1. admin@chunarughat24.com : admin :
রবিবার, ০৭ মার্চ ২০২১, ০৫:১৫ অপরাহ্ন

পরিচ্ছন্ন শহর সুনাগরিকতার সৌন্দর্যঃ প্রসঙ্গ চুনারুঘাট

আশরাফুল ইসলাম
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২১
  • ৭৮ বার পঠিত
পরিচ্ছন্ন শহর সুনাগরিকতার সৌন্দর্যঃ প্রসঙ্গ চুনারুঘাট
ছবিঃ গ্রিনল্যান্ড পার্ক। রানীগাঁও। চুনারুঘাট।

এক কথায় বলা যায়, উন্নত দেশ, শহর বা নগর মানেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ঝকঝকে, সাজানোগুছানো দেশ বা শহর। ধর্মে পরিচ্ছন্নতায় কতোটা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এক কথায় বলা হয়েছে- পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অঙ্গ। ধর্ম মানেই পবিত্রতা স্নিগ্ধতা, আর এর পূর্বশর্ত হচ্ছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা।

এশিয়ায় সেরা দেশ হিসেবে কোনো দেশকে যদি উল্লেখ করতে হয় বলতে হয়- জাপান, সিঙ্গাপুর, দক্ষিণ কোরিয়ার কথা বলা হবে। সেরা মানে সেরা। এমনকি বিশ্বের সেরা, আধুনিক ও উন্নত দেশ হিসেবেও এ দেশগুলোর নাম পাওয়া যাবে। পরিচ্ছন্নতায়ও বিশ্বের সেরা দশটি দেশের তালিকায় পাওয়া যাবে এশিয়ার এই দেশগুলোকে।

অনেকেরই হয়তো জানা, ওয়ার্ল্ড ক্লিনেস্ট ভিলেজ বা বিশ্বের সেরা গ্রামের তকমা পাওয়া গ্রামটি আমাদের প্রতিবেশী ভারতে।  বিখ্যাত শিলং শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে ভারতের ছোট্ট গ্রাম মাওলিনং।

গ্রাম বললেও পৃথিবীর যেকোনো স্থানের সাথে তুলনা করলে একে সর্বাধুনিক একটি স্থান বলে মেনে নিতে হবে। প্লাস্টিকের যেকোনো সামগ্রী এখানে এককথায় নিষিদ্ধ। পরিচ্ছন্নতা রক্ষার্থে পর্যটকদের জন্য রয়েছে কড়া বার্তা। রাস্তাঘাট ঝকঝকে তকতকে, ময়লা আবর্জনার দেখা পাওয়া মুশকিল। নিজে চাইলেও সেখানে আবর্জনা তৈরি করতে পারবেন না।

২০০৩ সাল থেকে বিশ্বের সবচেয়ে পরিচ্ছন্ন গ্রামের স্বীকৃতি পাওয়ার পর থেকে খ্যাতির বিড়ম্বনায় ভুগলেও স্বকীয়তা ধরে রাখছে গ্রামটি। শুরু থেকেই যেমন ছিল স্বেচ্ছাসেবী ব্যবস্থাপনা, তেমনই আছে। দর্শনার্থীদের আনাগোনা বাড়ার পর থেকে অনেক কাজও সেখানে বেড়ে গেছে।

অবশ্য এ বিড়ম্বনা একদিকে লাভজনক বিষয়। সারা বছর পর্যটকদের ভিড় লেগে থাকায় একে ঘিরে পর্যটন সম্ভাবনাও বাড়ছে। গড়ে প্রতিদিন ২৫০ জন পর্যটক এ গ্রামে আসেন মুগ্ধ হতে। মাওলিনং গ্রামটি নিয়ে গর্ব বোধ করেন ভারতীয়রা।

অথচ ২০০৩ সালের পূর্বে মেঘালয় রাজ্যের এই প্রত্যন্ত গ্রামটিতে কোনো সড়ক ছিলো না। যেতে হতো পায়ে হেঁটে। এখন গ্রামটি পর্যটকমুখর এক আকর্ষণীয় স্থান। এর সৌন্দর্য একে খ্যাতি দিয়েছে, পাশাপাশি অর্থনৈতিক- সামাজিক নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি তো আছেই। এখন গ্রামটিকে আর উন্নত বিশ্বে যেতে হয় না, উন্নত বিশ্ব সেখানে আসে।

বিস্তারিত ভূমিকা দেওয়ার কারণ হচ্ছে, আমরা দেশের সাথে তাল মিলিয়ে অন্তত ৪০ বছর ধরে যোগাযোগ ব্যবস্থার সুযোগ পেয়ে আসছি। বিশ্বরোড, এশিয়ান হাইওয়ে যা ই বলা হোক না কেনো বাংলাদেশের বিখ্যাত উপজেলা হিসেবেই স্বীকৃত ছিলো। রাজধানীর সাথে বলতে গেলে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা এখানকার শিক্ষা সংস্কৃতি ও রাজনীতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।  ঐতিহ্য নিয়ে আজ কোথায় আছি তা দেখতে চোখ রাখুন আশেপাশে যেকোনো স্থানে।

