1. admin@chunarughat24.com : admin :
সিলেটের কৃতি রাজনীতিক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ
বুধবার, ২৩ জুন ২০২১, ০৩:৫৫ পূর্বাহ্ন

সিলেটের কৃতি রাজনীতিক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ

চুনারুঘাট
  • সময় : শনিবার, ২৯ মে, ২০২১
  • ৭১ বার পঠিত
সিলেটের কৃতি রাজনীতিক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ
ছবিঃ অনলাইন।

সাম্যবাদী আন্দোলনের লড়াকু জননেতা কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ। সারাজীবন মানুষের প্রকৃত মুক্তির জন্যে কাজ করেছেন। লড়াই করেছেন।

অপশক্তির সাথে আপস করেন নি। স্বাধীনতা বিরোধীদের কাছে মাথা নত করেননি। ব্যক্তিগত লাভের আশায় আদর্শচ্যুত হননি। মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ের একজন খাঁটিনেতা।

তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মৌলভীবাজার থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক মনুবার্তার সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

১৯৫৪ সালের ১১ জুলাই সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার রঘুনাথপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা সৈয়দ মনোয়ার আলী এবং মা সৈয়দা আমিরুন্নেসা খাতুন।

ছাত্রবস্থায় প্রগতিশীল ছাত্রসংগঠন ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং নেতৃত্ব দেন।

১৯৭০ সালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের সাহিত্য সম্পাদক, পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।

এছাড়া ছাত্র ইউনিয়ন মৌলভীবাজার জেলা সংসদের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং পরবর্তীতে সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালন করেন।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশমাতৃকার টানে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে মাত্র ১৬ বছর বয়সে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের যৌথ গেরিলাবাহিনীর একজন সম্মূখসমরের অকুতোভয় যোদ্ধা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

১৯৭২ সালে চা-বাগানের শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদ করতে গিয়ে কমরেড সৈয়দ আবু জাফর প্রথম কারাভোগ করেন।

এরপর ১৯৭৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে পুনরায় গ্রেপ্তার হন তিনি।

১৯৭৫ সালে ১৫ আগষ্ট বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করতে গিয়ে সৈয়দ আবু জাফর গ্রেপ্তার হয়ে বিনা বিচারে দীর্ঘ এক বছর কারাগারে আটক ছিলেন।

সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ দর্শন শাস্ত্রে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ১৯৭৯ সালে দর্শন শাস্ত্রে উচ্চতর পড়াশোনার জন্যে তিনি জার্মানিতে যান।

শিক্ষাশেষে যথারীতি জার্মানি থেকে দেশে চলে আসেন। মানবমুক্তির লড়াইয়ে তিনি নিজেকে নিবেদিত করে রাজনীতিকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেন। শোষণহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্যে নিজেকে নিয়োজিত করেন।

১৯৮৩ সালে স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। বাংলাদেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে স্বৈরচারবিরোধী গণআন্দোলন-সংগ্রামে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

ফলে স্বৈরচারী সরকারের রোষানলে পড়ে কয়েকবার গ্রেপ্তার হন। কারাবরণ করেন ও নির্যাতনের শিকার হন।

ছাত্রবস্থাতেই রাজনীতির পাশাপাশি তিনি সাংবাদিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন।

১৯৯০ সাল থেকে মৌলভীবাজারের অধুনালুপ্ত জনপ্রিয় সাপ্তাহিক মনুবার্তার সম্পাদক-প্রকাশক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

গণমানুষের মুক্তি ও চেতনাগত পরিবর্তনের জন্যে আজীবন কাজ করেছেন। অর্থাৎ রাজপথ ও আদর্শিক লেখার মাধ্যমে তিনি সমান ক্রিয়াশীল ছিলেন।

২০১২ সালের দশম কংগ্রেসে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০১৬ সালের বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি’র একাদশ কংগ্রেসে দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

২০১৭ সালে শারিরীক অসুস্থতার কারণে কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যহতি দেয়া হয়। সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে যতোদিন ছিলেন, ততোদিন যথাযথভাবেই অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১৯ সালের ২৮ মে বরেণ্য রাজনীতিক কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ পৃথিবী থেকে বিদায় নেন।

উল্লেখ্য, সিলেট বিভাগ থেকে বাংলাদেশের কমিউনিষ্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারন সম্পাদক হয়েছেন দুইজন, একজন হচ্ছেন কমরেড বারীন দত্ত এবং অন্যজন কমরেড সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ।

মুক্তি সংগ্রামী সকল মহান ব্যক্তিদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা।

[ ভি ডি নিউটনের ফেসবুক ওয়াল থেকে নেওয়া]

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!