1. admin@chunarughat24.com : admin :
পাকিস্তান যদি আমাদের বন্ধু হতে চায় - চুনারুঘাট
মঙ্গলবার, ০৯ মার্চ ২০২১, ১০:১৮ পূর্বাহ্ন

পাকিস্তান যদি আমাদের বন্ধু হতে চায়

আশরাফুল ইসলাম
  • সময় : মঙ্গলবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২১
  • ১৫৭ বার পঠিত
পাকিস্তান যদি আমাদের বন্ধু হতে চায়

আশরাফুল ইসলাম।। মুক্তিযুদ্ধের ৫০তম পূর্তিকালে পাকিস্তান- বাংলাদেশ সম্পর্কের বিষয়টি আবারো আলোচনায় আসছে। অর্ধশতবর্ষ সময়ে দেশদুটিতে অনেক পট পরিবর্তন ঘটেছে, ওলটপালট হয়েছে রাজনীতিতে। কিন্তু গলেনি সম্পর্কের বরফ, পাল্টায়নি সম্পর্ক। ফলে, এগোয়নি কূটনৈতিক যোগাযোগ ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক।

এই সম্পর্কহীনতার কারণের মধ্যে মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে রয়েছে অনেক অমিংমাংসিত বিষয়। মানসিক দূরত্ব থাকলেও, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কার্যত নেই কোনো প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব। বলতে গেলে জনশ্রুতি আর ইতিহাসনির্ভর জাতীয়তাবোধ দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে পাকিস্তান ও বাংলাদেশকে। অথচ দেশ দুটির মধ্যকার সম্পর্ক দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনীতি ও রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারতো।

যদিও ৫০ বছরে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। আন্তর্জাতিক কোনো ইস্যুতে প্রকট বিরোধিতার নজীরও তেমন একটা নেই। বরং মাঝে মাঝে সম্পর্ক উষ্ণ হয়েছে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারের আমলে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই দুই দেশের সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে নতুন টানাপড়েন শুরু হয়।

এ অবস্থায়, সম্পর্কে ঝালাই দিতে কে এগিয়ে আসবেন? পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী, না কি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী? রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, যেহেতু বাংলাদেশের আবেগে আঘাত বেশী, তাই পাকিস্তানকে এগিয়ে আসা উচিত। আবার, রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জন্যও ব্যাপারটা আগ্রহের সাথে নেওয়া দরকার।

আবার ভারত- পাকিস্তান যদি রাজনৈতিক সামরিক সম্পর্কের নাজুকতার মধ্যেও ব্যবসা- বাণিজ্য চালিয়ে যেতে পারে, তবে বাংলাদেশও পারবে ওই উভয় দেশের সাথে ব্যবসা- বাণিজ্য চালাতে। চালানো দরকারও। পৃথিবীর দেশে-দেশে যুদ্ধবিগ্রহ লেগে থাকলেও কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের উপর প্রভাব পড়ে না। কিন্তু ৫০ বছরেও পাকিস্তান- বাংলাদেশ সম্পর্ক কোনো সমতায় আসতে পারেনি।

অথচ, পশ্চিমাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক খবরদারী থেকে রেহাই পেতে হলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দক্ষিণ এশিয়া তথা আঞ্চলিক বাজারে মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন। এই দুই দেশে ধর্মীয় মিল থাকলেও, জাতীয়তাবাদ বোধে বিস্তর অমিল থাকায় সম্ভব হচ্ছে না বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক।

তাই প্রশ্ন থেকে যায়, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের রাজনীতিবিদেরা সকল বাধা অতিক্রম করে নতুন প্রজন্মকে ভিন্ন দিকে নিতে পারবেন কি? এই মুহূর্তে হাত বাড়াবেন কি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন সরকার? সাদরে গ্রহণ করবে কি শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ?

