1. admin@chunarughat24.com : admin :
নাগরিক হিসেবে আমার ব্যর্থতা কি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার জন্য দায়ী নয়?
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৫:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেরী চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল ‘চীনের নিয়ন্ত্রণহীন রকেট নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের’ ২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ ঘোষণাসহ ১০ দফা দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ ভারী বৃষ্টিপাতে কুশিয়ারাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধে আদালতের নোটিশ জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু আহত সিলেট মেরিন একাডেমীর যাত্রা শুরু: উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী চুনারুঘাটে পুলিশের ওপর হামলা, আসামী ছিনতাই

নাগরিক হিসেবে আমার ব্যর্থতা কি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার জন্য দায়ী নয়?

শুহিনুর খাদেম
  • সময় : শুক্রবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২১
  • ১৪১ বার পঠিত
নাগরিক হিসেবে আমার ব্যর্থতা কি রাষ্ট্রের ব্যর্থতার জন্য দায়ী নয়?

শুহিনুর খাদেম।। রাষ্ট্রের চারটি মূল উপাদান- নির্দিষ্ট ভূখণ্ড, জনসমষ্টি, সরকার ও সার্বভৌমত্ব। রাষ্ট্রের সবগুলো উপাদানই জনগণের চাওয়া-পাওয়ার উপর নির্ভরশীল।

নাগরিক ছাড়া রাষ্ট্র কল্পনা করা যায় না; কারণ নাগরিকের জন্যই রাষ্ট্র। নাগরিকের কল্যাণ মানেই রাষ্ট্রের কল্যাণ।

রাষ্ট্র যেমন নাগরিকদের বিবিধ সুযোগ-সুবিধা এবং অধিকার দিয়ে থাকে, তেমনি রাষ্ট্রের প্রতিও নাগরিকদের কতগুলো দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করতে হয়।

অধিকার ও কর্তব্য পরস্পর নির্ভরশীল ও পরিপূরক।

নাগরিকের প্রধান কর্তব্য হচ্ছে রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত্য প্রকাশ করা। অর্থাৎ রাষ্ট্রের নির্দেশ মেনে চলা।

রাষ্ট্রের নিরাপত্তা, অখন্ডতা, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অক্ষুন্ন রাখার জন্য প্রত্যেক নাগরিককে সর্বদা সজাগ এবং চরম ত্যাগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

রাষ্ট্রের প্রচলিত আইন এবং সংবিধান মেনে চলা এবং আইনের প্রতি সম্মান দেখানো নাগরিকদের অন্যতম দায়িত্ব।

কেউ আইন অমান্য করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। স্বাভাবিক জীবনের ব্যাঘাত ঘটে।

তাই সুষ্ঠু জীবনযাপন, শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রত্যেক নাগরিককে আইন মেনে চলতে হবে।

যেমনঃ সততা ও সুবিবেচনার সাথে ভোট দেওয়া নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব ও কর্তব্য। এর ফলে যোগ্য ও উপযুক্ত প্রার্থী জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হবে।

অযোগ্য ও দুর্নীতিবাজ প্রার্থীকে ভোটদানে বিরত থাকাও নাগরিক দায়িত্ব।

রাষ্ট্রীয় আয়ের প্রধান উৎস নাগরিকদের প্রদেয় কর ও খাজনা, রাষ্ট্রের প্রশাসনিক, প্রতিরক্ষা এবং উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদনের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন।

নাগরিকদের যথাসময়ে কর প্রদান করে রাষ্ট্রীয় কাজে সহযোগিতা করতে হবে।

রাষ্ট্রের অর্পিত দায়িত্ব অর্থাৎ রাষ্ট্রীয় কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা নাগরিকের কর্তব্য। সরকারের গৃহীত কোনো কাজ মানে হলো জনগণের কাজ।

সরকারি কর্মকর্তা তদুপরি নাগরিকদের সততা ও কাজে একাগ্রতা ও নিষ্ঠার উপর সরকার তথা রাষ্ট্রের সফলতা, উন্নতি ও অগ্রগতি নির্ভর করে।

তাই আমরা বলতে পারি- রাষ্ট্র পরিচালনায় যখন সরকার তথা রাষ্ট্র ব্যর্থ, তখন একজন সুনাগরিক হিসাবে আমি কতটুকু দ্বায়িত্ব পালন করছি? ব্যর্থতার দায়ভার কি নাগরিকদের উপরও বর্তায় না?

প্রতিটি রাষ্ট্রেরই মূল্যবান সম্পদ হলো সৎ, যোগ্য ও নীতিবান নাগরিক। একটি রাষ্ট্রের কাঠামো এর নাগরিকের আচরণ ও প্রকৃতির উপর নির্ভর করে।

রাষ্ট্রের অগ্রগতির জন্য অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে পূর্ণ সচেতন নাগরিকের প্রয়োজন।

এজন্য অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে জানা প্রতিটি নাগরিকের পবিত্র দায়িত্ব। এগুলো সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান ও সচেতনতাই পারে একটি রাষ্ট্রকে তার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে।

অনেক সময় দেখা যায় রাষ্ট্র নাগরিকদের অধিকার খর্ব করে এবং নাগরিককে অধিকার আদায়ে প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করে।

এছাড়াও দেখা যায় রাষ্ট্র যেমন নাগরিককে অধিকারের পূর্ণ নিশ্চয়তা দিয়েছে তেমনি এসব অধিকার ভোগ করতে গিয়ে নাগরিককে কিছু দায়িত্ব পালন করতে হয়।

অধিকার আদায় এবং দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নাগরিক এবং রাষ্ট্রের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে।

নাগরিককে সবসময় রাষ্ট্রের সর্বাঙ্গীন উন্নতির জন্য সচেতন থাকতে হবে।

একজন যোগ্য ও দায়িত্বশীল নাগরিক রাষ্ট্রের উন্নতি ও সমৃদ্ধির জন্য সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখতে পারে।

এজন্য নাগরিককে সুশিক্ষিত, দায়িত্বশীল এবং রাষ্ট্রীয় সমস্যা সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে।

নাগরিক তার মননে হবেন বিশ্ব নাগরিক। তবে তাকে জাতীয়তাবাদী চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

সংকীর্ণ দলাদলিকে বাদ দিয়ে রাষ্ট্রের কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে। নাগরিককে নৈতিকতার শক্তিতে বলিয়ান হয়ে সংকীর্ণতা পরিহার ও মুক্তমনা হতে হবে।

সর্বোপরি নাগরিকের সকল কাজ-কর্মের উদ্দেশ্য হবে রাষ্ট্র ও এর নাগরিকদের কল্যাণ সাধন।

সুনাগরিক: রাষ্ট্র এবং মানবতার কল্যাণের জন্য প্রয়োজনীয় গুণসম্পন্ন ব্যক্তিকে সুনাগরিক বলে। সুনাগরিক প্রতিটি রাষ্ট্রের জন্য মূল্যবান সম্পদ।

সুনাগরিকের অনেকগুলো গুণ রয়েছে। এর মধ্যে বুদ্ধি, বিবেক, আত্মসংযম, জ্ঞান, সচেতনতা, সততা, ন্যায়বোধ অন্যতম।

সুনাগরিক তার এসব গুণের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সেবা করে এবং রাষ্ট্রকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করে থাকে।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!