1. admin@chunarughat24.com : admin :
কীটনাশক পরিচিতি: সাইপারমেথ্রিন গ্রুপ
শনিবার, ১৯ জুন ২০২১, ০৯:০২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবীতে মানববন্ধন থেকে আল্টিমেটাম মঙ্গলে জীবনের অস্তিত্ব আছে কী? চুনারুঘাটে অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার দাবীতে খোলা চিঠি চীনের সিনোফার্মের টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে দ্বিতীয় পর্যায়ের টিকাদান শুরু সাইয়েদ ইব্রাহিম রায়িসি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের ১৩তম প্রেসিডেন্ট ২২ জুন থেকে খুলনায় এবং ২০ জুন থকে বগুড়ায় এক সপ্তাহের লকডাউন জীবন বিপর্যয় রোধকল্পে সামাজিক নিরাপত্তা: কল্পনা ও নির্মম বাস্তবতা এবার করোনার রহস্যময় ‘বাংলাদেশ ভ্যারিয়েন্ট’! ঢাকা ব্যাংকের ভল্ট থেকে পৌনে ৪ কোটি টাকা উধাও, ২ কর্মকর্তা গ্রেফতার গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের বিমান হামলা

কীটনাশক পরিচিতি: সাইপারমেথ্রিন গ্রুপ

মোজাদ্দিদ আহাম্মদ
  • সময় : সোমবার, ৩১ মে, ২০২১
  • ৬৫ বার পঠিত
কীটনাশক পরিচিতি: সাইপারমেথ্রিন গ্রুপ
ছবিঃ সংগ্রহ।

সাইপারমেথ্রিন (Cypermethrin) গ্রুপ হলো সিনথেটিক পাইরিথয়েড গ্রুপের কীটনাশক যা কৃষিক্ষেত্রে ও বাসাবাড়িতে পোকামাকড় দমনসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয় ।

সাইপারমেথ্রিন কী ?
সাইপারমেথ্রিন একটি স্পর্শক (Contact) ও পাকস্থলি ক্রিয়া সম্পন্ন কীটনাশক।

এটি এক প্রকার নিউরোটকসিন জাতীয় পদার্থ, যা রোদে, পানিতে, অক্সিজেনের উপস্থিতিতে সহজেই বিভাজিত হয়ে যায় ।

প্রাকৃতিক উৎস-

পাইরেথ্রইয়েড মূলত সুর্যমুখী ও ডালিয়া জাতীয় ফুলের বীজ ও পাপড়িতে, চন্দ্রমল্লিকা ফুলে পাওয়া যায় ।

কীভাবে কাজ করে-

সাইপারমেথ্রিন পোকামাকড়ে নিউরোটকসিন হিসেবে তাড়াতাড়ি কাজ করে। যখন কোন পোকামাকড় সাইপারমেথ্রিনের সংস্পর্শে আসে অথবা ভক্ষণ করে তখন এটি বিষক্রিয়া ঘটায়।

বিষটি পোকামাকড়ের স্নায়ু কোষে প্রবেশ করে, এতে প্যারালাইসিস হয়ে যায়। বিষমিশ্রিত খাদ্য গ্রহণে পাকস্থলিতে বিষক্রিয়া ঘটায়।

ব্যবহার-

শাকসবজি ও ফলমূলে পোকামাকড় দমনে এটি ব্যবহার করা হয়। প্রায় ৯০% সাইপারমেথ্রিন তুলা শস্যের জাব পোকা, জেসিডসহ পোকামাকড় দমনে ব্যবহৃত হয়।

এছাড়া আমের হপার, চা বাগানে মশা দমনে কার্যকর। উকুন, মাছি, মাকড়সা, বিভিন্ন মাইট দমনেও কাজ করে।

বাসাবাড়িতে পিঁপড়া, তেলাপোকা, মশা, মাছি, ইঁদুরসহ আরো অনেক ধরনের বিষাক্ত কীটপতঙ্গ দমনে ব্যবহার করা যায়।

প্রয়োগ মাত্রা-

প্যাকেট/বোতলের নির্দেশনা অনুসরণ করে প্রয়োগ করতে হবে। সাধারণত ১০ ই সি হলে ১ লিটার পানিতে ১ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হয়।

সাইপারমেথিন নির্ধারিত পরিমাণে মিশিয়ে ভালভাবে ঝাঁকিয়ে নিতে হয় এবং এরপর স্প্রে করতে হয়।

সাইপারমেথ্রিনের স্থায়িত্ব-

পরিমাণ অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। শাকসবজিতে ৭/১০ দিন পর্যন্ত থাকতে পারে। তাই প্রয়োগের ৭ দিন আগে ফসল তোলা যাবে না।

কোনো কোনো ফসলে এর থেকে বেশি সময় বিষক্রিয়া থাকতে পারে। এক্ষেত্রে প্যাকেটে সময়সীমা উল্লেখ দেখে নিতে হবে।

এটি মাটিতে ১ মাসের অধিক সময় কার্যকর থাকতে পারে।

বাজারে যে নামে পাওয়া যায়-

রিলোথ্রিন১০ ইসি ( অটো ক্রপ কেয়ার), রিপকর্ড ১০ ইসি (বিএসএফ কোম্পানি), কট ১০ ইসি (এসিআই), শেফা ১০ ইসি (ইনতেফা), সুরক্ষা ১০ ইসি (হেকেম), ম্যাজিক ১০ ইসি (বেক্সিমকো) ইত্যাদি।

বর্তমানে কার্যকারিতা বাড়াতে নতুন জাতক/ উপাদান যোগ করে বাজারজাত করা হচ্ছে। যেমন- আলফা সাইপারমেথ্রিন, বিটা, সাইপারমেথ্রিন, ক্লোরোপাইরিফস + সাইপারমেথ্রিন, প্রফেনফস+ সাইপারমেথ্রিন, কুইনালফস+সাইপারমেথ্রিন ইত্যাদি।

পরবর্তী পর্বে এগুলো নিয়ে জানাব।

ক্ষতিকর দিক-

১.সাইপারমেথ্রিন মাছ, মৌমাছি ও উপকারী পোকা, জলজ কীটপতঙ্গ এর জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।

২. মানুষদের জন্য কম ক্ষতিকর হলেও অধিক মাত্রা হলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৩. অতিরিক্ত মাত্রা মাটির জন্য ক্ষতিকর ।

সতর্কতা-

১.প্রয়োগের সময় হাতে গ্লাভস ও মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। অবশ্যই ফুলহাতা শার্ট পরিধান করে নিতে হবে।

২.শিশু ও গৃহপালিত পশু পাখিদের সরিয়ে রাখতে হবে ব্যবহারের সময়।

৩. নির্দিষ্ট সময়ের আগে ফসল তোলা যাবে না।

[সূত্র- উইকিপিডিয়া, কর্নেলএডো ও গুগল।]

লেখক: কৃষিবিদ মোজাদ্দিদ আহাম্মদ

Facebook Comments
এ জাতীয় আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

স্বত্ব সংরক্ষিত © 2020-2021 চুনারুঘাট
কারিগরি Chunarughat
Don`t copy text!