1. admin@chunarughat24.com : admin :
চলমান ইয়েমেন যুদ্ধে কে কার সঙ্গে, কার লাভ, কার ক্ষতিঃ একটি ময়নাতদন্ত
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৩:৩৪ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘চীনের নিয়ন্ত্রণহীন রকেট নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের’ ২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ ঘোষণাসহ ১০ দফা দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ ভারী বৃষ্টিপাতে কুশিয়ারাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধে আদালতের নোটিশ জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু আহত সিলেট মেরিন একাডেমীর যাত্রা শুরু: উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী চুনারুঘাটে পুলিশের ওপর হামলা, আসামী ছিনতাই চিকিৎসার্থে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

চলমান ইয়েমেন যুদ্ধে কে কার সঙ্গে, কার লাভ, কার ক্ষতিঃ একটি ময়নাতদন্ত

রাহাত খান
  • সময় : সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৫৭ বার পঠিত
চলমান ইয়েমেন যুদ্ধে কে কার সঙ্গে, কার লাভ, কার ক্ষতিঃ একটি ময়নাতদন্ত

রাহাত খান।। বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত চলমান যুদ্ধ হচ্ছে এই ইয়েমেন সংকট ।

সৌদি ইরানের আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতা একটি আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে একটি দশকব্যাপী গৃহযুদ্ধতে পরিনত করে। বিপর্যস্ত বিধ্বস্ত করে দেয় দরিদ্র আরব রাষ্ট্র ইয়েমেনকে। সৌদি ইরানের দ্বৈরথ বিরান হয়ে গেছে ইয়েমেনের মাটি আর মানুষ।

এ যুদ্ধের সংশ্লিষ্ট আরো পক্ষগুলো হলঃ

সৌদি আরবের কৌশলগত মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, ইজরায়েল ও তাদের আরব মিত্রসমুহ সমর্থিত ইয়েমেনের তথাকথিত সরকারী দল তথা প্রেসিডেন্ট আব্দু রাবু মরসুর হাদির সমর্থক সুন্নী সামপ্রদায়িক গোষ্ঠী ও সৌদ সরকার স্বয়ং।

বনাম

সৌদি আরবের আঞ্চলিক প্রতিপক্ষ ইরান ও তার মিত্রদের মদদপুষ্ট ইয়েমেনের বিদ্রোহী সরকার প্রধান হোসাইন বদরুদ্দীন আল হুতি সমর্থিত শিয়া মুসলিম হুতি আনসারুল্লাহ মুভমেন্ট।

এই যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমানে এসে আটকে আছে প্রাগৈতিহাসিক রানী বিলকিসের স্মৃতি বিজরীত মারিব নগরীতে।

সরকার সমর্থিত যোদ্ধারা এডেন থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এখন জড়ো হয়েছে এই শহরে। ইয়েমেনের সর্ব উত্তরের এই শহরের নিয়ন্ত্রণ হারালে সমরনীতি অনুযায়ী ইয়েমেন সরকারের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যাবে।

হত্যা, ধ্বংসলীলা, দুর্ভিক্ষ, মানবতার চরম লঙ্ঘন পেরিয়ে হয়তো একটি পরিসমাপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এই যুদ্ধ আর এতে পরাজয়ের দ্বার প্রান্তে বর্তমান বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধাস্ত্র আমদানিকারক রাষ্ট্র সৌদি আরব।

এই যুদ্ধ ও যুদ্ধ বানিজ্য পরিস্থিতিতে জয়, পরাজয় ও লাভ লোকসান তথা সার্বিক হিসাব-নিকাশ নিয়ে একটি বিশ্লেষণ দাঁড় করানোর চেষ্টা চালিয়েছি। যা নিম্নোক্তঃ

পরাজয় ও লোকসানগ্রস্থ পক্ষ সমুহঃ

সামরিকঃ ইয়েমেনের তথাকথিত সরকারী দল তথা প্রেসিডেন্ট আব্দু রাবু মরসুর হাদির সমর্থক গোষ্ঠী, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, জর্দান, মরোক্কো এবং সুদান সহ সৌদি নেতৃত্বাধীন সমর রাজনৈতিক জোটের রাজনৈতিক ও সামরিক পরাজয় সংঘটিত হবে।

