1. admin@chunarughat24.com : admin :
মহান মে দিবস: বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায়ের শপথ
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৪:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
‘চীনের নিয়ন্ত্রণহীন রকেট নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের’ ২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ ঘোষণাসহ ১০ দফা দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ ভারী বৃষ্টিপাতে কুশিয়ারাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধে আদালতের নোটিশ জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু আহত সিলেট মেরিন একাডেমীর যাত্রা শুরু: উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী চুনারুঘাটে পুলিশের ওপর হামলা, আসামী ছিনতাই চিকিৎসার্থে খালেদা জিয়ার বিদেশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে

মহান মে দিবস: বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায়ের শপথ

চুনারুঘাট
  • সময় : শনিবার, ১ মে, ২০২১
  • ৭৪ বার পঠিত
মহান মে দিবস: বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায়ের শপথ

নিজের সত্তার কথা চিন্তা না করে, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে, রক্তকে পানিতে পরিণত করে যারা অকান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন, আজ সেই সকল মেহনতি মানুষের দৃঢ়তার প্রতীক মহান মে দিবস আমাদের সামনে উপস্থিত।

মহান দিবস সারা বিশ্বে পালিত হবে তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে। বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারি বেসরকারি ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন শ্রমিক সমাবেশের মাধ্যমে এই দিবসটি উদযাপন করবে।

কিন্তু আমরা যদি ইতিহাসের বাঁকে ফিরে দেখি যে অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল এই মহান মে দিবস সেই সকল মেহনতি শ্রমিকের অধিকার আজো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

নানা বঞ্চনা আর বৈষম্যের শিকার শ্রমিকরা তখনো জানতো না তারা কিভাবে নির্যাতন আর বঞ্চনা থেকে মুক্তি পাবে।

তাদের ক্ষোভ শুধু ধুমায়িত হতে থাকে, একের পর এক লাঞ্চনা বঞ্চনা নির্যাতনে যখন শ্রমিক সমাজের দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেল তখন অধিকার আদায়ে ১৮৬০ সালে প্রথম রাস্তায় নামে শ্রমিক সমাজ।

কিন্তু সংগঠিত না থাকায় শ্রমিক মানুষেরা তাদের ন্যয্য অধিকার গুলো আদায় করতে পারেনি।

১৮৮১ সালে শ্রমিকরা তাদের দাবী জোরালো ভাবে তুলে ধরে এবং সে বছরেই ন্যয্য দাবী-দাওয়া আদায়ের লক্ষে আমেরিকা ও কানাডায় গঠিত হয় দুটি শ্রমিক সংগঠন।

সংগঠন দুটি বিভিন্ন ভাবে শ্রমিকদের ন্যার্য দাবি গুলো তুলে ধরে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৮৮৪ সালে দু-দেশের শ্রমিক সংগঠন একটি প্রস্তাবনা পাশ করে।

প্রস্তাবনায় বলা হয়, ১৮৮৬ সালের ১ মে থেকে শ্রমিকদের কর্মদিবস হবে ৮ ঘন্টা। ৮ ঘন্টার বেশী কোন শ্রমিক কাজ করবে না।

দুটি দেশের শ্রমিক সংগঠনের এই ঘোষনায় উদ্বেলিত হয় শ্রমিক সমাজ। তারা তাদের অবস্থানে থেকে এ ব্যপারে জনমত গড়ে তোলার চেষ্টা করে।

শ্রমিকদের ৮ ঘন্টার বেশী কাজ না করতে উৎসাহ যোগায়। কিন্তু মালিক ও সরকার পক্ষ শ্রমিকদের এই প্রস্তাবনায় সাড়া না দিয়ে নির্যাতন ও নিপিড়নের পথ বেছে নেয়।

এমতাবস্থায় ১৮৮৬ সালের ১ মে মৌলিক প্রয়োজন থেকে বঞ্চিত শ্রমিকদের পক্ষ থেকে কতক ন্যয্য দাবি আদায়ে শিকাগো শহরের ‘হে’ মার্কেটের সামনে বিশাল সমাবেশের ডাক দেয়।

শিকাগো শহরের ৭ টি সংগঠনসহ ২২ টি শ্রমিক সংগঠন এদিন মিছিলে মিছিলে ‘হে’ মার্কেটের সামনে সমবেত হতে থাকে।

শ্রমিকদের এই ন্যয্য দাবীর সাথে সরকার ও মালিক পক্ষ ঐক্যমত না হওয়ায় সমাবেশ বানচাল করতে পুলিশ গুলি চালালে এতে অনেক শ্রমিক নিহত হয়।

