1. admin@chunarughat24.com : admin :
আলোচিত বিতর্কিত ইহুদি জাতি এবং তাদের একমাত্র রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রসঙ্গে
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবীতে মানববন্ধন থেকে আল্টিমেটাম মঙ্গলে জীবনের অস্তিত্ব আছে কী? চুনারুঘাটে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবীতে খোলা চিঠি চীনের সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকাদান শুরু সাইয়েদ ইব্রাহিম রায়িসি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ১৩তম প্রেসিডেন্ট ২২ জুন থেকে খুলনায় এবং ২০ জুন থকে বগুড়ায় এক সপ্তাহের লকডাউন জীবন বিপর্যয় রোধকল্পে সামাজিক নিরাপত্তা: কল্পনা ও নির্মম বাস্তবতা এবার করোনার রহস্যময় ‘বাংলাদেশ ভ্যারিয়েন্ট’! ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে পৌনে ৪ কোটি টাকা উধাও, ২ কর্মকর্তা গ্রেফতার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা

আলোচিত বিতর্কিত ইহুদি জাতি এবং তাদের একমাত্র রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রসঙ্গে

রাহাত খান
  • সময় : শনিবার, ১৫ মে, ২০২১
  • ১৯০ বার পঠিত
আলোচিত বিতর্কিত ইহুদি জাতি এবং তাদের একমাত্র রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রসঙ্গে

ইসরাইলে ইহুদীর সংখ্যা ৫৪ লাখ, অবশিষ্ট প্রায় এক কোটি ইহুদী সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে আছে। এর মধ্যে আমেরিকাতে ৭০ লাখ, কানাডাতে ৪ লাখ, ব্রিটেনে ৩ লাখ ইহুদী থাকে।

ইহুদীরা মার্কিন জনসংখ্যার মাত্র ২%, আর পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার মাত্র ০.২% অর্থাৎ পৃথিবীর প্রতি ৫০০ জনে একজন ইহুদী, অর্থ্যাৎ সারা বিশ্বের ইহুদিরা জনসংখ্যার দিক দিয়ে ঢাকা শহরের কাছাকাছি।

৩০০০ বছরের ইতিহাসে ইহুদি সম্প্রদায় থেকে যুগে যুগে বেরিয়ে এসেছে অসংখ্য প্রতিভাবান ব্যক্তি।

একেশ্বরবাদী ইব্রাহিমী ধর্ম সমুহের মতে হযরত ইব্রাহিম (আঃ)পরবর্তী একমাত্র হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ব্যতীত বাকি সকল নবীই এসেছেন ইহুদি সম্প্রদায় তথা বনি ইসরায়েল থেকে এসেছেন।

জ্ঞান, শিক্ষা ও শিল্পের চর্চায় সবসময়ই তারা অগ্রগামী, ইহুদীদের ৮৫% বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া।

এই কমিউনিটির সদস্যদের হাতে মেডিসিন, ফিজিক্স, কেমিষ্ট্রি, ইকোনোমিক্স, লিটারেচার ও পিস বিভাগে এখন পর্যন্ত ২০০টিরও বেশী নোবেল পুরষ্কার এসেছে। যা মোট নোবেল বিজয়ীদের মোটামুটি ৪০% ।

আলোচিত বিতর্কিত ইহুদি জাতি এবং তাদের একমাত্র রাষ্ট্র ইসরায়েল প্রসঙ্গে

ছবিঃ ইসরায়েলের একটি শহর।

সারা বিশ্বের পুঁজিবাদী গনতন্ত্রের মুল অভিভাবক তারা। বর্তমান পৃথিবীর চলমান পুঁজির ৮৫ শতাংশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে নিয়ন্ত্রন করে ইহুদীরা।

মনুষ্যসৃষ্ট যে মতবাদটি পৃথিবীব্যাপী সবচেয়ে বেশী প্রভাব ফেলেছে সেই কমিউনিজমের স্বপ্নদ্রষ্টা সমাজ বিজ্ঞানী চিন্তাবিদ ও দার্শনিক কার্ল মার্কস।

আছেন বিশ্বের মানুষকে মুগ্ধ করে রাখা যাদু শিল্পী হুডিনি ও বর্তমানে ডেভিড কপারফিল্ড।

বিংশ আর একবিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ দুই বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনস ও স্টিফেন হকিং।

শিক্ষাবিদ ও দার্শনিক প্রফেসর নোয়াম চমস্কি, যাকে প্রদত্ত ডক্টরেটের সংখ্যা আশিটির ও বেশি।

লেখকদের মধ্যে আর্থার মিলার, ফ্রানজ কাফকা, জন ষ্টাইনব্যাক যেমন এসেছেন তেমনি এসেছেন সাইন্স ফিকশান জগতের সবচেয়ে আলোচিত লেখক আইজাক আসিমভ।