এই পরাজয়ের মুল দায়ভার বর্তাবে সৌদ রাজবংশের উপর।

আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকঃ ইয়েমেনের সর্বশেষ স্বীকৃত সরকারের সাবেক (ভাইস ও পরে সৌদি মনোনীত) প্রেসিডেন্ট ও তার সরকারের সমর্থনে এই যুদ্ধের বড় আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সামরিক এক কথায় সার্বিক বিনিয়োগকারী ছিল সৌদি আরব।

ইয়েমেন সংকট সমর বানিজ্যের এই বড় বিনিয়োগকারীর এই যুদ্ধের সবচেয়ে বড় পরাজিত পক্ষ। তাদের আর্থ সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষতি ও পরাজয় সমুহঃ

*মুসলিম বিশ্বের সর্বাধিক গ্রহনযোগ্য, আধ্যাত্মিক ও সামাজিক শীর্ষ অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে। মুসলিম বিশ্বে তাদের এই অতুলনীয় অবস্থান আজ বিভক্তি আর সন্দেহের দোলাচালে আবদ্ধ।

* রসুলল্লাহ’(সঃ) এর জন্ম ভুমি মুসলিম বিশ্বের তীর্থ স্থান ও ইসলামের কেন্দ্র মক্কা মদিনার দেশ হিসেবে পরিচিত সৌদি আরব ছিল বিশ্ব মুসলিম দের অভিভাবক।

তাছাড়া সৌদ বংশীয় বিভিন্ন বাদশাহ র অভিভাবক সূলভ নেতৃত্ব ও তাদের দাতব্য কর্মসূচি সমুহ তৃতীয় বিশ্বের মুসলিম দরিদ্র রাষ্ট্র সমুহের ও তার জনগণের মধ্যে বিশাল জনপ্রিয়তা অর্জন করে।

এই সৌদ রাজবংশের কিছু কিছু বাদশাহর মুসলিম সমাজের বৃহৎ অংশের কাছে অবস্থান ছিল প্রায় মুসলিম জাহানের খলিফাদের মত।

অথচ আজ ইরান-তুরস্ক-সিরিয়ার সাথে দীর্ঘ দূরত্বের জের, নতুন করে সৃষ্ট কাতারের সাথে দ্বন্দ্ব, লেবানন ও আরো কিছু আরব ও মধ্যপ্রাচ্যের রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনাধিকার চর্চা এবং মুসলমানদের স্পর্শকাতর ফিলিস্তিন ইস্যুতে তাদের নব্য রাজনৈতিক ও কুটনৈতিক দর্শন।

সর্বোপরি এই ইয়েমেন কান্ডের জের বিভিন্ন মুসলমান পক্ষের কাছে তাদের প্রতিচ্ছবি দাঁড়িয়েছে অত্যাচারী তথা নিরপরাধ ও অসামরিক মুসলিম হত্যাকারী হিসাবে।

* হুমকির মুখে পড়েছে সুন্নী মাযহাবী রাষ্ট্র ও সমাজ ব্যবস্থা সমুহে সৌদি আরবের প্রকৃত অভিভাবকত্ব তথা মুল নেতৃত্বাসীনের অবস্থান।

*এই যুদ্ধের সামরিক পরাজয় তাদের অদুরদর্শী ও অদক্ষ নেতৃত্ব ও পরনির্ভরশীল সমরনীতির চিত্র সর্বসাধারণের নিকট প্রতীয়মান হয়ে উঠছে। বর্তমান ও ভবিষ্যত বিশ্ব-রাজনীতিতে যার প্রভাব হবে বড়ই বিরূপ।

* আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় ইরানের সাথে ছায়া সমরনীতিতে সৌদি আরবের এই পরাজয় মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে তাদের সার্বিক সামাজিক, রাজনৈতিক অবস্থানের যে পদস্খলন ঘটেছে তা কাটিয়ে উঠতে আরো নতুন নতুন যুদ্ধ ঝুঁকি গ্রহণের আবশ্যকীয়তা তৈরী করতে পারে।

* বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধাস্ত্র আমদানি কারক রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি পাবার পর ও এই যুদ্ধে তাদের পরাজয় তাদের সরকার ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অদক্ষ নেতৃত্ব ও পরনির্ভরশীল অবস্থান মুসলিম বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের আধিপত্য বিস্তারের প্রতিযোগিতায় তাদের প্রতিপক্ষের তুলনায় অনেক দূর্বলতর প্রতিপক্ষ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

* তেল অর্থনীতির সবচেয়ে বড় অংশীদার হিসেবে হয়তো এই যুদ্ধের বিনিয়োগ ব্যয় ও লোকসান সৌদি অর্থনীতিতে দৃশ্যমান কোনো বড় ব্যাপার হয়ে দাঁড়াবে না।

কিন্তু তা সৌদি আর্থ-সামাজিক পরি কাঠামোর জন্য একটা বিষফোঁড়া, যা যে কোন মুহূর্তে ক্যান্সার হয়ে দাঁড়াতে পারে।

তাছাড়া যুদ্ধে বিধ্বস্ত ও ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন স্থাপনা সমুহ সৌদি সরকারের এক একটি কলঙ্কচিহ্ন রূপে বিবেচিত হতে থাকবে।।

ভু-প্রাকৃতিক, মানবিক তথা সার্বিক পরিবেশঃ

যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ, ভেঙ্গে পড়া আর্থ সামাজিক রাজনৈতিক প্রশাসনিক অবকাঠামো। ভুলুন্ঠিত মানবতা, ক্ষুধা, দারিদ্র্য আর দুর্ভিক্ষ দিয়ে সাজানো অর্থনৈতিক অচলাবস্থা।

স্বজন হারানোর হাহাকারে রাঙা সামাজিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান এই যুদ্ধের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ পক্ষ হল ইয়েমেন ও তার জনগণ।

ছবিঃ ইয়েমেনের দুর্ভিক্ষের শিকার শিশুরা।

তাদের লোকসান ও ক্ষতির কিছু নমুনা নিম্নরূপঃ

* ভূ-প্রকৃতি, পরিবেশ, অবকাঠামো, যোগাযোগ ব্যবস্থা, স্থাপনা, শিল্প ও ঐতিহ্যের চরম ধ্বংসাবস্থা।

* আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামো, সামাজিক ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা ব্যবস্থা সম্পুর্ন রূপে ভেঙে পড়া।

সবচেয়ে মারাত্মক ভাবে ভেঙে পড়ে চুরমার হয়ে গেছে তাদের জাতিগত ঐক্য। যা যে কোনো সময় জাতির আভ্যন্তরীণ গনহত্যার মতো আশংকা তৈরী করতে পারে।

* আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বানিজ্য, আভ্যন্তরীণ খনিজ, পশু পালন কৃষি, শিল্প সহ বিবিধ সকল উতপাদন ব্যবস্থা, সরবরাহ ও বিপনন সর্বক্ষেত্রে দীর্ঘকালীন স্থবিরতার ফলে সৃষ্ট চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলাবস্থাই যুদ্ধ বিধ্বস্ত এই রাষ্ট্রের সার্বিক অর্থনৈতিক বাস্তব চিত্র।

* খাদ্য বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য তথা জীবন ব্যবস্থার মৌলিক উপাদানের চরম অনিশ্চয়তা তথা সার্বিক দারিদ্র্য দুর্ভিক্ষ ও মানবতার স্খলন সমাজ জীবনকে ধাবিত করছে একটা বিশৃঙ্খল ও অরাজক সমাজ ব্যবস্থার দিকে।

এ নিষ্ঠুরতম সমরকান্ডের সবদিকের বাস্তবতা বিবেচনায়, যে কোন হিসাব নিকাশ এর অলোকে যেভাবেই বিশ্লেষণ করেন না কেনো এ যুদ্ধের সবচেয়ে বড় পরাজয়ের মুখোমুখি হচ্ছে ইয়েমেন ও তার অ-সামরিক নিরীহ জনগণ।

[চলবে]

লেখকঃ ব্যাংক কর্মকর্তা।

সাবেক শিক্ষার্থী, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!