1. admin@chunarughat24.com : admin :
নির্বাচনের ইতিহাস
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন

নির্বাচনের ইতিহাস

শুহিনুর খাদেম
  • সময় : শনিবার, ৩০ জানুয়ারি, ২০২১
  • ১৪২ বার পঠিত
নির্বাচনের ইতিহাস

নির্বাচন হলো সিদ্ধান্ত গ্রহণের এমন একটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে জনগণ প্রশাসনিক কাজের জন্য একজন প্রতিনিধিকে বেছে নেয়। সপ্তদশ শতক থেকে আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রে নির্বাচন একটি আবশ্যিক প্রক্রিয়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনের মাধ্যমে আইনসভার পদগুলি পূরণ করা হতে পারে, কখনও আবার কার্যনির্বাহী ও বিচারব্যবস্থা ছাড়াও আঞ্চলিক এবং স্থানীয় সরকারে প্রতিনিধি বাছাইও নির্বাচনের মাধ্যমে করা হয়ে থাকে।

এই নির্বাচন প্রক্রিয়া আবার প্রয়োগ হয় বহু বেসরকারী সংস্থা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানেও। ক্লাব বা সমিতি থেকে আরম্ভ করে বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও কর্পোরেশন বা নিগমেও এই প্রক্রিয়ার ব্যবহার করা হয়। মোটকথা, আধুনিক গণতন্ত্রে প্রতিনিধি বাছাইয়ের উপায় হিসেবে নির্বাচনের সার্বজনীন ব্যবহার করা হচ্ছে।

১৯২০ সালে ব্রিটিশ ভারতে ইম্পেরিয়াল লেজিসলেটিভ কাউন্সিল ও প্রাদেশিক কাউন্সিলের সদস্য মনোনীত করার জন্য সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিলো। এটি ছিল ব্রিটিশ ভারত তথা ভারতীয় উপমহাদেশের ইতিহাসে সর্বপ্রথম নির্বাচন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চে অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম নির্বাচন বলা যায়।

নির্বাচনের ইতিহাসঃ

গণতন্ত্রের আদি চেহারায় এথেন্সে নির্বাচনকে যেভাবে ব্যবহার হতো তার তুলনায় এটি অনেকটাই বিপরীত। নির্বাচনকে শাসকগোষ্ঠীর একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা হতো এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার বেশিরভাগ দপ্তরই পূরণ করা হতো বাছাইয়ের মাধ্যমে। এই নির্বাচন দায়িত্ব ভাগ করে দেওয়া বা অ্যালটমেন্ট নামেও পরিচিত ছিল, এর মাধ্যমেই পদাধিকারীদেরও বেছে নেওয়া হতো।

যেখানে নির্বাচনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা নেই সেখানে সুষ্ঠু ব্যবস্থা চালু করা অথবা বর্তমান ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা ও কার্যকারিতাকে আরো বাড়ানোর প্রক্রিয়াকেই নির্বাচনী সংস্কার বলে বর্ণনা করা হয়।

যতদূর জানা যায়, ৫০৮ খ্রিস্টপূর্বে প্রাচীন গ্রিসে নির্বাচনের দ্বারা গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ধারণ করে। তবে এ সময়ের নির্বাচনে কেবল সম্ভ্রান্ত শ্রেণির মানুষেরা ভোট প্রদান করতে পারতো। প্রাচীন ভারতেও খ্রিস্টপূর্ব ষষ্ঠ শতাব্দীতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনব্যবস্থা ছিলো।

ওই সময়ে সভাসদদের দ্বারা রাজা নির্বাচিত হতো এবং সভাসদদের মতামতের ভিত্তিতে রাজা রাজ্য শাসন করতেন। কালক্রমে এ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার রূপান্তর ঘটতে থাকে।

গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা পায় নির্বাচনী ব্যবস্থার দ্বারা। এই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা বা নির্বাচনী ব্যবস্থা কিন্তু অতি প্রাচীন ব্যবস্থা। নির্বাচনী ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, প্রাচীন গ্রিস ও রোমে শাসক নির্বাচিত হতো প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে। পুরো মধ্যযুগে এ প্রথা প্রচলিত ছিলো।

প্রাচীন ভারতবর্ষে বৈদিক যুগেও উপজাতীয় গোষ্ঠীর নেতা তথা রাজা নির্বাচিত হতেন নির্বাচনের মাধ্যমে। অবশ্য এসব নির্বাচনে সাধারণ ভোটারদের অংশগ্রহণের প্রমাণ খুব একটা নেই।