পৃথিবীর মোট তথ্য প্রবাহের ৬০% ই কোন না কোনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মিডিয়া গ্রুপের মালিক রুপার্ট মারডোক, যার অধীনে সারা বিশ্বের ১৮৫ টি পত্রপত্রিকা ও অসংখ্য টিভি চ্যানেল।

এছাড়া ফেসবুক, হোয়াটস অ্যাপ সহ সবচেয়ে বড় সোস্যাল মিডিয়া গ্রুপের মালিক ও প্রধান নির্বাহী মার্ক জোকারবার্গও এই দলের।

পুঁজিবাদী বিশ্বের বানিজ্যিক ব্যবস্থা অর্থাৎ আমেরীকা ইউরোপ তথা বিশ্বের অর্থ, অস্ত্র, খনিজ, ড্রাগস, প্রাকৃতিক সম্পদ, খাদ্য, শিল্প-উৎপাদন ও বহুজাতিক বানিজ্য ব্যবস্থার মুল নিয়ন্ত্রক ইহুদীরা।

সারাবিশ্বের মোট প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী ও গবেষনাধর্মী কর্মকান্ডের অর্ধেকের চেয়ে বেশী তাদের নিয়ন্ত্রনাধীন।

বলা হয়, “আমেরিকা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণ করে আর আমেরিকাকে নিয়ন্ত্রণ করে জুইশ কমিউনিটি”।

মোট জনসংখ্যার ২% এর কম নিয়েও ২০% বা প্রতি পাঁচ জনের একজন আমেরিকান সিনেটর-কংগ্রেসম্যান ইহুদী।

তাছাড়া আমেরিকা প্রশাসনের শুধুমাত্র রাষ্ট্রপতি পদ ব্যতিত অন্য গুরুত্বপুর্ন বা মুল পদসমুহ সবসময়ই তাদেরই দখলে থাকে।

সবচেয়ে বড় কথা আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক বা সেন্ট্রাল রিজার্ভ সিস্টেম সহ আমেরিকা ও ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ ব্যাংকগুলো, ব্রিটিশ সরকারী ট্রেজারী বন্ডের ৭৫% মালিকানা তাদের।

বিশ্বব্যাংক, আইএমএফের অর্থের মুল যোগানদাতা রথসচাইল্ড, রকফেলারসহ অন্য প্রভাবশালী বিত্তবান পরিবারসমুহ ও ইহুদি সম্প্রদায় থেকে এসেছেন।

আমেরিকার রাজনৈতিক ও আর্থসামাজিক ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ করে মূলতঃ কর্পোরেট হাউজ গুলো। তারা রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত বানাতে পারে, সরাতে পারে।

এসব কর্পোরেট হাউজগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, এদের মালিক কিংবা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কম্পানিগুলোর মূল দায়িত্বে থাকা প্রধান নির্বাহী বা চীফ এক্সজিকিউটিভ হলেন কোনো না কোনো ইহুদী।

এ কমিউনিটি বা সম্প্রদায়কে হাতে না-রাখলে ক্ষমতায় টেকা যাবে না। শুধু এ কারণে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে ক্ষমতাসীন মার্কিন রাষ্ট্রপতির প্রশাসনের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা সার্বক্ষণিকভাবে কাজ করে যেতে হয়।

ঐক্যবদ্ধ ইহুদী ক্ষমতাধর বিলিয়নেয়াররা মিলিতভাবে যে-কোনো সময়, যে-কোনো ঘটনা ঘটিয়ে দিতে পারেন। সেটা হতে পারে অর্থে, অস্ত্রে কিংবা মিডিয়ায়। তাদের এ শক্তি সামর্থের প্রমান তারা বহুবার দিয়েছে।

কিন্তু সেই ফারাও আমলের মিশর থেকে হিটলারের ইউরোপ আমল পর্যন্ত আড়াই হাজার বছরের অধিক সময় কালে ইহুদীরা তাদের অবিশ্বস্ততা আর ষড়যন্ত্র মুলক কর্মকান্ডের জন্য কোথাও স্থিত অবস্থান ধরে রাখতে পারেনি।

যাযাবরের মত একস্থান থেকে অন্যত্র ঘুরে বেরিয়েছে জীবন বাঁচানোর তাগিদে।

কিন্তু আড়াই হাজার বছর ধরে চলা যাযাবর জীবনের মাঝে ইহুদিরা তাদের ঐক্য ধরে রাখার শক্তি ও কৌশল অর্জন করেছে।

এমন অনেক ওয়েবসাইট আছে যেখানে ইহুদি পরিবার গুলোর বংশলতিকা বা ফ্যামিলি ট্রি তৈরি করতে সাহায্য করে।

কোনো মেধাবী ইহুদী ছাত্র বা ছাত্রীর পড়াশুনার জন্য চিন্তা করতে হয় না। কমিউনিটির কেউ বিপদে পড়লে তারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়।

