1. admin@chunarughat24.com : admin :
জ্ঞানী কে?
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৪:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেরী চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল ‘চীনের নিয়ন্ত্রণহীন রকেট নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের’ ২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ ঘোষণাসহ ১০ দফা দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ ভারী বৃষ্টিপাতে কুশিয়ারাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধে আদালতের নোটিশ জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু আহত সিলেট মেরিন একাডেমীর যাত্রা শুরু: উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী চুনারুঘাটে পুলিশের ওপর হামলা, আসামী ছিনতাই

জ্ঞানী কে?

শুহিনুর খাদেম
  • সময় : শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১
  • ৩৩ বার পঠিত

এক কথায় জ্ঞান হল পরিচিতি থাকা, কোন কিছু সম্পর্কে বা কারো বিষয়ে জেনে থাকা বা বুঝে থাকা। হতে পারে কোন কিছুর প্রকৃত অবস্থা, তথ্য, বিবরণ, বা গুনাবলী সম্পর্কে জ্ঞান থাকা, যেটি অর্জিত হয়েছে উপলব্ধির মাধ্যমে, অনুসন্ধানের মাধ্যমে বা শিক্ষা গ্রহণের ফলে অভিজ্ঞ হওয়ায় বা পড়াশুনা করে।

জ্ঞান বলতে কোন বিষয় সম্পর্কে তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক শিক্ষা থাকাকে বুঝায়। এটা বহিঃপ্রকাশ ধরনের হতে পারে (যেমন ব্যবহারিক গুনাবালী সম্পন্ন বা অভিজ্ঞতা সম্পন্ন) অথবা বহিঃপ্রকাশ ধরনের নাও হতে পারে (যেমন কোনো বিষয়ে শুধু তাত্ত্বিক দিকটি বোঝা); এটা কম বা বেশি ফর্মাল বা নিয়মার্বতিতা সম্পন্ন হতে পারে।

দর্শনশাস্ত্রের যে অংশটি জ্ঞান নিয়ে আলোচনা করে তাকে জ্ঞানতত্ত্ব বলে।

দার্শনিক প্লেটো জ্ঞানকে প্রতিষ্ঠানিক ভাবে সংজ্ঞায়িত করেন “প্রমাণিত সত্য বিশ্বাস” বলে। যদিওবা এই সংজ্ঞা নিয়ে অনেক বিশ্লেষক দার্শনিক একমত হন যে সংজ্ঞাটির মধ্যে কিছু সমস্যা রয়েছে।

জ্ঞান অর্জনের সাথে জটিল মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়া জড়িত: উপলব্ধি, সংযোগ এবং যুক্তি; যেখানে জ্ঞানকে মানব মস্তিষ্কের কোনো কিছু বুঝতে পারার ক্ষমতার সাথেও তুলনা করা হয়।

ইসলামে জ্ঞানকে (আরবি: ইলম) বিবেচনা করা হয় অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হিসাবে।

“মহাজ্ঞানী” (আল-ʿআলিম) হল কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত আল্লাহর ৯৯টি নামের একটি। কুরআন অনুসারে ধর্মীয় জ্ঞান প্রাপ্তি সম্ভব হয় আল্লাহর বাণী থেকে এবং বিভিন্ন হাদিসে জ্ঞান অর্জনের জন্য উৎসাহিত করা হয়েছে।

জানা যায় যে মুহাম্মদ (সা:) বলেছিলেন “দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত জ্ঞান অন্বেষণ কর”।

তিনি আরও বলেছিলেন “জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমানের ওপর ফরয”।

ইসলামিক পণ্ডিতগণ, ইসলামিক বিশ্লেষক এবং কাজীগণকে প্রায়শই ডাকা হয় আলিম বলে, যার অর্থ “জ্ঞানী”।

ইহুদি ধর্মের ঐতিহ্যে, জ্ঞানকে (হিব্রুতে: דעת দা বাথ) বিবেচনা করা হয় সবচেয়ে মূল্যবান বৈশিষ্ট্য হিসাবে যা একজন ব্যক্তি অর্জন করতে পারে।

আচারনিষ্ঠ ইহুদীরা দিনে তিনবার আবৃত্তি করেন আমিদাহ, যার অর্থ “নিরপক্ষভাবে আমাদের জ্ঞান, বুদ্ধি-বিবেচনা ও পথ প্রদর্শন করুন যা আপনার কাছ থেকে আসে। হে মর্যাদাপূর্ণ, অধিষ্ঠিত – প্রভু, পরম করুণাময় জ্ঞান দাতা।”

টানাক্সে বিবৃত রয়েছে, “একজন বিজ্ঞ মানুষ ক্ষমতা লাভ করে এবং একজন বিজ্ঞ মানুষ ক্ষমতা রাখে” এবং “জ্ঞানকে নির্বাচন করা হয় স্বর্ণের চেয়েও উপরে”।

আপনি কি জ্ঞানী মানুষ? কী বলছে ‘মহাভারত’?

