1. admin@chunarughat24.com : admin :
বাংলাদেশীদের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২৩৪২৫ টাকা
শনিবার, ০৮ মে ২০২১, ০৫:১৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
ফেরী চলাচলে নিষেধাজ্ঞা সত্বেও ঘাটে ঘরমুখো মানুষের ঢল ‘চীনের নিয়ন্ত্রণহীন রকেট নামিয়ে আনার পরিকল্পনা নেই যুক্তরাষ্ট্রের’ ২০ মে ‘চা শ্রমিক দিবস’ ঘোষণাসহ ১০ দফা দাবীতে স্মারকলিপি প্রদান শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ ভারী বৃষ্টিপাতে কুশিয়ারাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রধান সব নদীর পানি বৃদ্ধি পাবে সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গাছ কাটা বন্ধে আদালতের নোটিশ জাতীয় অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন তিনজন বিশিষ্ট ব্যক্তি চুনারুঘাটে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুই বন্ধু আহত সিলেট মেরিন একাডেমীর যাত্রা শুরু: উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী চুনারুঘাটে পুলিশের ওপর হামলা, আসামী ছিনতাই

বাংলাদেশীদের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২৩৪২৫ টাকা

শুহিনুর খাদেম
  • সময় : বুধবার, ৫ মে, ২০২১
  • ১২৬ বার পঠিত
বাংলাদেশীদের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ২৩৪২৫ টাকা

বেড়েই চলছে আমাদের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের বোঝা। এই মুহূর্তে যে শিশুটি জন্ম নিবে তাঁর ঘাড়েও চাপবে এই ঋণের বোঝা।

শিশুটির অজান্তেই চলবে ঋণের সুদ শোধ-পরিশোধের চক্র।

বাংলাদেশে বিগত এক দশকে বৈদেশিক ঋণের বোঝা বেড়েছে ১২৫ শতাংশের বেশি।

অর্থনীতি সমিতির হিসাব মতে দেশে মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ৭৯ হাজার টাকা। দেশের ৯৮ ভাগ মানুষ এ ঋণ নেননি। কিন্তু যেভাবেই হোক এই ঋণ ফিরত দিতেই হবে সবাইকে।

বিশ্বব্যাংকের সদ্য প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে তথ্যমতে, গত একদশকে বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণের বোঝা বেড়েছে ২৩,৪২৫ টাকা ৫২ পয়সা।

ঋণের পরিমাণ থেমে নেই, প্রতিবছর বাড়ছে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ২০২০- ২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে জানাচ্ছে, দেশে বৈদেশিক অর্থায়ন বেড়ে ৮৮ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা হয়েছে। যা গত বাজেটের চেয়ে ২৫ হাজার ১৬৫ কোটি টাকা বেশি।

শুধু তাই নয়, ঋণের বোঝার সাথে বাড়ছে সুদ পরিশোধের চাপ।

২০২০- ২১ সালে বাজেটে বৈদেশিক ঋণে সুদ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো পাঁচ হাজার ৫৪৮ কোটি টাকা।

২০১৯-২০ সালের সুদ পরিশোধের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো চার হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। যা ২০১৮- ১৯ সালে ছিলো তিন হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা।

ফলে দুই বছরের ব্যবধানে দুই হাজার ১০২ কোটি টাকা অতিরিক্ত সুদ পরিশোধ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশের চলতি বছরের হালনাগাদ পরিসংখ্যানে ধরলে এই ঋণের পরিমাণ আরো বেশি হবে।

ইতোমধ্যে করোনা মহামারির প্রভাবে সরকারিভাবে বিদেশি উৎস থেকে ঋণ গ্রহনের পরিমাণ আরো বেড়েছে।

‘আন্তর্জাতিক ঋণ পরিসংখ্যান- ২০২১’ শিরোনামে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বাংলাদেশসহ স্বল্প ও মধ্য আয়ের ১২০টি দেশের বৈদেশিক ঋণ পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে।