তাদের সম্প্রদায়িক ঐক্য এত অটুট যে, কারো পক্ষে তা আন্দাজ ও করা সম্ভব নয়।

‌ঐক্য আর সম্বন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমে সংখ্যায় অত্যন্ত কম হওয়ার পরও ক্ষুরধার বুদ্ধি, কৌশল ও মেধার বিকাশ ঘটিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে নিজেদের বসিয়েছে রেখেছে।

আর এগিয়ে চলছে তাদের চুড়ান্ত লক্ষ্য “এক বিশ্ব ব্যবস্থা” র বাস্তবায়নে। এ জন্য যখন যা করা দরকার তারা করে চলছে।

বিশ্বে প্রচলিত সকল ষড়যন্ত্র তত্ত্বের নাটের গুরু হিসাবে তাদেরই নাম ভেসে উঠে। বেশীর ভাগ গোপন সংঘের সাথে জড়িয়ে যায় তাদের নাম।

ইলুমিনাতি, ফ্রি-ম্যাশন, স্কাল এন্ড বোনস, বিল্ডার্সবার্গ গ্রুপ সবকিছুর সাথেই জড়িয়ে আছে তাদের নাম।

“এঞ্জেলস এন্ড ডেমন্স” এবং “দ্যা ভিঞ্চি কোড” সিনেমার মাধ্যমে হাল আমলে পুনরায় আলোচনায় আসে এই গুপ্ত সংঘসমুহ।

তাছাড়া “দা প্রটোকলস অফ দা এল্ডারলি যায়ন” নামক পৃথিবীর ক্ষমতা দখলের কুখ্যাত দলিল ইহুদিদের নীলনকশার কথা প্রকাশ করে যা মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে ব্যাপকভাবে পঠিত এবং প্রচারিত।

প্রচুর ষড়যন্ত্র তত্ত্ব মতে, শক্তিমান সিক্রেট সোসাইটি ইলুমিনাতি মূলত এ বিশ্বের সকল প্রধান ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে। যেমনঃ ফ্রেঞ্চ বিপ্লবের সূচনা, নেপোলিয়নের ওয়াটারলু যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট কেনেডির গুপ্তহত্যা, প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে পদত্যাগ করতে বাধ্যকরণ।

কারো কারো মতে টুইন টাওয়ার হামলা, সম্প্রতি সিরিয়া যুদ্ধ প্রভৃতিও তাদের তৈরি করা।

তাছাড়া প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের ইন্ধন যোগাতে মূল ভুমিকা পালন করে ইহুদী অস্ত্র ও অর্থ লগ্নী ব্যবসায়ীরা।

হলিউডের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে ইলুমিনাতি আপনার অবচেতন মনে তাদের বিশ্বাসগুলো ঢুকিয়ে দিচ্ছে, কিংবা আপনাকে ব্রেইনওয়াশ করছে। ডিজনি কার্টুনের মাধ্যমে ইলুমিনাতি শিশুমনে ইলুমিনাতির বিশ্বাস ঢুকিয়ে দিচ্ছে।

সারা বিশ্বে বিভিন্ন গ্লোবাল অভিজাত ক্লাবের মাধ্যমে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে তাদের এজেন্সি।

তথা কথিত গ্লোবালাইজেশনের নামে সারা বিশ্বে প্রতিষ্ঠা করেছে তাদের সাম্রাজ্যবাদী প্রভাব বলয়।

এছাড়াও সারা পৃথিবী নিয়ন্ত্রণকারী বিল্ডার্সবার্গ গ্রুপ এর উপর ইলুমিনাতির নিয়ন্ত্রন প্রশ্নাতীত।

তাদের লক্ষ্য “নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডার” মতান্তরে “এক বিশ্ব ব্যবস্থা” ত্বরান্বিত করার মাধ্যমে সারা বিশ্ব থাকবে ইলুমিনাতির হাতের মুঠোয়।

১৯৯১ সালে নিউ ওয়ার্ল্ড অর্ডারের কথা প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র তার ভাষণে উল্লেখ করলে এ তত্ত্ব তুমুল আলোচনা সৃষ্টি করে।

খ্রিস্টান ও মুসলিম ষড়যন্ত্র তত্ত্বমতে, ইলুমিনাতির প্রতীক এক চোখ প্রমাণ করে যে, ইলুমিনাতি হলো সেই সংঘ যারা একচোখা দাজ্জাল (কিংবা বাইবেল মতে ৬৬৬ বা অ্যান্টিক্রাইস্ট)র আগমনের পথ সুগম করছে । যে দাজ্জাল কিনা একহাতে পৃথিবী শাসন করবে।

ইতিহাস হয়তো এভাবেই রচিত হচ্ছে। বাকিটা সময় বলে দেবে।

লেখক: ব্যাংক কর্মকর্তা।

সাবেক শিক্ষার্থী, লোক প্রশাসন বিভাগ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!