নিজেকে জ্ঞানী ভাবা কোনো অন্যায় কাজ নয়। কিন্তু সেই জ্ঞানটুকু থাকা একান্ত প্রয়োজন, প্রকৃত অর্থেই আপনি জ্ঞানী কি না। সেই কারণে প্রথমেই প্রয়োজন এটা জানা যে, ঠিক কাকে ‘জ্ঞান’ বলবেন। এইখানেই ঘটে সমস্যা।

‘জ্ঞান’ যে ঠিক কী, তা ঠাহর করা মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় যদি প্রাচীন গ্রন্থের শরণ নেওয়া যায়, তা হলে বোধ হয় অন্যায় হবে না।

যদি ‘মহাভারত’-এর দিকে তাকানো যায়, দেখা যাবে ‘জ্ঞান’ নামক ধারণাটিকে নিয়ে বার বার কথা বলেছে এই মহাকাব্য। এবং প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তিদের উদাহরণ দিয়ে মহাভারত বোঝাতে চেয়েছে কাকে বলা যায় ‘জ্ঞান’।

মহাভারত-এ সব থেকে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি কে- এই প্রশ্ন উঠলে এই গ্রন্থের তন্নিষ্ঠ পাঠকদের একটা বড় অংশই চোখ বুজে বিদূরের নাম করবেন।

গোটা মহাভারত জুড়ে বিদূরের উপস্থিতি এমন এক বাতাবরণ সৃষ্টি করে, যা সেই কাব্যের কাহিনিকাঠামোয় নিয়ত ঝড় তোলা রাজনীতি আর সংঘাতকে পেরিয়ে তাকে এক অন্য মাত্রায় স্থিত করে।

মহাভারত-এর রচয়িতা ব্যাসদেবের সন্তান বিদূর জন্মগ্রহণ করেছিলেন নিয়োগ প্রথায় এক শূদ্রাণীর গর্ভে। এহেন জন্মবৃত্তান্তই তাঁকে ঋদ্ধ করেছিলো। নিজের ভিতরে জ্ঞান ও বাস্তবতার সম্মীলন ঘটাতে তিনি সমর্থ হয়েছিলেন।

পরবর্তী জীবনে তিনি কুরুকুলপতি ধৃতরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ করেন। সেই কাজেও তিনি বার বার প্রজ্ঞা ও মেধার পরিচয় রাখেন।

স্বয়ং বিদূর নিরূপণ করেছিলেন, প্রকৃত জ্ঞানী ব্যক্তির পরিচয় কী হতে পারে। কী দেখে বোঝা যায় একজন ব্যক্তি প্রকৃত জ্ঞানসম্পন্ন কি না।

ধৃতরাষ্ট্রের বিবিধ প্রশ্নের উত্তরে বিদূর জ্ঞানী ব্যক্তির লক্ষণ সম্পর্কে যা ব্যক্ত করেছিলেন, তা এই প্রকার যে, মানুষ জ্ঞানী হয়ে জন্মগ্রহণ করে না। জ্ঞান তাকে অর্জন করতে হয়। এই অর্জনে তাকে সাহায্য করে তার স্বভাব, তার সিদ্ধান্ত, তার ব্যক্তিত্ব।

বিদুর আরও বলেন, জ্ঞানী ব্যক্তির উপলব্ধি অন্তর থেকে জাত। তাঁরা কষ্টসহিষ্ণু এবং কোনও প্ররোচনাতেই স্বধর্মচ্যুত হন না। যে ব্যক্তির ভবিষ্যত্ পরিকল্পনা প্রবল উত্তাপ, প্রচণ্ড ঠান্ডা, অন্যের প্ররোচনা, প্রাচুর্য কিংবা দারিদ্র্যের মধ্যেও অবিচল থাকেন, তিনিই প্রকৃত জ্ঞানী।

যে ব্যক্তি অন্যের কথা নিষ্ঠার সঙ্গে শোনেন, তাঁর বিচারক্ষমতা বিপুল। তিনি অন্যের কাজে হস্তক্ষেপ করেন না। তিনি নিঃসন্দেহে জ্ঞানী।

কোনো সম্মানে যিনি গর্বিত হন না, অপমানেও ভেঙে পড়েন না, তিনি জ্ঞানী।

যাঁর শিক্ষা বুদ্ধির দ্বারা চালিত এবং বুদ্ধি শিক্ষার দ্বারা মার্জিত, তিনিই জ্ঞানী।

সুখে-দুঃখে, গৌরবে-লজ্জায় যিনি নির্বিকার থাকতে পারেন, তিনিই প্রকৃত জ্ঞানী।

যে বস্তুকে কখননোই লাভ করা যায় না, তার পিছনে ছুটে জ্ঞানী ব্যক্তিরা কখনোই সময় নষ্ট করেন না।

জ্ঞানী ব্যাক্তিরা নিজের ক্ষমতার সীমাকে জানেন, তার বাইরে গিয়ে তাঁরা কখনোই কাজ করেন না।

যে ব্যক্তি যে কোনও পরিস্থিতিতে কথা বলতে সক্ষম, যিনি যেকোনও ধর্ম ও যে কোনও শাস্ত্রের বিষয়ে কথা বলার অধিকার রাখেন, তিনি নিঃসন্দেহে জ্ঞানী।

ফলের দিকে না তাকিয়ে যিনি কর্ম সম্পাদন করে যান, তিনি জ্ঞানী। যিনি কোনো কাজের মাঝখানে বিরাম নেন না, তিনি জ্ঞানী।

তথ্যসুত্রঃ সংগ্রহ।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!