1. admin@chunarughat24.com : admin :
জাল সনদধারী শিক্ষকের সংখ্যা ৬০ হাজার মাত্র
মঙ্গলবার, ২০ এপ্রিল ২০২১, ০৭:০৭ অপরাহ্ন

জাল সনদধারী শিক্ষকের সংখ্যা ৬০ হাজার মাত্র

চুনারুঘাট
  • সময় : সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১
  • ৬৫ বার পঠিত
জাল সনদধারী শিক্ষকের সংখ্যা ৬০ হাজার মাত্র

বর্তমানে সারাদেশে কতো জন জাল সনদধারী ব্যক্তি শিক্ষকতা করছেন এর কোনো প্রকৃত হিসেব নেই। তবে এদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে বলেই ধারণা করেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশের মাধ্যমিক ও স্নাতক স্তরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রায় ৬০ হাজার ব্যক্তি জাল সনদ নিয়ে শিক্ষকতা করছিলেন বলে জানায় পরিদর্শন ও নিরিক্ষা অধিদপ্তর (ডিআইএ)।

ডিআইএর নথিপত্র’র হিসেব অনুযায়ী, ১৯৮১ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৩৫ বছরে সারাদেশে ৫১ হাজার ৯২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন শেষে প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষকের সনদ জাল বলে চিহ্নিত করেছে ডিআইএ। এসব ভুয়া শিক্ষক এই সময়ে সরকারী কোষাগার থেকে ৪৮২ কোটি ৭৮ লাখ ৫১ হাজার ৫৫৭ টাকা বেতন- ভাতা তুলেছেন।

তদন্তে আরো জানা যায়, ২০১৮ সালের মে পর্যন্ত ২৬৮ জন জাল সনদধারী শিক্ষককে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।তারা সরকারের ‘মান্থলি পে অর্ডার’ বা এমপিও পেয়ে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এমতাবস্থায় ডিআইএ চিহ্নিত ভুয়া শিক্ষকদের কাছ থেকে টাকা ফেরত নেওয়ার সুপারিশ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দিয়েছিলো।

এ প্রসঙ্গে ডিআইএ’র পরিচালক বলেছিলেন, এসব ভুয়া শিক্ষক তদন্তকালে চিহ্নিত হয়েছেন। জনবল সংকট ও সামর্থ্যের কারণে সব প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করে সরেজমিনে তদন্ত করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি জানিয়েছিলেন, তাঁর ধারণা তদন্তের বাইরে থাকা জাল সনদধারী ভুয়া শিক্ষকের সংখ্যা অন্তত ৪০ গুণ বেশী হবে। সে হিসাবে সারাদেশে তখন পর্যন্ত জাল সনদধারী ভুয়া শিক্ষকের সংখ্যা ৬০ হাজারেরও বেশী।

ডিআইএর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ মুহূর্তে সারাদেশের ৩০ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ৫ লাখ। এর ১০ প্রায় শতাংশ শিক্ষকই জাল কিংবা ভুয়া সনদ দিয়ে প্রতিষ্ঠানে দিব্যি চাকরি করে যাচ্ছেন। সে হিসাবে কমপক্ষে ৬০ হাজার শিক্ষক রয়েছেন ভুয়া সনদধারী।

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য একটি সংবাদমাধ্যমে বলেন, জাল সনদধারী সব শিক্ষককে চিহ্নিত করতে সরকারি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এ কমিটি তদন্ত চালাবে।

শিক্ষকতা পেশায় জাল সনদধারীদের ছড়াছড়িতে উদ্বিগ্ন শিক্ষাবিদরাও। তারা সার্বিকভাবে শিক্ষার মান নিম্নগামী হওয়ার জন্য ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের বড় ভূমিকা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন।

এ বিষয়ে শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষকরা ছাত্রছাত্রীদের নীতি-নৈতিকতা শেখান। তারা নিজেরাই যদি অনৈতিক পন্থায় এ পেশায় কর্মরত থাকেন, তাহলে শিক্ষার্থীদের কী নৈতিকতা শেখাবেন? ভুয়া সনদধারী শিক্ষকদের খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডিআইএর তদন্তকালে আরো দেখা গেছে, কিছু কিছু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৪-৫ জন শিক্ষকের সনদ জাল। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির জ্ঞাতসারেও ভুয়া সনদধারীদের অনেকে চাকরি করছেন।

এরই মধ্যে তদন্ত কমিটি নেত্রকোনায় ২, ফরিদপুরে ২, কিশোরগঞ্জে ৪, টাঙ্গাইলে ৩, গাজীপুরে ৪, রাজবাড়ীতে ২, পাবনায় ৫, ঠাকুরগাঁওয়ে ৩, লালমনিরহাটে ৫, সিরাজগঞ্জে ৮, নওগাঁয় ৫, কুড়িগ্রামে ৩, জয়পুরহাটে ২, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩, যশোরে ৫, বরিশালে ২, ঝিনাইদহে ২, পিরোজপুরে ২, ভোলায় ২, নড়াইলে ৩ ও মেহেরপুরে ৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করেছে।

এ ছাড়া ময়মনসিংহ, নরসিংদী, শেরপুর, শরীয়তপুর, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাইবান্ধা, দিনাজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, মাগুরা, সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়া জেলায় রয়েছে ১টি করে প্রতিষ্ঠান।

ভুয়া প্রতিষ্ঠানের নামেও সনদ: তদন্তকালে যেসব প্রতিষ্ঠানের সনদ জাল ও ভুয়া হিসেবে প্রমাণিত, সেসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ও।

এ ছাড়া, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ), জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নেকটার) বগুড়া, দারুল ইহসান বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদি।

এছাড়াও এমন অনেক প্রতিষ্ঠানের সনদ চাকরিকালে শিক্ষকরা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটিতে দেখিয়েছেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের সনদ ইস্যুর কোনো ক্ষমতাই নেই এবং যেগুলো অস্তিত্বহীন ও ভুয়া। এমন একটি প্রতিষ্ঠান রাজশাহীর ‘সেন্টার ফর ইনোভেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অন ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কম্পিউটার্স’।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি বর্ণিত ঠিকানায় পাওয়া যায়নি। এমন আরেকটি প্রতিষ্ঠান ‘কমার্শিয়াল কম্পিউটার সেন্টার’। এর অবস্থান দেখানো হয়েছে আবদুল হামিদ রোড, পাবনা। তদন্ত কমিটির সদস্যরা ওই ঠিকানায় গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কোনো খোঁজ পাননি।

ভুয়া শিক্ষক চিহ্নিত হওয়ার বিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, যারা নিজেরাই পাবলিক পরীক্ষায় পাস করতে পারেননি, ভুয়া সনদ বানিয়ে চাকরি করছেন; তাদের পক্ষে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত বিদ্যা শেখানো আর পাস করানো কখনোই সম্ভব নয়। শিক্ষার মান প্রশ্নে সবচেয়ে বড় নিয়ামক হলেন যোগ্য শিক্ষক। তা না থাকলে শিক্ষার্থীদের যে ক্ষতি হয়ে যায়, তা কখনও পূরণ হওয়ার নয়।

অবশ্য ডিআইএ’র পরিচালক বলেন, এদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে জাল সনদধারীদের তালিকা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিলো।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!