সম্প্রতি পাকিস্তান- বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে ইতিহাসের গবেষক আলতাফ পারভেজের লেখা গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম সাউথ এশিয়ান মনিটর। গত রবিবারে (২৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত প্রবন্ধটিতে দুই দেশের সম্পর্কের বাধা- বিপত্তি ও সম্ভাবনাময় বিভিন্ন দিক নিয়ে মতামত প্রকাশ করেন তিনি।

সম্পর্ক উন্নয়নের জন্য ‘সম্পর্কের নবায়ন দরকার আগামীর জন্য’- কথাটি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১৯৭০ এ এই দুই দেশের মোট জনসংখ্যা ছিল ১৩ কোটি। এখন প্রায় ৪০ কোটি হবে। এই বিশাল জনসংখ্যার ৮৮ ভাগই একাত্তর পরবর্তী প্রজন্ম, যারা একাত্তর দেখেনি। অথচ একাত্তরই বিষয়।

পাকিস্তানের ৮৯ ভাগ মানুষের বয়স ৫০ এর কম। বাংলাদেশের ৫০ এর কম বয়সী মানুষ আছেন ৮৬ ভাগ। এই হিসেবে একাত্তরদর্শী বা যুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী মানুষ আছেন অতি অল্পসংখ্যক। ফলে সম্পর্ক বিচ্ছেদের ফল ভুগছে উভয় দেশের মোট তিন- চতুর্থাংশ মানুষ। এই পরিসংখ্যান, উভয় রাষ্ট্রের রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকার চিহ্নও বহন করে।

দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ক গবেষক আলতাফ পারভেজ আরো উল্লেখ করেন, কিন্তু একাত্তর নিয়ে দুই দেশের মধ্যে রয়েছে জাতীয়তাবোধের বিষয়। বছর ৫০ পেরিয়ে গেলেও ওই বোধটা সবসময় তরুণ। বিশেষ করে, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশের মানুষের জাতীয়তাবোধের চেতনা যোগায়। আর পাকিস্তানের প্রতি ঘৃণা বাড়ায়।

তাই একাত্তরের অমীমাংসিত বিষয়ের সহজ সাবলীল সমাধান হলে সম্পর্কের উষ্ণতা বাড়তে পারে। ভু- রাজনৈতিক ক্ষেত্রে আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্ক রাষ্ট্রগুলোর আভ্যন্তরীণ উন্নয়নেও ব্যাপক অবদান রাখে। সম্পর্কের গুরুত্ব বুঝতে আমাদের পররাষ্ট্রনীতির মূলকথার উল্লেখ করা যায়। যা হচ্ছে- ‘সকলের সাথে বন্ধুত্ব, কারো সাথে শত্রুতা নয়’।

বলাবাহুল্য, বিগত দশকগুলোয় অপ্রিয় বিষয়গুলো আড়ালে রেখে সম্পর্ক গড়ার পথ খুঁজা হচ্ছিলো। কিন্তু কাজ হয়নি। কারণ, মাঝখানে একাত্তর।

একাত্তর ভুলে যাওয়া যাবে না। ভুলে যাওয়া উচিতও না। কিন্তু সামনে এগোনো যায়। দুই দেশের অন্তত ৩০ কোটি তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যতকে প্রাধান্য দিয়ে স্বস্তিদায়ক একটা সম্পর্ক তৈরি করা যায়। আধুনিকতার প্রতি তরুণ প্রজন্মের উদার মনোভাব বন্ধুত্বের সেতুবন্ধনের উপযোগী হবে বলেই মনে হয়।

দেখা যাচ্ছে, চীন- ভারত প্রতিদিন যুদ্ধের মুখোমুখি অবস্থানে। হাতাহাতিতে সেনা নিহতের ঘটনা ঘটছে দেশ দুটিতে। তবুও, বিবদমান দেশ দুটির মধ্যে এ বছরেই ১০৯ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা হয়েছে। আর পাকিস্তান- বাংলাদেশ গত বছর লেনদেন করলো আনুমানিক ৭ শ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। আর্থ- বাণিজ্যিক আনাগোনা অন্যান্য সামাজিক ক্ষেত্রকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত করতে পারে।

পৃথিবীর সব দেশ এখন বিনিয়োগ- বান্ধব পরিবেশিকরণে ব্যস্ত। এছাড়া, সবকিছু মিলিয়ে বিশ্বে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতেও প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমুহের সাথে বন্ধুসুলভ সুসম্পর্ক থাকা প্রয়োজন।

সামাজিক- সাংস্কৃতিক সম্পর্ক, পারস্পরিক ছাড় ও আদান- প্রদান মনোভাব থেকে বিবদমান বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছতে পারলে বন্ধুত্বের নতুন দিগন্ত প্রসারিত হতে পারে। উম্মুক্ত হতে পারে, পাকিস্তান- বাংলাদেশ পারস্পারিক সম্পর্কের ইতিবাচক অনেক দিক।

।চলবে।

পরবর্তীতেঃ- বাংলাদেশ- পাকিস্তানের সম্পর্কের বাণিজ্যক ও বাজারমূল্য।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!