কিন্তু শ্রমিকরা মরিয়া হয়ে জীবনের শেষ রক্তবিন্ধু ঢেলে দিতে প্রস্তুত তবুও তাদের ন্যয্য দাবী থেকে একচুল পরিমানও পিছপা হতে রাজী নয়।

শ্রমিকদের আত্মত্যাগ আর মরিয়া ভাবের নিকট পরাজিত হয় সরকার। মেনে নেয়া হয় সকল দাবী-দাওয়া।

পরবর্তীতে মার্কিন সরকার ১ মে কে ‘ল ডে’ হিসেবে ঘোষনা করে। বঞ্চনার মাঝে অধিকার আদায় করে নেয় শ্রমিকরা।

তখন থেকেই মে দিবস সকলের নিকট শ্রমিক অধিকার আদায়ে আন্দোলনের প্রতীক হিসেবে স্থান করে নিয়েছে।

শুধু আমেরিকা আর কানাডা ছাড়া পৃথিবীর প্রায় সকল দেশেই সরকারি ভাবে পালিত হচ্ছে মে দিবস । বাংলাদেশেও সরকারি ভাবে পালিত হয় মে দিবস।

বাংলাদেশ লেবার ফোর্স এর সার্ভে অনুযায়ি, দেশের মোট শ্রমিক সংখ্যা ৫ কোটির কাছাকাছি, এর মধ্যে এক চতুথাংশ মহিলা শ্রমিক।

বাংলাদেশের এই বিশাল সংখ্যক শ্রমিকদের ভাগ্য উন্নয়নে প্রতিশ্রতি দিয়ে প্রতিবছরই আমাদের দেশে মে দিবস পালিত হলেও এদেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে যারা সবচেয়ে বড় অংশিদার তাদের অধিকারের কথা গুলো সরকার থেকে শুরু করে আমরা সবাই ভুলে যাই।

ফলে মে দিবস আসে, মে দিবস চলে যায়। কিন্তু শ্রমিকদের ভাগ্যের উন্নয়ন হয় না, জীবনযাত্রার চাকা ঘোরে না এদেশের শ্রমিক সমাজের।

আমাদের দেশের শ্রমিকেরা বিভিন্ন সেক্টরে তাদের শ্রম দিয়ে দেশকে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে নিচ্ছেন।

শুধু দেশেই নয় দেশের বাইরেও বিশাল সংখ্যক শ্রমিক জনগোষ্ঠী অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে দেশে অর্থ পাঠিয়ে দেশকে সমৃদ্ধ করছেন ।

কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য প্রবাসী এ শ্রমিকরা তাদের ন্যয্য অধিকার থেকে বঞ্চিত। শুধু অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়া বললে ভুল হবে তাদের চিত্র আরো ভয়াবহ।

সম্প্রতি সাভার ট্রাজেডীর দিকে তাকালেই তা সকলের নিকট স্পষ্ট। যাদের ক্লান্তিহীন পরিশ্রমে নিজের ভাগ্য গড়ে মালিক আর সরকার তখন তাদেরকে রাজনৈতিক বলির পাঠা বানিয়ে মারাত্মক ফাটল-ধরা ভবনে জোর করে ঢুকিয়ে কাজে বাধ্য করা হল।

ফলশ্রুতিতে ভবন বিধ্বস্ত হয়ে প্রায় ৪ শতাধিক শ্রমিককে হত্যা করা হলো। এ যেন ডেকে নিয়ে খুন করা। হাজার খানেকের মতো এখনো নিখোঁজ।

এত বড় ঘটনায় শোক পালন হলো, কিন্তু রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা হলো না।

শ্রমিক বলেই তাদের কোন অধিকার থাকতে নেই। তাদের প্রাপ্য হল ভবন ধসে কিংবা আগুনে পুড়ে লাশ হওয়া।

দেশের ভেতর যখন এই অবস্থা তখন ভালো নেই দেশের রেমিটেন্স বৃদ্ধিতে ভুমিকা পালনকারী প্রবাসী শ্রমিকেরা।

মাঠের ফসলি জমি, গোয়ালের গরু, পুকুরের মাছ, এমনকি নিজের ভিটে-মাটি বিক্রি করে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে গ্রামের সহজ সরল যে শ্রমিকটি জীবন-জীবিকার সন্ধানে, ভাগ্য উন্নয়নে প্রবাসে পাড়ি জমায়, তখন দালালদের খপ্পরে পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করে।

কিংবা বিদেশী দূতাবাসে আশ্রয় গ্রহণ করে জীবন বাঁচানোর প্রার্থনা করে তখন আমাদের দুতাবাসের কর্তাব্যক্তিরা শ্রমিকদের এই দুর্দশায় যেই পথে শ্রমিকটি দূতাবাসে এসে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে আবার সেই পথেই চলে যেতে বলে গলা ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয়। কারন এরা তাদের জন্য বোঝা।