সাধারণত রাজার সভাসদ, সমাজের ধনিক শ্রেণি, সম্ভ্রান্ত গোষ্ঠীর প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের প্রকাশ্য প্রত্যক্ষ ভোটেই শাসক বা রাজারা নির্বাচিত হতেন এবং শাসক বা রাজারা সভাসদদের মতামতের ভিত্তিতেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতেন। ওই সময়ের নির্বাচন ছিলো স্বচ্ছ ও অবাধ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতিমুক্ত।

পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিনিধিত্বশীল সরকারব্যবস্থায় সপ্তদশ শতাব্দী থেকে বর্তমান নির্বাচন পদ্ধতির শুরু উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপে। তবে ওই সময়েও আগের মতোই সম্ভ্রান্ত, ধনিক ও শাসক শ্রেণির পুরুষরাই কেবল ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারতো।

নির্বাচনের ফলাফল ও এ সংক্রান্ত অন্যান্য পরিসংখ্যান নিয়ে গবেষণাকে (বিশেষ করে আগাম ফলাফল আন্দাজ করার বিষয়টি) সেফোলজি বলে। নির্বাচিত করা-র মানে হলো “বাছাই করা অথবা একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া” এবং কোনো কোনো সময় অন্য ধরনের ব্যালট ব্যবহার হলেও যেমন গণভোটে হয়ে থাকে, তাকেও নির্বাচন হিসেবেই উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই গণভোট ব্যবস্থা রয়েছে। গণতান্ত্রিক দিক থেকে এটি সম্ভাব্যরূপে ঢুকে গেল। তাই বলা যায় যে নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সভ্যতার ইতিহাসের প্রাচীন কাল থেকেই প্রাচীন গ্রিস ও প্রাচীন রোমে নির্বাচনের ব্যবহার হয়ে আসছে এবং গোটা মধ্যযুগে পবিত্র রোমান সম্রাট ও পোপের মত শাসক বাছাই করতেও নির্বাচনের ব্যবহার হতো। প্রাচীন ভারতে নির্বাচনের মাধ্যমে প্রজারা বাছাই করতেন রাজাদের। প্রাচীন ভারতের খালিফ, উঠমান এবং আলি। মধ্যযুগের গোড়ার দিকে রশিদুন খলিফৎ এবং বাংলার মধ্যযুগের গোড়ার দিকে পাল রাজাদের মধ্যে গোপালকে বাছাই করতে এই নির্বাচন করা হয়েছিল।

তবে আধুনিক ‘নির্বাচন’ হলো জনগণের ভোটে সরকার নির্বাচন। সপ্তদশ শতাব্দীর একেবারে শুরুর দিকে উত্তর আমেরিকা এবং ইউরোপে যখন প্রতিনিধিত্বমূলক সরকার গঠনের ধারণা এলো তার আগে পর্যন্ত অবশ্য জনসাধারণকে দিয়ে সরকারী পদাধিকারী বাছাইয়ের এই আধুনিক ‘নির্বাচন’ বিষয়টির আবির্ভাবই হয়নি।

নির্বাচনের ইতিহাসের অনেকটা জুড়েই রয়েছে ভোটাধিকারের প্রশ্নগুলি, বিশেষ করে সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলির ভোটাধিকার। উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের সংস্কৃতিতে প্রভাবশালী গোষ্ঠী ছিল পুরুষরাই, নির্বাচকমণ্ডলীতেও তাই এদেরই প্রাধান্য থাকতো, অন্যান্য বহু দেশেও এই একই ধারা চলে আসছিলো।

গ্রেট ব্রিটেন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো দেশগুলিতে শুরুর দিকের নির্বাচনগুলিতে জমিদার অথবা শাসক শ্রেণীর পুরুষদের প্রাধান্য ছিল। ১৯২০ সাল পর্যন্ত অবশ্য পশ্চিম ইউরোপের সমস্ত দেশ এবং উত্তর আমেরিকার গণতন্ত্রে সর্বজনীনভাবেই পুরুষ ভোটাধিকার চালু ছিলো এবং তার পর থেকেই বহু দেশ মহিলাদের ভোটাধিকার দেওয়ার বিষয়ে চিন্তাভাবনা শুরু করেছিল।

পুরুষদের সর্বজনীন ভোটাধিকারের কথা আইনগতভাবে সিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অনেক সময়েই অবাধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বাধা অন্তরায় সৃষ্টি করতো।

আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নির্বাচন শাসক ও জনপ্রতিনিধি বাছাইয়ে জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলনের প্রধান উপায় বলে বিবেচিত হয়ে থাকে।

তথ্যসুত্রঃ উইকিপিডিয়া।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!