করেছেন। জেনারের সময় ব্রিটিশ জনসংখ্যার ১০% গুটিবসন্তে আক্রান্ত হয়ে মারা যাচ্ছিল। যে সংখ্যাটা শুধু শহরেই ছিল ২০% পর্যন্ত বেশি, সংক্রমণ সহজেই হওয়া ছিলো যার প্রধান কারণ।

১৮২১ সালে জেনার, রাজা চতুর্থ জর্জের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে নিয়োগ পান, সাথে সাথে বার্কলের মেয়র ও ‘জাস্টিস অফ দি পিস’ এর পদেও অভিষিক্ত হন।

রয়েল সোসাইটির সদস্য হিসেবে, জীবশাস্ত্রে তিনিই প্রথম কোকিল পাখির ব্রুড পরজীবীতা বিশ্লেষণ করেন।

২০০২ সালে বিবিসি জেনারকে ১০০ গ্রেট ব্রিটন্স এর তালিকায় স্থান দেয়।

লেখকঃ লুকফুকার

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!