আমাদের ঐতিহ্য আমাদের বিকাশ আমাদের এক টুকরো পরিচ্ছন্ন পরিবেশ দান করতে পারেনি। অথচ, বিকাশ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আর বিকশিত সমাজের ছবি ফোটে উঠবে পরিবেশিক সৌন্দর্যে অর্থাৎ পরিচ্ছন্নতায়।

হোক দুর্গম বা বিচ্ছিন্ন, তবু আমরাও একটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন একটি গ্রাম কিবা শহর চাই। যে গ্রাম বা শহর চাই, সেখানে সৌন্দর্য যেনো কখনোই অনুপস্থিত না থাকে। কাঙ্ক্ষিত বাসস্থান কিভাবে হবে বা আমরা কেমন গ্রাম বা শহর চাই?

প্রসঙ্গপূর্বে বলা যায়, হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার কথা। ভারতের সীমান্তঘেঁষা এই উপজেলার আয়তন ৪২৭ বর্গকিলোমিটার। বিশ্বের ক্ষুদ্রতম ১০ দেশের সাথে তুলনা করলেও চুনারুঘাট উপজেলা আয়তনে অনেক বড়। সব মিলিয়ে উপজেলা অঞ্চলটি স্বর্গতুল্য। তুলনা করা যায় যে কারো সাথে।

ক্ষুদ্রতম ১০টি দেশের মধ্যে বড় দেশগুলো হচ্ছে- মাল্টা (৩১৬ ব কিমি), মালদ্বীপ (২৯৮ ব কিমি), সেন্ট কিটস এন্ড নেভিস (২৬১ ব কিমি) মার্শাল দ্বীপপুঞ্জ (১৮১ ব কিমি), লিশটেনস্তাইন (১৬০ ব কিমি), স্যান ম্যারিনো (৬১ ব কিমি)।

আবার দেশগুলো সবচেয়ে ছোট হলেও এদের পরিচিতি বিশ্বব্যাপী। টুভ্যালু, নাউরু, মোনাকো ও ভ্যাটিকান সিটি। যেসব দেশের আয়তন ২৬ থেকে আধা বর্গকিলোমিটারের মধ্যে।

প্রাকৃতিক সম্পদ এবং প্রকৃতি যদি কোনো অঞ্চলের সম্পদ হয়ে থাকে, তাহলে চুনারুঘাট একটি সম্পদশালী অঞ্চল।  যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর দিক থেকে দেশের একটি অগ্রসরমান উপজেলা। এখানে সর্বাধুনিকতা যেমন আছে তেমনি আছে পাহাড় ঘেরা গভীর অরণ্যের অভয়ারণ্য। শিক্ষাদীক্ষা সংস্কৃতি ধর্ম ঐতিহ্যে ভরপুর একটি উপজেলাকে বিশ্বের যেকোনো গ্রাম শহর কিংবা দেশের সাথে তুলনা করতে পারতাম।

উল্লেখ্য, সবচে’ ছোট দেশগুলোর মধ্যে মাল্টা, মালদ্বীপ, টুভ্যালু, নাউরুতে চাকরি বা উচ্চশিক্ষায় যাওয়ার সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন বিজ্ঞাপন দেখে থাকলে এসব দেশের অবস্থান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। বিশেষ করে মালদ্বীপ বাংলাদেশী শ্রমিকদের পুরনো ঠিকানা।

আমরা আলাদা দেশ নয়, একটি আদর্শ গ্রাম শহর কিংবা উপজেলা চাই। ছোট দেশগুলো উন্নত দেশের কাতারেই পড়ে। দেশের সমৃদ্ধি আর নাগরিকের উন্নতির জন্য যা যা দরকার তা-র সবই সেখানে আছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব দেশে নিয়মতান্ত্রিক শক্তিশালী ব্যবস্থা রয়েছে। এসব দেশের মাথাপিছু জিডিপি বিশ্বের মধ্যে উল্লেখযোগ্য, এমনকি সেরা ধনী দেশের তালিকায়ও আছে ক্ষুদ্রতম দেশের দুটি দেশ।

মাল্টা আমাদের ঢাকার চেয়ে ১০ বর্গকিলোমিটার বড়। আর জনসংখ্যা পাঁচ লাখের কাছাকাছি। এই দেশে পাঠানোর ভিসা প্রসেসিং এর বিজ্ঞাপন দেশটির সমৃদ্ধি ও সুযোগের কথাই জানান দেয়। আমরাও এমন দেশের মতো গ্রাম চাই, যা ছেড়ে যেতে চাইবো না, ছেড়ে যাওয়ার প্রয়োজনও থাকবে না।

আমাদের এখানেও সব আছে, বরং বেশীই আছে। একটা মাত্র নিয়ামক অনুপস্থিত। সেটা খুঁজে বের করাই আমাদের প্রয়াস।

[চলবে]

Facebook Comments
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!