এ প্রতিবেদনে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পরিসংখ্যান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে বিগত এক দশকে গোটা বিশ্বের বৈদেশিক দেনার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০০ ট্রিলিয়ন (এক ট্রিলিয়নে এক লাখ কোটি) মার্কিন ডলারে।

বিশ্বব্যাংকের হিসেবে, ২০১৯ সালে বাংলাদেশের সর্বমোট বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ ছিল ২৫৩৭ কোটি বা ২০ লাখ ডলার, যা টাকার অংকে ২ লাখ ১৫ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা।

২০১৯ সালে এর স্থিতি দাঁড়িয়েছে ৫৭০৮ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ৪ লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮ কোটি টাকা।

অর্থাৎ এই এক দশকের ঋণের পরিমাণ বেড়েছে ২ লাখ ৬৯ হাজার ৫৮৬ কোটি টাকা বা ১২৫ শতাংশ।

প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের স্থিতি হিসাবে ২০১৯ সাল পর্যন্ত ৫৭০৮ কোটি ৮০ লাখা ডলারের ঋণের মধ্যে সরকারি ঋণ ৪১০৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

আর আইএমএফের ঋণ রয়েছে ১৪১ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

প্রতিবেদনে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই), বেসরকারি খাতের বৈদেশিক ঋণ, স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণের পরিমাণই বেশি।

২০১৯ সালের এফডিআই এসেছে ১৩৭ কোটি ১০ লাখ ডলার সমপরিমাণ। দীর্ঘমেয়াদি ঋণের স্থিতি ৪৫৯৩ কোটি ৭০ লাখ ডলার।

বেসরকারি খাতে ঋণ মাত্র ৪৯০ কোটি ১০ লাখ ডলার।

তবে বিশ্লেষকরা বলেছেন, গ্রস ন্যাশনাল ইনকাম (জিএনআই)- এর তুলনায় বিদেশী ঋণের অনুপাত এখনো ঝুঁকি মাত্রার নিচে রয়েছে।

এজন্য ঋণের আকার বাড়লেও অর্থনীতির সক্ষমতা বিবেচনায় এটি বেশি নয়।

ঋণ বৃদ্ধি সত্বেও গত তিন বছর ধরে বৈদেশিক ঋণের পরিমাণ জিএনআই এর ১৮ শতাংশের মধ্যে রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে অন্যান্য দেশের বিদেশি ঋণ প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, করোনার প্রভাবে উন্নয়নশীল বিশ্বে ঋণ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের।

দরিদ্র দেশগুলোর নতুন শর্তযুক্ত ঋণ গ্রহণ, সুদের হার এবং স্বচ্ছতার বিষয়গুলো নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

কোভিডের আগেই দরিদ্র দেশগুলোর বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে উদ্বেগ ছিল।

প্রতিবেদনের বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ডেভিড ম্যালপাস উল্লেখ করেছেন।

দীর্ঘমেয়াদে ঋণের স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে ঋণ ও বিনিয়োগ স্বচ্ছতার উপর।

এখন সময় এসেছে দরিদ্র দেশগুলোর ঋণ সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার।

আইএমএফ- এর ইতিবাচক পূর্বাভাসঃ

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুকে ২০২০’ প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দিয়েছে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

ফলে জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে বাংলাদেশ এশিয়ার তৃতীয় বড় অর্থনীতির দেশ ভারতকেও ছাড়িয়ে যাবে বলে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) প্রকাশিত এ তথ্য জানায়।

আইএমএফ-এর হিসাবে ২০২০ সালে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার দাড়াবে ৩.৮০ শতাংশ। এতে বাংলাদেশের মাথাপিছু আয় হবে ১ হাজার ৮৮৮ ডলার।

সেখানে ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার হবে ১০.৩ শতাংশ। এর ফলে ভারতের মাথাপিছু আয় ১,৯০০ ডলার থেকে হ্রাস পেয়ে হবে ১ হাজার ৮৭৭ ডলার।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!