1. admin@chunarughat24.com : admin :
আজ ভয়াল ২৫ মার্চঃ গণহত্যার কালরাত
বুধবার, ২১ এপ্রিল ২০২১, ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ইসরায়েলের পার্লামেন্টারি কমিটির নির্বাচনে নেতানিয়াহুর পরাজয় বিশ্বের সোয়া ১৪ কোটি মানুষ করোনায় আক্রান্ত মিগুয়েল দিয়াজ ক্যানেল কিউবায় নতুন নেতা হিসেবে নির্বাচিত হলেন ফোর্বস ম্যাগাজিনে জায়গা পেলো বাংলাদেশী ৯ তরুণ ‘চিকিৎসক ও পুলিশের পাল্টাপাল্টি বিবৃতি কাম্য নয়’ ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই কাটার তাগিদ দিয়েছে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসন সারাদেশের অধঃস্তন আদালতে ১০৬৮১ আসামীর জামিন চিকিৎসকের শব্দ অরুচিকর, ব্যবস্থা গ্রহণের দাবী জানালো পুলিশ সার্ভিস এসোসিয়েশন চট্টগ্রামে বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংঘর্ষে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় মামলা, তদন্ত কমিটি গঠন ‘কঠোর লকডাউন’ আরো এক সপ্তাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত

আজ ভয়াল ২৫ মার্চঃ গণহত্যার কালরাত

শুহিনুর খাদেম
  • সময় : বৃহস্পতিবার, ২৫ মার্চ, ২০২১
  • ৬৩ বার পঠিত
আজ ভয়াল ২৫ মার্চঃ গণহত্যার কালরাত

শুহিনুর খাদেম।। আজ ভয়াল ২৫ মার্চ। ১৯৭১ সালের এই রাতে বাঙালি জাতির জীবনে এক বিভীষিকা নেমে এসেছিলো। মধ্যরাতে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী তাদের পূর্ব পরিকল্পিত অপারেশন সার্চ লাইটের নীলনকশা অনুযায়ী বাঙালিদের চিরতরে স্তব্ধ করে দেয়ার ঘৃণ্য উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে নামে।

এ রাতে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে নিরস্ত্র ও ঘুমন্ত বাঙালিদের ওপর অত্যাধুনিক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী। উম্মত্ত হত্যালীলায় নির্বিবাদে-নির্বিচারে হত্যা করতে থাকে নারীপুরুষ ও শিশুকে।

২৫ মার্চ রাতের মর্মান্তিক ভয়াবহতা সম্পর্কে মার্কিন সাংবাদিক রবার্ট পেইন লিখেছেন, ‘সেই রাতে ৭০০০ মানুষকে হত্যা করা হয়, গ্রেফতার হলো আরো ৩০০০ লোক। ঢাকায় ঘটনার শুরু হয়েছিলো মাত্র। সমস্ত পূর্ব পাকিস্তান জুড়ে সৈন্যরা বাড়িয়ে চললো মৃতের সংখ্যা। জ্বালাতে শুরু করলো ঘরবাড়ি, দোকানপাট। লুট আর ধ্বংস তাদের নেশায় মেতে উঠেছিলো যেন। রাস্তায় রাস্তায় পড়ে থাকা মৃতদেহগুলো কাক-শেয়ালের খাবারে পরিণত হলো। এক রাতেই সমস্ত বাংলাদেশ হয়ে উঠলো শ্মশান ভূমি।’

নির্বিচারে চালানো এই গণহত্যার স্বীকৃতি খোদ পাকিস্তান সরকার প্রকাশিত দলিলেও রয়েছে।

পূর্ব পাকিস্তানের সঙ্কট সম্পর্কে যে শ্বেতপত্র পাকিস্তানি সরকার মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে প্রকাশ করেছিলো, তাতে বলা হয়- ‘১৯৭১ সালের পয়লা মার্চ থেকে ২৫ মার্চ রাত পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষের জীবননাশ হয়েছিল।’

১৯৭০-এর সাধারণ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে জয়লাভ করা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে নারাজ পাকিস্তান সামরিক জান্তা। ফলে সৃষ্ট রাজনৈতিক অচলাবস্থা নিরসনের প্রক্রিয়া চলাকালে গোপনে চলে অন্য পরিকল্পনা।