তারা শুধু অর্থ উপার্জনকারীদের আয়েই দেশীয় রেমিটেন্স বাড়াতে চায় মানবতের জীবন যাপন কারী এবং বিপদগ্রস্তদের দায় তাদের উপর বর্তায় না।

এইতো গত কয়েকদিন আগের ঘটনা। লিবিয়াসহ মধ্যপ্রাচ্যের বাংলাদেশী শ্রমিকদের দুরবস্থায় পাশে দাঁড়াতে পারেনি আমাদের দেশের দুতাবাস কিংবা সরকার।

ফলে দেশের সমৃদ্ধিতে অংশিদার মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমিকরা অনাহারে অর্ধাহারে তাদের দিনাতিপাত করে নিঃস্ব, অসহায় হয়ে দেশে ফিরেছে।

কাউকে খাদ্যের অভাবে প্রান দিতে হয়েছে। এখনো অনেক শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে আটকা পড়ে আছে। অসহায় অবস্থায় দেশে ফিরে এসে যখন সু-শৃংখল ভাবে মানববন্ধন করে প্রতারক চক্রের বিচার দাবী এবং ক্ষতিপূরণ চায়।

তখন সরকারের ভূমিকা রাখার কোন ইচ্ছে থাকে না, মহান মে দিবসের তাৎপর্যও আর স্মরণ থাকে না সরকারের।

দিন দিন সংকুচিত হয়ে আসছে বাংলাদেশী শ্রমিকদের বিদেশী বাজার অথচ সরকার শুধু মন্ত্রী এমপিদের সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠিয়ে সেই দেশের কর্তাব্যক্তিদের সাথে সাক্ষাৎ করেই তাদের দায়িত্ব শেষ মনে করেন।

দুর্দশাগ্রস্থ প্রবাসী শ্রমিক সমাজের এই প্রতিচ্ছবির চেয়ে ভালো নেই দেশীয় শ্রমিক সমাজ।

দেশে শিশুশ্রমের ব্যাপক ব্যবহার চলছে। ঘরের ঝিয়ের কাজ থেকে শুরু করে রি-রোলিং ও ইস্পাত কারখানার মত মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ কাজ করানো হচ্ছে শিশু শ্রমিকদের দিয়ে।

কোমলমতি যেই শিশুদের হাতে থাকার কথা ছিলো খাতা, কলম আর বই, আজ তাদের হাতে মেশিন তৈরীর ভারী যন্ত্র, লোহার আগুনে দগ্ধ কচি হাতগুলো।

অন্যান্য শিশুর মতো যে শিশুটির অধিকার ছিল মা-বাবার আদর-স্নেহে পালিত হওয়া, জীবিকার সন্ধানে সে শিশুটি আজ ফজরের আজানের শব্দে ঘুম থেকে উঠে কাজে লেগে যায়।

অকান্ত পরিশ্রমের পরও সামান্য অসচেতনতায় নেমে আসে গালি-গালাজ, নির্যাতন।

বাংলাদেশের ৯০০ কোটি মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের মধ্যে ৭০০ কোটি ডলার আয় হয় তৈরী পোশাক শিল্পে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ এই শিল্পের শ্রমিকদেরও মানবেতর জীবন যাপন করতে হয়।

তাদের বোনাসতো দেয়াই হয় না, বরং কাজের নির্দিষ্ট বেতনও ঠিকমতো পরিশোধ করেন না মালিকরা। ফলে তাদের বেছে নিতে হয় আন্দোলন।

আর শ্রমিকদের এই অসন্তোষের সুযোগ নেয় বিভিন্ন স্বার্থান্বেষী মহল। যারা পাশ্ববর্তী দেশের বিদেশী বাজার চাঙ্গা রাখতে চায় তারা শ্রমিক অসন্তোষের এই সুযোগকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।

ফলে একদিকে তৈরী পোষাকশিল্প ধ্বংসের মুখে পড়ে, অন্যদিকে শ্রমিক বঞ্চিত হয় বেতনভাতা থেকে তারা পরিনত হয় স্বার্থান্বেষী মহলের ক্রিড়নকে।

আমাদের এই দেশে শতকরা ৮০ ভাগ কৃষকের বাস হলেও কৃষকের অধিকার আজও আমাদের সমাজে অধরাই থেকে গেছে। আজও সারের জন্য, সেচপাম্পের মাধ্যমে জমিতে পানি দেয়ার জন্য বিদ্যুতের দাবিতে কৃষককে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করতে হয়।