পরিকল্পিত ছক অনুসারে, পাকিস্তানি সেনারা কুখ্যাত ‘অপারেশন সার্চ লাইট’ নাম দিয়ে নিরীহ বাঙালি বেসামরিক লোকজনের ওপর গণহত্যা শুরু করে।

পাকিস্তানিদের এ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিলো তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের প্রগতিশীল রাজনৈতিক নেতাকর্মীসহ সকল সচেতন নাগরিককে নির্বিচারে হত্যা করা।

এদিন (২৫ মার্চ) সকালে পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি (পিপিপি) প্রধান জুলফিকার আলী ভুট্টো প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ৪৫ মিনিট ধরে বৈঠক করেন।

এ প্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু ব্যবসা-বাণিজ্য, বিশেষ করে পাট ব্যবসা ও টেলিযোগাযোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। তিনি দেশের রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানে সরকারের অতিরিক্ত কালক্ষেপণে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

দুপুরের পর থেকেই ঢাকাসহ সারাদেশে থমথমে অবস্থা বিরাজ করতে থাকে। এছাড়া সকাল থেকেই সেনা কর্মকর্তাদের তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। হেলিকপ্টারযোগে সেনা কর্মকর্তারা দেশের বিভিন্ন সেনানিবাস পরিদর্শন করে বিকেলের মধ্যে ঢাকা সেনানিবাসে ফিরে আসে।

ঢাকার ইপিআর সদর দফতর পিলখানাতে অবস্থানরত ২২তম বালুচ রেজিমেন্টকে পিলখানার বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

২৫ মার্চ মধ্যরাতে পিলখানা, রাজারবাগ, নীলক্ষেত আক্রমণ করে পাকিস্তানি সেনারা। হানাদার বাহিনী ট্যাঙ্ক ও মর্টারের মাধ্যমে নীলক্ষেতসহ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দখল নেয়।

সেনাবাহিনীর মেশিন গানের গুলিতে, ট্যাঙ্ক-মর্টারের গোলায় ও আগুনের লেলিহান শিখায় নগরীর রাত হয়ে উঠে বিভীষিকাময় হয়ে উঠেছিলো একে ‘নরকের দরজা উন্মুক্ত হয়ে গেলো’ বলেও অনেকের স্মৃতিকথায় লিখেছেন।

পাকিস্তানি হায়েনাদের হিংস্রতা থেকে রক্ষা পায়নি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের ছাত্রীরাও।

এ রাতেই ড. গোবিন্দ চন্দ্র দেব ও জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক সন্তোষ ভট্টাচার্য, ড. মনিরুজ্জামানসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৯ জন শিক্ষককে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলে চলে নৃশংসতম হত্যার সবচেয়ে বড় ঘটনাটি। এখানে হত্যাযজ্ঞ চলে রাত থেকে সকাল পর্যন্ত।

অন্যদিকে, প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান অপারেশন সার্চ লাইট পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সকল ব্যবস্থা চূড়ান্ত করে গোপনে ঢাকা ত্যাগ করে করাচি চলে যান।

এ রাতের সেনা অভিযানের নামে নির্মমতার শুরুতেই হানাদার বাহিনী বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারের আগে ২৬ মার্চ (২৫ মার্চ মধ্যরাতে) বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং যে কোনো মূল্যে শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

বঙ্গবন্ধুর এই আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাঙালি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং দীর্ঘ ৯ মাস সশস্ত্র লড়াই শেষে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর পূর্ণ বিজয় অর্জন করে। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের।

এ বছর স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি। স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর এই সময়েও প্রশ্ন জাগে- হয়েছে কি কাঙ্ক্ষিত সোনার বাংলা? পূরণ হয়েছে স্বাধীনতার মহান লক্ষ্য?

সেই কালরাতে বর্বরতার শিকার ও নিহতসহ মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের প্রতি আমাদের বিনম্র শ্রদ্ধা। পূর্ণতা পাক লক্ষ-লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা।

তথ্যসুত্রঃ সংগ্রহ।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!