যে কৃষক শুধু নিজের জন্য চাষাবাদ করে না, ঝড়, বৃষ্টি, সাইকোন, বন্যা, খরা মোকাবিলা করে দেশের জন্য সম্পদ তৈরীতে জমিতে ফসল বুনে, সেই কৃষক যখন দুঃখ-দুর্দশায় পতিত হয় তখন মহান মে দিবসের কথা আমাদের মনে থাকে না, দাঁড়াতে পারি না আমরা সেই কৃষকের পাশে।

আমরা সেই কৃষকের পরিশ্রমের মুল্য দিতে জানি না। দ্রব্যমুল্যের উর্ধগতি সহ জীবনযাত্রার ব্যয় যখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, তখন পাল্লা দিয়ে বাড়ছে না এদেশের শ্রমিক সমাজের আয়। ফলে তারা মানবেতর জীবন যাপন করছে।

কেউ একবেলা খেতে পারছে তো অন্য বেলা উপোস থাকছে। দ্রব্যমুল্যের উর্ধগতিতে তাদের নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যাবার অবস্থা।

বেতনভাতা বৃদ্ধি না হলে এবং শ্রমিকদের এভাবে মানবেতর জীবন যাপন চলতে থাকলে, মানসিক এবং শারিরিক ভাবে দুর্বল হতে থাকবে শ্রমিক জনগোষ্ঠী। ফলে ব্যহত হবে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন।

অথচ আজ থেকে যদি ১৪শত বছর পূর্বে ফিরে যাই, তাহলে দেখবো মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ (সাঃ) তাঁর প্রতিষ্ঠিত ইসলামী সমাজ ব্যবস্থায় শ্রমিকের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তিনি বলেছেন, “শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি দিয়ে দাও”। চির শাশ্বত সেই বানী আমাদের শ্রমিকের মর্যাদা দানে আরো উৎসাহিত করে যে “তারা(শ্রমিক) তোমাদের ভাই, আল্লাহ তাদেরকে তোমাদের অধীন করে দিয়েছেন, তাই তোমরা যা খাবে তাদের তা খাওয়াবে, তোমরা যা পরবে তাদের তা পরতে দিবে”।

তাছাড়া আমাদের মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) মেষ চরাতেন। খন্দকের যুদ্ধে পরিখা খননের সময় নিজের কাঁধে পাথর বহন করে শ্রমের উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

শ্রমিকদের প্রতি মর্যাদাবোধ ও অধিকার প্রদানে দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আমাদের আরো কর্তব্যপরায়ন করে তুলেছেন মানবতার এই মহান বন্ধু।

এমনকি অসংখ্য নবী এবং রাসুল আছেন যারা শ্রমিক হিসেবে কাজ করেছেন।

আমরা আমাদের শ্রমিকদের মর্যাদার মুল্যায়ন এখান থেকেই করতে পারি। আমরা তাদের ভাই হিসেবে তাদের সুঃখ-দুখে অংশিদার হব, বিপদে পাশে দাড়াবো, আমাদের নবী রাসুলদের ইতিহাস এমন শিক্ষাই আমাদেরকে দেয়।

দেড়শত বছর আগে থেকে মহান মে দিবস পালিত হয়ে আসলেও শ্রমিকরা তাদের ন্যয্য অধিকার থেকে এখনো বঞ্চিত বরং নির্যাতন আর নিষ্পেষনের যাতাকলে পিষ্ট তারা।

শ্রমিক অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এই প্রতীকও শ্রমিকদের ন্যয্য অধিকার আদায় করতে পারেনি। শ্রমিক সমাজ কি নির্যাতন আর নিষ্পেষনের যাতাকল থেকে কখনই মুক্তি পাবে না?

তাদের মুক্তির অধিকার কি অধরাই থেকে যাবে?

হ্যাঁ শ্রমিক সমাজ মুক্তি পেতে পারে এমন একটি কল্যানধর্মী সমাজ ব্যবস্থা থেকে যে সমাজ শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগে তার মজুরি দিয়ে দিতে নির্দেশ দেয়, যে সমাজ শ্রমিকদের মানব সম্পদ হিসেবে মুল্যায়ন ও মর্যাদা প্রদান করে।

যে সমাজ ব্যবস্থা নিজে যা খাবে শ্রমিককেও তা খাওয়াতে বলে, নিজে যা পরবে শ্রমিককেও তা পরতে দিতে বলে।

এমন সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সকলে শামিল হলে শুধুমাত্র শ্রমিক সমস্যার সমাধানই নয় বরং গোটা মানব সমাজের মুক্তি নিশ্চিত করা সম্ভব।

সভ্যতার মহান কারিগর বিশ্বের সকল শ্রমজীবী মানুষের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা জানাই।

মহান মে দিবস’র লেখা।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!